ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম | নিজস্ব প্রতিনিধি


বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দীর্ঘদিন কারাবন্দি থেকে অসুস্থ হয়ে পড়া বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে আন্দোলনের মাধ্যমে মুক্ত করতে না পারা দুর্ভাগ্যজনক।

আজ শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের নিচতলায় খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনায় মিলাদ ও দোয়া মাহফিলে তিনি এ কথা বলেন।

১৫ আগস্ট বিএনপি চেয়ারপারসনের ৭৫তম জন্মদিনের একদিন পর এ উপলক্ষে এবং তার রোগমুক্তি ও দীর্ঘায়ু কামনায় এ দোয়া মাহফিলের আয়োজন করে কেন্দ্রীয় বিএনপি। সারা দেশেও খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনায় আজ দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

মির্জা ফখরুল বলেন, খালেদা জিয়ার মামলার বিষয়ে আইন আদালতের ভূমিকা কী, সেটি আর আমাদের বুঝতে বাকি নেই। আমাদের দুর্ভাগ্য, আমরা এমন কিছু করতে পারছি না যে, নেত্রীকে আন্দোলনের মধ্য দিয়ে মুক্ত করতে পারব।

এসময় দলীয় নেতাকর্মীদের আন্দোলনের প্রস্তুতি নেয়ার আহ্বান জানান বিএনপির মহাসচিব।

তিনি বলেন, আমাদের সুসংগঠিত হয়ে আন্দোলনের মাধ্যমে দেশনেত্রীকে মুক্ত করতে হবে। এর কোনো বিকল্প নেই। আসুন এই দিনে তার দীর্ঘায়ু কামনা করে তার মুক্তির জন্য নিজেদের সংগঠিত করি ও আন্দোলন বেগবান করি। তার জন্মদিনে এটিই হোক আমাদের শপথ।

গণতান্ত্রিক সব প্রতিষ্ঠানকে সরকার ধ্বংস করে দিয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করা হয়েছে বিচার বিভাগের। আজকে বিচার বিভাগের কোনো স্বাধীনতা নেই। এই অনির্বাচিত-জনবিচ্ছিন্ন সরকার বিচার বিভাগকে ব্যবহার করে এ দেশের রাজনৈতিক কর্মীদের ওপর নিপীড়ন-নির্যাতন চালাচ্ছে। একইভাবে দেশনেত্রীকেও কারাগারে রেখেছে।

কোরবানির পশুর চামড়ার দাম নিয়ে কারসাজির বিষয়ে তিনি বলেন, সরকার পরিকল্পিতভাবে চামড়াশিল্পকে ধ্বংস করেছে। একসময় পাটশিল্পকে ধ্বংস করা হয়েছিল আর আজকে চামড়াশিল্পকে ধ্বংস করা হয়েছে। বাংলাদেশকে পরনির্ভরশীল করার জন্যই এ ষড়যন্ত্র করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, নজরুল ইসলাম খান, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, সেলিমা রহমান, ভাইস চেয়ারম্যান ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, শওকত মাহমুদ, নিতাই রায় চৌধুরী, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জয়নুল আবদিন ফারুক, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, হাবিব-উন নবী খান সোহেল, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, সহসাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম আজাদ, যুবদলের সভাপতি সাইফুল আলম নীরব, শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেইন, মহিলা দলের সাবেক সভাপতি নুরী আরা সাফা, সাবেক সাধারণ সম্পাদক শিরিন সুলতানা, তাঁতী দলের সভাপতি আবুল কালাম আজাদ, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদির ভূঁইয়া জুয়েল, যুবদল উত্তরের সভাপতি এসএম জাহাঙ্গীর, ছাত্রদলের সাবেক দফতর সম্পাদক আব্দুস সাত্তার পাটোয়ারী প্রমুখ। দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন ওলামা দলের নেতা মাওলানা রফিকুল ইসলাম।

প্রসঙ্গত দুর্নীতির দুই মামলায় ১৭ বছর দণ্ডিত হয়ে গত বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে কারান্তরীণ রয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। অসুস্থতার কারণে গত ১ এপ্রিল তাকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এই হাসপাতালের ৬২১ নম্বর কেবিনে চিকিৎসাধীন তিনি।