কাশ্মিরে সেনা-পুলিশ মারামারিতে আহত ৭ পুলিশ

ভারত নিয়ন্ত্রিত জম্মু-কাশ্মিরের গান্দেরবল জেলায় এক তদন্ত চৌকিতে সেনাবাহিনীর জওয়ান ও পুলিশ কর্মীদের মধ্যে মারপিটের ঘটনায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ওই ঘটনায় ৭ পুলিশকর্মী আহত হলে তাদের স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পুলিশের পক্ষ থেকে অভিযুক্ত সেনাবাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে থানায় এফআইআর করা হয়েছে।

আজ (শনিবার) গণমাধ্যমে প্রকাশ, গতকাল দিবাগত (শুক্রবার) গভীর রাতে ডিউটি সেরে সেনা সদস্যরা সাদা পোশাকে প্রাইভেট গাড়িতে করে ফিরে আসার সময় পুলিশ সোনমার্গ তল্লাশি চৌকিতে তাদের থামতে বলে। কিন্তু তারা ওই নির্দেশ অমান্য করে সেখানে না থেমে গান্দেরবলের দিকে এগিয়ে যায়। সোনমার্গ চৌকির পুলিশ বিষয়টি গুন্ড তল্লাশি চৌকিতে জানিয়ে দিলে সেখানে কর্তব্যরত পুলিশ তাদের থামিয়ে দেয়।

সেখানকার পুলিশ সাফ জানায় এ সময় কোনো যানবাহনকে এখান থেকে না যেতে দেয়ার কঠোর নির্দেশ রয়েছে কারণ, এগিয়ে গেলে বিপদের আশঙ্কা রয়েছে।

এক কর্মকর্তা বলেন, এ সময় সেনা জওয়ানরা ২৪ রাষ্ট্রীয় রাইফেলস ইউনিটের অন্য সহযোগী জওয়ানদের ডাকলে তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে কর্তব্যরত পুলিশকর্মীদের মারধর করে এবং থানায় ঢুকে ভাঙচুর করাসহ সেখানকার নথিপত্র নষ্ট করে দেয় বলে অভিযোগ। ওই ঘটনায় এক কর্মকর্তাসহ ৭ পুলিশকর্মী আহত হলে তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

সেনাবাহিনী ও পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখছেন।

অভিযুক্ত সেনাজওয়ানদের বিরুদ্ধে আরপিসি অ্যাক্টের ১৪৭, ১৪৮, ৩০৭, ৩২৩, ৩৩২, ৩৫৩, ৪২৭, ১২০-বি ধারা অনুসারে মামলা দায়ের করেছে।

এদিকে, কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে ওই ঘটনার অবিলম্বে ব্যাখ্যা ও পদক্ষেপ দাবি করেছেন জম্মু-কাশ্মিরের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহ। সেনাবাহিনীর সদস্যরা কেন থানার পুলিশ কর্মীদের মারধর করবে তা নিয়ে তিনি প্রশ তুলেছেন।

অন্যদিকে, হুররিয়াত কনফারন্সের একাংশের চেয়ারম্যান মীরওয়াইজ ওমর ফারুক সেনা জওয়ানরা পুলিশ কর্মীদের মারধর করার ঘটনায় দুঃখ পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন। ওই ঘটনায় কাশ্মিরের অন্য নেতৃত্বের পক্ষ থেকেও ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়েছে।

পার্সটুডে