চীনের বাধায় রোহিঙ্গা ইস্যুতে পার পেয়ে গেল মিয়ানমার

ফেব্রুয়ারি ৬, ২০২০ । আন্তর্জাতিক ডেস্ক



চীনের বাধার কারণে রোহিঙ্গা মুসলমানদের সুরক্ষায় পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়েছে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ।

মঙ্গলবার (৪ ফেব্রুয়ারি) মিয়ানমারের বিরুদ্ধে গাম্বিয়ার গণহত্যার মামলায় আইসিজের অন্তর্বর্তী পদক্ষেপের আদেশ নিয়ে রুদ্ধদ্বার বৈঠকে বসে নিরাপত্তা পরিষদ।

তারা চেয়েছিল রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর নৃশংসতা বন্ধে মিয়ানমার যেন সবধরনের ব্যবস্থা নেয়, সেজন্য যৌথ বিবৃতি দিতে। কিন্তু মিয়ানমারের মিত্র চীনের বাধায় তা সম্ভব হয়নি। এতে বিরোধিতা করেছে নিরাপত্তা পরিষদের অস্থায়ী সদস্য ভিয়েতনামও।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কূটনীতিকদের বরাত দিয়ে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা তাদের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

তবে নিরাপত্তা পরিষদ মিয়ানমারের বিরুদ্ধে কোনো যৌথ বিবৃতি প্রচারের বিষয়ে একমত হতে না পারলেও ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত (ইইউ) দেশগুলো আলোচনার পর একটি বিবৃতি দিয়েছে। তাতে নিরাপত্তা পরিষদের বর্তমান সদস্য ফ্রান্স, জার্মানি, বেলজিয়াম ও এস্তোনিয়ার পাশাপাশি সাবেক সদস্য পোল্যান্ড আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের (আইসিজে) আদেশ মেনে চলতে মিয়ানমারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের ওই পাঁচ দেশ বলেছে, আদালতের আদেশ মেনে চলার আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে মিয়ানমারের।

মানবাধিকার লঙ্ঘনের দায়ে যারা দায়ী তাদের বিচারের আওতায় এনে ‘বিশ্বাসযোগ্য পদক্ষেপ’ নেয়ার জন্য মিয়ানমারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন।

ইইউ বলেছে, রাখাইনের পাশাপাশি কাচিন, শান রাজ্যের সংঘাতের মূল কারণ উদঘান করে এর অবশ্যই সমাধান করতে হবে মিয়ানমারকে। মানবাধিকার ও মানবাধিকার লঙ্ঘনকারীদের জবাবদিহিতার আওতায় আনা এ প্রক্রিয়ারই একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

২০১৭ সালের আগস্টে মিয়ানমার সরকারের বাহিনী রাখাইন রাজ্যে গণহত্যা চালানোর পর প্রাণে বাঁচতে প্রায় সাড়ে ৭ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে। বর্তমানে ১০ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশের শরণার্থী শিবিরে আশ্রয় নিয়েছে।