জরুরি অবস্থা জারি নয়, জরুরি চিকিৎসা ও সেবা নিশ্চিত করতে হবে : আল্লামা কাসেমী


করোনা প্রাদুর্ভাব উত্তরণে জরুরি অবস্থা নয়, বরং জরুরি চিকিৎসা ও সেবা নিশ্চিতের আহ্বান জানিয়েছেন সমমনা ইসলামী রাজনৈতিক দলসমূহের মুখপাত্র ও জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ’র মহাসচিব আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমী।

আজ (২২ মার্চ) রোববার এক বিবৃতিতে তিনি বলেছেন, করোনাভাইরাস বিশ্বের নানাপ্রান্তে ছড়িয়ে পড়তে শুরু করার পর পর্যাপ্ত সময় পেয়েও প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিতে সরকার যেমন ব্যর্থ হয়েছে, তেমনি এই সংকট উত্তরণে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ ও প্রস্তুতি গ্রহণে চরম উদাসীনতার পরিচয় দিয়ে চলেছে।

তিনি বলেন, এই সময়ের মধ্যে বিপুল প্রবাসী দেশে প্রবেশ করেছে, কিন্তু বিমান বন্দরে যথাযথ স্বাস্থ্য পরীক্ষায় ব্যাপক গাফলতি চোখে পড়েছে। ভাইরাস শনাক্তকরণের জন্য পর্যাপ্ত কিট সংগ্রহ, অন্তত: জেলা পর্যায়ে পরীক্ষাগার স্থাপন, স্বাস্থ্য কর্মীদের নিরাপত্তা সরঞ্জাম, হাসপাতাল ও পরীক্ষাগারের মত অবকাঠামোগুলোতে প্রয়োজনীয়া প্রস্তুতি দেখা যায়নি। কিছু মন্ত্রীর অসংলগ্ন কথাবার্তায় একদিকে আত্মম্ভরিতার যেমন প্রকাশ ঘটেছে, অন্যদিকে সরকারের প্রস্তুতিহীনতা জনমনে আতঙ্ক ও আস্থাহীনতার জন্ম দিয়েছে।

আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমী বলেন, এই মুহূর্তে সবচেয়ে জরুরী হল, রাজনৈতিক ও সামাজিক সমঝোতা এবং মতৈক্যের মাধ্যমে সমন্বিত ও সর্বাত্মক উদ্যোগ গ্রহণ। মানুষের জীবনরক্ষাকে প্রথম ও প্রধান লক্ষ্য হিসাবে গণ্য করে অন্যান্য উন্নয়নখাতে কাটছাট করে স্বাস্থ্যখাতে পর্যপ্ত বরাদ্দ বাড়িয়ে জরুরি স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা। শীর্ষস্থানীয় জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে একটি টাস্কর্ফোস গঠন করে করোনা মহামারিতে জীবনহানির সংখ্যা কমাতে কার্যকর বিজ্ঞানসম্মত পদক্ষেপগ্রহণ।

তিনি বলেন, যথাসম্ভব দ্রুত রোগী শনাক্ত করার জন্য পর্যাপ্ত টেস্ট কিট আমদানি ও স্থানীয়ভাবে উৎপাদন করে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে পরীক্ষাকেন্দ্র সম্প্রসারণ করতে হবে। চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী, পরিচ্ছন্নতাকর্মী এবং আইনশৃঙ্খলা ও প্রতিরক্ষাবাহীনির সদস্যদের জন্য ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জাম জরুরিভিত্তিতে আমদানি ও দেশে উৎপাদনের উদ্যোগ নিয়ে দ্রুততম সময়ে সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। জরুরি প্রয়োজনে সশস্ত্রবাহিনীর চিকিৎসা ইউনিটগুলো এবং স্থাপনাসমূহ কাজে লাগানো যেতে পারে। ফিল্ড হাসপাতাল তৈরির মত পদক্ষেপ নেয়ার প্রয়োজন হলে, তাদেরকে সেই দায়িত্বও দেওয়া যেতে পারে। পাশাপাশি কর্মহীন শ্রমিক, দিনমজুর ও বস্তিবাসীর জন্য বিশেষ ভাতা ও ত্রাণের ব্যবস্থা করতে হবে।

তিনি বলেন, রোহিঙ্গা শরণার্থী এবং তাদের আশ্রয়কেন্দ্রের আশপাশের স্থানীয় জনগোষ্ঠীর মধ্যে এই সংক্রমণের ঝুঁকি মারাত্মকভাবে প্রাণঘাতি হতে পারে। তাই, ওই অঞ্চলের জন্য বিশেষ কার্যক্রম গ্রহণ করতে হবে। কারাগারে জামিনযোগ্য মামলার বিচারাধীন বন্দী এবং লঘু অপরাধে সাজাপ্রাপ্তদের মুক্তি দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে।

আল্লামা কাসেমী আরো বলেন, বিশেষ গুটি কয়েক মহল করোনা প্রাদুর্ভাব পরিস্থিতি উত্তরণে দেশে জরুরী অবস্থা জারির কথা বলছেন। কিন্তু কোন অবস্থাতেই করোনার অজুহাতে জরুরী অবস্থা জারি করা যাবে না। করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব উত্তরণে রাষ্ট্রীয় জরুরী অবস্থা নয়, বরং দেশব্যাপী জরুরী চিকিৎসা ও সেবা ব্যবস্থা নিশ্চিত করাই প্রয়োজন।

আল্লামা কাসেমী করোনা দুর্যোগের এই সময়ে জাতীয় ঐক্যের আহ্বান জানিয়ে বলেন, এখন বিভক্তি নয়। বরং এই বিপদে আমাদের সকলকে ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক স্বার্থের ঊর্ধ্বে গিয়ে মানবিকতার জায়গায় দাঁড়াতে হবে। রাজনৈতিক, সামাজিক ও ব্যক্তিগত উদ্যোগ এবং সহযোগিতার সুযোগ আছে এমন ক্ষেত্রসমূহে সকলকে দ্বিধাহীনভাবে এগিয়ে আসতে হবে। সর্বসাধারণকে এই কঠিন পরিস্থিতিতে অস্থির না হয়ে স্বাস্থ্যবিভাগ ঘোষিত বিধি পরিপূর্ণভাবে মেনে চলতে সচেষ্ট থাকতে হবে। সবসময় পাকপবিত্র ও শৃঙ্খলা মেনে চলতে হবে। পাপকর্ম ও অন্যায়কর্ম পরিহার করে খাঁটি মনে তাওবা করে ইবাদত-বন্দেগীতে অধিক মনোনিবেশ করতে হবে এবং আগামীতে সৎ ও স্বচ্ছ জীবন-যাপনের অঙ্গিকার করে আল্লাহর সাহায্য কামনা করে দোয়া-মুনাজাতে শরীক থাকতে হবে।