ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম | নিজস্ব প্রতিনিধি


খুলনা জিআরপি থানায় সংঘবদ্ধ ধর্ষণ অভিযোগে মামলা করার ১০ দিন পার হলেও এখনো পর্যন্ত কোনও আসামিকে গ্রেফতার করা হয়নি। তদন্তকারী কর্মকর্তা জানান, তদন্ত কার্যক্রম চলছে। ওসি উছমান গণি ও এসআই নাজমুলকে ক্লোজড করা হয়েছে। কিন্তু এখনও কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি।

ভিকটিমের বোন হোসনে আরা বলেন, আদালতের নির্দেশে মামলা হলেও আসামিদের এখনও গ্রেফতার হচ্ছে না। আসামিরা সবাই পুলিশ। তাদের তো পালিয়ে থাকার কোনও কথা নয়। কিন্তু তাদের কেন গ্রেফতার করা হচ্ছে না। আর পুলিশের ফাঁসানো মামলায় আমার বোন এখনও কারাগারে। তার জামিন পর্যন্ত হচ্ছে না। আর অপরাধ করেও পুলিশ সদস্যরা বাইরের হাওয়া খাচ্ছেন।’

তদন্তকারী কর্মকর্তা কুষ্টিয়া রেলওয়ে সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার ফিরোজ আহমেদ বলেন, তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে এ মামলায় সন্তোষজনক ফলাফল দেওয়া সম্ভব হবে।

তিনি বলেন,ওসি উছমান গণি ও এসআই নাজমুলকে ক্লোজড করে পাকশিতে নেওয়া হয়েছে। কিন্তু এ মামলার আসামি ৫ পুলিশের কাউকেই এখনও পর্যন্ত গ্রেফতার করা হয়নি।

ধর্ষণের অভিযোগ করা ওই গৃহবধূকে আইনি সহায়তাদানকারী বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থার সমন্বয়কারী মোমিনুল ইসলাম বলেন, মামলা নথিভুক্ত হওয়ার পর তদন্ত কার্যক্রমের পাশাপাশি আসামিদের গ্রেফতার করারও বিধান রয়েছে। কিন্তু মামলা নথিভুক্তির পর ১০ দিন পার হয়েছে, এখনও আসামিদের গ্রেফতার না করা দুঃখজনক।

প্রসঙ্গত, ২ আগস্ট যশোর থেকে ট্রেনে খুলনায় আসার পথে ফুলতলা রেলস্টেশনে কর্তব্যরত জিআরপি পুলিশের সদস্যরা ওই গৃহধূকে মোবাইল চুরির অভিযোগে ফুলতলা রেলওয়ে স্টেশন থেকে আটক করে। পরে রাতে তাকে খুলনা জিআরপি থানা হাজতে রাখা হয়। ৩ আগস্ট তার কাছ থেকে ৫ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার দেখিয়ে তার নামে একটি মামলা দিয়ে খুলনার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলি আদালত ফুলতলার মাধ্যমে কারাগারে পাঠায়। ৪ আগস্ট আদালতে জামিন শুনানির জন্য হাজির করা হলে ওই নারী জিআরপি থানায় সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হওয়ার বিষয়টি আদালতের সামনে তুলে ধরেন। এরপর আদালতের নির্দেশে ৫ আগস্ট খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে তার ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়।