ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম | নিজস্ব প্রতিনিধি


চামড়ার দাম কমানোর নেপথ্যে থাকা নায়কদের খুঁজে বের করার জন্য একটি শক্তিশালী টাস্কফোর্স গঠনের দাবিক করেছেন কাঁচা চামড়া আড়তদারদের সংগঠন বাংলাদেশ হাইড অ্যান্ড স্কিন মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি দেলোয়ার হোসেন। তবে তিনি কাঁচা চামড়ার দাম কমানোর নেপথ্যে আড়তদারদেরকেই দায়ী করেছেন।

তিনি বলেন, সরিষার মধ্যে ভূত কোথা থেকে এলো? আমাদের পাওনা টাকা তারা কেন আটকে রাখছে এটাও বের হওয়া উচিত। ট্যানারি মালিকরা যেহেতু টাকা দেয়নি সেহেতু কাঁচা চামড়ার দাম কমার দায়ভারও তাদেরকেই নিতে হবে। এছাড়া কাঁচা চামড়া রফতানির সুযোগ হলে ট্যানারি মালিকদের দিকে চেয়ে থাকতে হবে না। টাকার সমস্যাও থাকবে না। আর গরিবের হকও নষ্ট হবে না বলে মনে করেন তিনি।

বুধবার (১৪ আগস্ট) তিনি বলেন, কারা সিন্ডিকেট করে চামড়ার দাম কমালো, কাঁচা চামড়ার দাম কেন কমলো, কেন আমরা চামড়া কিনতে পারলাম না, তা খুঁজে বের করতে হবে।

কাঁচা চামড়া আড়তদারদের সংগঠনের চেয়ারম্যান শাহীন আহমেদও সংবাদ সম্মেলন করে  চামড়ার দাম না পাওয়া ও বর্তমান পরিস্থিতির জন্য আড়তদাদেরই দায়ী করেছেন।

তিনি বলেন, বকেয়া টাকা আদায় হয়নি এমন দোহাই দিয়ে কোরবানির কাঁচা চামড়ার দাম কমিয়ে ফায়দা লুটেছেন অসাধু আড়তদাররা। আড়তদাররাই সিন্ডিকেট করে মৌসুমি চামড়া ব্যবসায়ীদের ঠকাচ্ছে। তারা পানির দামে চামড়া কিনেছে কিন্তু আমাদের কাছে যখন বিক্রি করবে তখন সরকার নির্ধারিত দামই নেবে।
এদিকে আড়তদারদের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, ট্যানারি মালিকদের কাছ থেকে বকেয়া টাকা না পাওয়ায় অনেকেই চামড়া কিনতে পারেননি। ফলে বাজারে চামড়ার দাম পড়ে গেছে।

এদিকে বুধবার বিকেলে ট্যানারি মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশন নেতাদের ডেকে পাঠানো হয় বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে। সেখানে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে চলমান পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশন অবিলম্বে কাঁচা চামড়া ক্রয় শুরু করারও সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

এর আগে গত মঙ্গলবার দেশে প্রথমবারের মতো কাঁচা চামড়া রফতানির অনুমতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। মানুষ যেন কাঁচা চামড়ায় ন্যায্য দাম পায় তা নিশ্চিত করতেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। তবে ট্যানারি মালিকরা সরকারের এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন।