খালেদা জিয়া জামিন পাওয়ার যোগ্য : কামাল

ডিসেম্বর ৩, ২০১৯ | নিজস্ব প্রতিনিধি

কারাবন্দী সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জামিন বিষয়ে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক ড. কামাল হোসেন বলেছেন, তিনি জামিন পাওয়ার যোগ্য।

মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর মতিঝিলে নিজ চেম্বারে ঐক্যফ্রন্টের বৈঠকে ড. কামাল এ কথা বলেন।

খালেদা জিয়ার বিষয়ে ঐক্যফ্রন্টের অবস্থান জানানোর জন্যই বেশ কিছুদিন পরে এ বৈঠক ডাকা হয়েছে।

সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে খালেদা জিয়ার যে মামলার শুনানি চলছে, সেই মামলায় তাঁর জামিন পাওয়ার সুযোগ আছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে ড. কামাল হোসেন বলেন, ‘সুযোগ অবশ্যই আছে।’ জামিন বিষয়ে আরেক প্রশ্নের জবাবে ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক বলেন, ‘মানবিক কারণে খালেদা জিয়া জামিন পাওয়ার যোগ্য।’

বৈঠক শেষে ঐক্যফ্রন্টের অন্যতম শীর্ষ নেতা ও নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না এক লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন। সেখানে খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।

এছাড়া বলা হয়, ঐক্যফ্রন্ট মনে করে, খালেদা জিয়াকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কারাগারে আটকে রাখা হয়েছে। যে মামলায় তাঁকে সাজা দেওয়া হয়েছে, তাতে তাঁর সর্বশেষ শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় ঐক্যফ্রন্ট খালেদার দ্রুত মুক্তি দাবি করেছে। এ দাবিকে মানবিক জানিয়ে ঐক্যফ্রন্ট জানায়, খালেদা জিয়া জামিন পাওয়ার অধিকার রাখেন। অন্যথায় তাঁর দায়দায়িত্ব সম্পূর্ণভাবে সরকারের ওপর বর্তাবে।

ঐক্যফ্রন্ট সর্বশেষ গত ২০ অক্টোবর বৈঠক করেছিল। সেখানে জানানো হয়েছিল, কামাল হোসেনের নেতৃত্বে নেতারা খালেদা জিয়াকে দেখতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) যাবেন। পরদিন ২১ অক্টোবর ঐক্যফ্রন্ট নেতারা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের সঙ্গে বৈঠক করেন। এরপর তাঁরা সাক্ষাৎ প্রার্থীর তালিকাও আইজি প্রিজন বরাবর দেন।

এবিষয়ে ঐক্যফ্রন্ট নেতা ও জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) সভাপতি আ স ম আবদুর রব বলেন, তাঁরা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেছিলেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আইজি প্রিজনকে বলে দেওয়ার কথাও বলেছেন। ঐক্যফ্রন্ট নামের তালিকাও পাঠিয়েছে। কিন্তু এখনো খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না।

ড. কামাল হোসেনের সভাপতিত্বে বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আব্দুল মঈন খান, গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি অধ্যাপক আবু সাইয়িদ, সুব্রত চৌধুরী, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী প্রমুখ।