চামড়ার ন্যায্য মূল্য নির্ধারণে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা জাতীয় ওলামা পরিষদের

দেশের অর্থনীতি এবং এতিম-গরীবের হক রক্ষায় কুরবানীর পশুর চামড়ার ন্যায্যমূল্য নির্ধারণের দাবি জানিয়ে এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন জাতীয় ওলামা পরিষদের ব্যানারে দেশের শীর্ষস্থানীয় আলেমগণ।

বুধবার (১৫ জুলাই) জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি জানানো হয়।

এতে বারিধারা মাদরাসার মুহতামিম আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমী বলেন, এই দেশে রফতানি শিল্পের মধ্যে পাট, চা ও চামড়া অন্যতম। কিন্তু দেশ যখন অর্থনীতিতে অগ্রসর হচ্ছিল, এই তিনটা গুরুত্বপূর্ণ শিল্পখাতকেই ধ্বংস করতে কুচক্রী মহল ওঠেপড়ে লেগেছে, যাতে এ দেশের অর্থনীতিকে ধ্বংস করে দেওয়া যায়। এখন গুরুত্বপূর্ণ এই তিনটা শিল্পকে রক্ষার জন্য সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ জরুরী।

তিনি বলেন, আমরা সরকারের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি, চামড়া শিল্পকে ধ্বংসে তৎপরত সিন্ডিকেট চক্রকে প্রতিহত করে আন্তর্জাতিক বাজারের সাথে সামাঞ্জস্য রেখে চামড়ার ন্যায্য মূল্য নির্ধারণ করুন। দেশের অর্থনীতিকে রক্ষার জন্য চামড়ার ন্যায্য মূল্য নির্ধারণ করা অত্যন্ত জরুরী। অন্যথায় গত বৎসরের মতো লাখ লাখ চামড়া বিনষ্ট হওয়ার মতো ঝুঁকির আশঙ্কা তৈরি হতে পারে এবং দেশের বিপুল সংখ্যক এতিম, গরীব ও নিঃস্ব মানুষ বঞ্চিত হবে।

কুরবানীর চামড়ার ন্যায্য মূল্য নির্ধারণের দাবিতে জাতীয় উলামা পরিষদের পক্ষে আগামী ১৭ জুলাই শুক্রবার বাদ জুমা বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের উত্তর গেটে গণসমাবেশ এবং পরদিন ১৮ জুলাই জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধনের কর্মসূচী ঘোষণা করে তিনি কর্মসূচী সর্বাত্মকভাবে সফলের জন্য সকলের প্রতি আহ্বান জানান।

সভাপতির বক্তব্যে মধুপুরের পীর বলেন, কুরবানীতে আপনার কাছে গরীবদের জন্য কোন সাহায্য-সহযোগিতা নয়, বরং চামড়ার ন্যায্য মূল্যটা নির্ধারণ করে দেওয়ার দাবি জানাচ্ছি। এটা এতীম-গরীবদের জন্য অনেক বেশি সহযোগিতা হবে। তাছাড়া এতে দেশের অর্থনীতিও রক্ষা হবে।

তিনি বলেন, কুরবানী মৌসুমে পশু যবাই করা হয় ওয়াজিব বিধান পালনের জন্য। কুরবানীর পশুর গোশত গরীব-মিসকীনদের মাঝেও বিলি-বণ্টন করা হয়। কুরবানীর চামড়ার সম্পূর্ণ টাকাও গরীবরাই পেয়ে থাকেন। সুতরাং প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিশেষ অনুরোধ, আল্লাহর বিধান কুরবানী পালন নির্বিঘ্ন করুন এবং গরীবের হক্ব আত্মসাতে সক্রিয় সিণ্ডিকেট চক্র প্রতিহত করে চামড়ার ন্যায্য মূল্য নির্ধারণ করুন।

এসময় মুফতী মুহাম্মদ ওয়াক্কাস বলেন, চামড়া শিল্পকে ধ্বংসের লক্ষ্যে বিদেশী এজেন্ট যারা বাংলাদেশের উন্নতি ও অগ্রগতি চায় না, তারাই পেছন থেকে কাজ করছে। প্রধানমন্ত্রী চাইলে দুই দিনের মধ্যেই চামড়ার ন্যায্য মূল্য নির্ধারণ করে সঙ্কটের সমাধান হয়ে যেতে পারে।


মাওলানা আব্দুল হামিদ (মধুপুরের পীর) এর সভাপাতিত্বে সংবাদ সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমী।

এছাড়াও আরো উপস্থিত ছিলেন- মুফতী মুহাম্মদ ওয়াক্কাস, মাওলানা মাহফুজুল হক, মাওলানা জুনায়েদ আল-হাবীব, মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী, মাওলানা ফজলুল করীম কাসেমী, মাওলানা বশীর আহমদ, মাওলানা গোলাম মুহিউদ্দীন ইকরাম, মাওলানা আলী আকবর, মুফতী নেসার আহমদ, মাওলানা নাজমুল হাসান প্রমুখ।

সংবাদ সম্মেলনে সভাপতির পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন- মাওলানা মুহাম্মদ সাইফুল্লাহ।

About |

Check Also

প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে উন্নয়নের মহাসড়ক দিয়ে চলছে বাংলাদেশ: প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দুর্বার গতিতে …