কুয়েত বাংলাদেশ মৈত্রী হাসপাতালে পূর্ণ পিপিই না পাওয়ার অভিযোগ নার্সদের

রাজধানীর কুয়েত বাংলাদেশ মৈত্রী হাসপাতালে প্রথম দেশের করোনা ভাইরাস আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা সেবা দেওয়া শুরু হয়। এখনো সেখানেই সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত ব্যক্তিকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

বিবিসি বাংলার এক প্রতিবেদনে জানা যায়, হাসপাতালটিতে পরিপূর্ণ সুরক্ষা সরঞ্জাম পাচ্ছেন না কর্মরত নার্সরা।

পরিচয় গোপন রেখে একজন নার্স বলেন, যে সুরক্ষা পোশাকটি খুব দরকারি সেই পিপিই তাদের পুরোটা দেওয়া হচ্ছে না। শুধু গাউন দেওয়া হচ্ছে এবং খুব দরকারি এন-৯৫ মাস্কও দেওয়া হচ্ছে না।

তারা একটা রোটেশন ঠিক করে নেন রোগীর ক্লোজ কন্টাক্টে কোনদিন কে যাবেন। সে হিসেবে একদিন তিনজন পিপিই পরবে ও রোগীদের কাছে যাবে। আর অন্যরা নার্সিং স্টেশনে ডিউটি করবে। তারা আবার অন্যদিন পিপিই পরবে। কিন্তু যথেষ্ট সুরক্ষা সামগ্রী না পাওয়ায় প্রতিনিয়ত আশঙ্কার মধ্যে থাকতে হয় তাদের।

ওই নার্স বলেন, “রোগী হাসপাতালে আসলে রিসিভ করা থেকে শুরু করে ঔষধ দেওয়া, স্যালাইন দেওয়া, এমনকি আমাদের হাসপাতালে ইসিজি টেকনিশিয়ান না থাকায় আমরা রোগীর ইসিজিও করি। ইনজেকশন দিতে হয়।”

আরও বলেন, “চিকিৎসকদের কাছেই বেশিরভাগ এন-৯৫ মাস্ক, পিপিই ও শু কভার। চিকিৎসকেরা অনেকসময় রোগীদের স্পর্শ করেন না। কিন্তু সুরক্ষা সামগ্রীর বড্ড অভাব রয়েছে সেবিকাদের জন্য।”

রোগী যখন আসেন তখন চিকিৎসকরা দূর থেকে রোগীর ইতিহাস নেন। কিন্তু তাদের প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী সব ঔষধ, ইনজেকশন নিয়ে নার্সদেরই রোগীদের কাছে যেতে হয়। পরে ডাক্তাররা যখন নিয়মিত রাউন্ডে যান, তারা বেশিরভাগ সময় রোগীর গায়ে হাতও দেন না। কিন্তু রোগীদের সংস্পর্শে যাওয়া ছাড়া নার্সদের সেবা দেওয়ার কোন উপায় নেই। ডেথ ক্লিয়ারেন্স দিতে হলে চিকিৎসকদের যেতে হয় ঠিকই কিন্তু রোগী মারা গেলেও নার্সদের পাঠানো হয়।

ওই নার্স বলেন, “আমাদের প্রথম কিছুদিন ফুল পিপিই দেওয়া হতো। তবে সপ্তাহখানেক হল শুধু পিপিই গাউনটা দেওয়া হচ্ছে। এন-৯৫ যে মাস্ক সেটি আমরা আর পাচ্ছি না। আমরা নরমাল মাস্ক পরে রোগীদের কাছে যাচ্ছি। গগলস প্রথম দিকে পেয়েছি এখন আর সেটা দেওয়া হচ্ছে না। সাধারণ চশমা ও সাধারণ মাস্ক দেওয়া হচ্ছে। শু কাভার দেওয়া হচ্ছে না। আমরা পায়ে বাইরের পলিথিন পেঁচিয়ে কাজ করছি।”

এন-৯৫ মাস্কের সরবরাহ না থাকায় তাদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে একের অধিক মাস্ক পরে রোগীর কাছে যেতে। নিরাপত্তাহীনতার কারণে অনেকে ব্যক্তিগতভাবে অনলাইন শপে এন-৯৫ কেনার চেষ্টা করেন।

এই হাসপাতালে নার্সদের টানা সাতদিন ১২ ঘণ্টা করে কাজ করতে হয় এবং এরপর ১৪ দিন তারা একটি হোটেলে কোয়ারেন্টিনে থাকেন।

যে হোটেলে রাখা হয়েছে সেখানকার রাঁধুনি পালিয়ে যাওয়ার পর তাদের বিপাকে পড়তে হয়েছিল। এ ছাড়া তাদেরকে যথেষ্ট স্বাস্থ্যকর খাবার দেওয়া হচ্ছে না বলেও অভিযোগ উঠেছে।

বাংলাদেশ নার্সেস অ্যাসোসিয়েশন থেকে জানানো হয়েছে সরকারি হাসপাতালে ইতিমধ্যেই ১১ জন নার্স করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। আর বেসরকারি হাসপাতালে ১৩ জন সেবিকা আক্রান্ত হয়েছেন বলে তারা জানতে পেরেছেন।

এ দিকে কুয়েত বাংলাদেশ মৈত্রী সরকারি হাসপাতালের একজন চিকিৎসকসহ দুজন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে বুধবার।

হাসপাতালটির এক চিকিৎসক গণমাধ্যমকে খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, গত কয়েক দিন থেকেই দুজনের কোভিড-১৯ এর উপসর্গ দেখা যাচ্ছিল। সোমবার তাদের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়। বুধবার টেস্ট রিপোর্টে তাদের করোনাভাইরাস পজিটিভ এসেছে।

আক্রান্ত চিকিৎসক হাসপাতালে বিকল্প চিকিৎসায় যুক্ত এবং অন্যজন অফিস সহকারী।