‘কুরবানীর পশুর চামড়ার মূল্য সর্বনিম্ন ২০০০ টাকা নির্ধারণ করার দাবি’

কুরবানীর পশুর প্রতি চামড়ার মূল্য সর্বনিম্ন ২ হাজার টাকা নির্ধারণ করার দাবি জানিয়েছে ইত্তেফাকুল মুসলিমীন বাংলাদেশ।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) চামড়ার ন্যায্য মূল্যের দাবীতে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে ইত্তেফাকুল মুসলিমীনের উদ্যোগে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে সংগঠনটির চেয়ারম্যান আল্লামা আতাউল্লাহ হাফেজ্জী এ দাবি জানান।

লিখিত বক্তব্যে আল্লামা আতাউল্লাহ হাফেজ্জী বলেন, বিভিন্ন দেশে চামড়ার মূল্য আগেরমতো ঠিক থাকলেও বিগত কয়েক বছর যাবত বাংলাদেশে চামড়া ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেটের মাধ্যমে চামড়ার দাম কমিয়ে চামড়াশিল্পকে ধ্বংসের দারপ্রান্তে পৌঁছে দিয়েছে। অথচ চামড়ার তৈরিকৃত সকল জিনিসপত্রের দাম জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারে দিনদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। ২০০০/৩০০০ টাকার চামড়া গত কুরবানীতে ২০০/৩০০ টাকা দামে বিক্রি করতে হয়েছে। যার কারণে গত কুরবানীতে অনেকেই চামড়া বিক্রি না করে ফেলে দেওয়া এবং মাটির নিচে পুতে রাখার দৃশ্য জাতীয় গণমাধ্যমে প্রচারিত হয়েছে।

আল্লামা আতাউল্লাহ হাফেজ্জী আরও বলেন, কুরবানীর পশুর চামড়া এতিম ও গরিবেরহক। চামড়ার দাম কমানোর মাধ্যমে এতিম-গরিবের অধিকার নষ্ট করা হচ্ছে। দেশের কওমী মাদরাসা ও এতিমখানাগুলো জনগণের দানে পরিচালিত। কুরবানীর পশুর চামড়া মাদরাসার আয়ের বড় উৎস। এটার মাধ্যমে অসহায় গরীব শিক্ষার্থীদের থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। মাদরাসার ছাত্র-শিক্ষকগণ ঈদের আনন্দ ত্যাগ করে বাড়ি-বাড়ি গিয়ে চামড়া সংগ্রহ করে মাদরাসার লিল্লাহ-বোর্ডিং সচল রেখেছেন। চামড়া ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেটের মাধ্যমে চামড়ার মূল্য কমিয়ে গরিবের হক্ব নষ্ট করছে, তাদের বিরুদ্ধে সরকারকে কঠোর হতে হবে।

তিনি এবারের কুরবানীর চামড়ার মূল্য নূন্যতম ২ হাজার টাকা নির্ধারণ করে দেওয়ার জন্য সরকারের কাছে দাবি জানান।

উক্ত লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনের মহাসচিব মুফতি আব্দুল্লাহ ইয়াহইয়া। সম্মেলনে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, সংগঠনটির ভাইস চেয়ারম্যান মাওলানা মুজীবুর রহমান হামিদী,মাওলানা খোরশেদ আলম কাসেমী, যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা এনামুল হক মূসা, মুফতি সুলতান মহিউদ্দীন, মাওলানা ইমরান বারী সিরাজী, সাংগঠনিক সম্পাদক মুফতি আ ফ ম আকরাম হুসাইন, মাওলানা আজিজুর রহমান হেলাল, প্রচার সম্পাদক মুফতি আব্দুল্লাহ ইদরীস প্রমুখ।

সংবাদ সম্মেলনে কুরবানীর পশুর চামড়ার ন্যায্য মূল্য নির্ধারণ না হলে ইত্তেফাকুল মুসলিমীন বাংলাদেশ বিশিষ্ট আলেম-উলামা, দ্বীনদার বুদ্ধিজীবিদের সঙ্গে মতবিনিময়, মানববন্ধন ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বরাবরে স্মারকলিপির কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।

দেশের জনগণের স্বার্থে অবিলম্বে সকল কওমী মাদরাসা খুলে দেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহবান জানান আল্লামা আতাউল্লাহ হাফেজ্জী।

About |

Check Also

বাংলাদেশের পারমাণবিক চুল্লির জন্য আরো সরঞ্জাম পাঠিয়েছে রাশিয়া

রাশিয়ার এইএম-টেকনলজিসের পেত্রোজাভোদস্কমাস শাখা বাংলাদেশের রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ইউনিট-১ এর জন্য প্রধান সার্কুলেশন পাম্পের …