মাওলানা মাহমুদ হাসান সিরাজী | প্রিন্সিপাল : মাদরাসা উসমান ইবনে আফফান রা.


সারা দিন অনলাইনে আসার সুযোগ হয়নি। রাত ১১ টার পর যখন অনলাইনে আসার সুযোগ হল তখন দেখলাম ৫০ বছরের পুরনো মিনার মসজিদের এতিম খানার ছাত্রদের রান্না ঘর গুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

এক ছাত্রের কান্না দেখে মনটা অনেক খারাপ হয়ে গেল। ওকে ক্যামেরাম্যান সামনে নিয়ে এসেছে। নতুবা প্রতিটি ছাত্রই ওর মত কান্না করে যাচ্ছে। ওদের দুপুরের খাবার নেই। ওরা সামনে অন্ধকার দেখছে।

সিটি কর্পোরেশন সস্তা অশ্লীল বিনোদনের জন্য ঐ জায়গাটা খালী করতে হল। সিটি কর্পোরেশনের নিকট আমরা জানতে চাই মানুষের মৌলিক অধিকারে বিনোদনের অবস্থান কি? আর খাবারের অবস্থান কি?

আরেকটি প্রশ্ন হল, সিটি কর্পোরেশন এ শহরের কতজন ক্ষুদার্তকে দৈনন্দিন খাবার খাওয়ায়?

আমরা সিটি কর্পোরেশনের নিকট আরো জানতে চাই যাদের খাবারের ঘর ভাঙ্গা হল তারা এ শহরের নাগরিকের আওতাভুক্ত কি না?

যে শহরে একটা বিড়ালের জন্য ফায়ার সার্ভিস হুমড়ি খেয়ে পরে যায় ঐ শহরে এই এতিম অসহায় ছাত্ররা কি সিটি কর্পোরেশনের নিকট একটা বিড়ালের অধিকারও পেতে পারে না?

এখানে আসল খেলোয়াড়কে আমরা জানতে চাচ্ছি। সৌন্দর্য বর্ধনের দোহাই দিয়ে হাতিরঝিল মসজিদ ভাঙ্গা হল।অথচ ঐ খানে কতৃপক্ষ চাইলে দৃষ্টি নন্দন একটা মসজিদ নির্মান করতে পারত। মসজিদের কারণে এর আশ পাশে কিছুটা হলেও গোনাহ পাপাচার কম হত। কিন্তু গোনাহের চারণভূমিটাকে প্রশস্ত করে দেওয়া হল।
হাতিরঝিল কতৃপক্ষ কি জানে রাতের আধারে সেখানে আসলে কি হয়?

হাতিরঝিল এলাকায় এ পর্যন্ত কতটা মার্ডার হয়েছে এ হিসাব কি কতৃপক্ষের নিকট আছে?

এ দেশের এতিমখানাগুলো বন্ধ করে দেওয়ার জন্য গত কয়েক বছর ধরে কৌশলে চামড়া বাজার ধ্বংস করে দেওয়া হল। জনগনকে ৬-৯ করে ১৮ বুঝ দেওয়ার কসরত করা হলেও জনগন একেবারে বুকা নয়।জনগণ এখন চামড়া খাওয়ায় অভ্যস্ত হচ্ছে। একটা সময় ভুড়িকেও ঘৃনিত মনে করা হত।অথচ আজ ভুড়ি দিয়ে গৃহিনী নামক রাজকন্যাকেও খুশী করানো যায়। চামড়াও একদিন এমন হবে।ইনশাআল্লাহ। এ চামড়া ছাড়াও তাহাজ্জুদ গোজার বান্দাদেরকে তিনি রিজিক দিয়ে ইজ্জতের যিন্দেগী দান করবেন।

আজ দেখলাম মিনার মসজিদের রান্না ঘরটিও গুড়িয়ে দেওয়া হল। আগামীতে দেখব কোনো হিফজ খানাকেও এভাবে বুলডোজার দিয়ে গুড়িয়ে দেওয়া হবে। কারণ হিফজ খানাগুলো পরিবেশের বিঘ্নতা সৃষ্টি করে। ওরা শেষ রাতে উঠে কোরআন তেলাওয়াত করলে আশপাশের মানুষ ঘুমাতে পারে না। এমন হাজার অভিযোগ সামনে নিয়ে আসা হবে। আট সাপোর্ট দেওয়ার জন্য একশ্রেণির মিডিয়া তো আছেই।

মিডিয়া এখন অনেক শক্তিশালী। ইমাম মাহদি আগমন করলে মিডিয়া যদি তাকে সন্ত্রাসী বলে আখ্যায়িত করে তাহলে অধিকাংশ মানুষ তাই মনে করে তাকে সন্ত্রাসী বলবে। তার আশপাশেও কাউকে ভিরতে দেওয়া হবে না।

তবে যাদের আঙ্গুলের ইশারায় আজকের এ নারকীয় কান্ড ঘটল তাদের কয়জন শেষ রাতে উঠে দেশের জন্য, দেশের নাগরিকদের জন্য দু ফুটা চোখের পানি ফেলতে পারবে?

অথচ যাদের রান্নাঘর ভাঙ্গা হল তারা তো নিয়মিতই শেষ রাতে উঠে দু ফুটা চোখের পানি ফেলে দেশ ও দশের জন্য দোয়া করে থাকে। আজকের মাজলুমদের চোখের পানি বহন করার মত ভান্ড কি জালেমদের নিকট রয়েছে? তারা কি পারবে তাদের এ ক্ষনস্থায়ী পাওয়ার দিয়ে আখেরাতের স্থায়ী পাওয়ারের মোকাবিলা করতে?

হে আল্লাহ! আমরা দেশের তরে দশের তরে নিজেদেরকে বিলিয়ে দিয়ে কিছু করতে চাই। তুমি আমাদেরকে কবুল কর। আজকের এ অসহায় শিশুদের উত্তম রিজিকের ব্যবস্থা করে দাও।