ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম | আন্তর্জাতিক ডেস্ক


তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেভলুত কাভুসোগলু-সহ দেশটির ঊর্ধতন কর্মকর্তারা জর্ডান সফরে গিয়েছেন। হাই প্রোফাইল এই সফরে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে প্রতিনিধি দলে আরও রয়েছেন দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী, গোয়েন্দা প্রধান ও সেনাবাহিনীর চিফ অব স্টাফ।

এ সফরে বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। দ্বিপাক্ষিক এসব বৈঠকে দুই দেশের সম্পর্ক আরও জোরদারের উপায় নিয়ে কথা বলেন উভয় প্রতিনিধিরা।

এমন সময়ে উচ্চ পর্যায়ের এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হলো যার কিছুদিন আগেই তুরস্কের মিত্র কাতারের সঙ্গে ফের পূর্ণ কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা করে জর্ডান। ফলে তুর্কি প্রতিনিধি দলের এই সফরকে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত বলে মনে করা হচ্ছে।

তুরস্ক ও জর্ডানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, উভয় দেশ পারস্পরিক বন্ধন আরও গভীর করে তোলা, অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণ এবং আঞ্চলিক ইস্যুগুলোতে সহযোগিতা আরও জোরদারের ব্যাপারে সম্মত হয়েছে।

২০১৭ সালের ৫ জুন কাতারবিরোধী অবরোধের ঘোষণা দেয় সৌদি আরব, মিসর, বাহরাইন ও সংযুক্ত আরব আমিরাত। সৌদি জোটের অবরোধে জর্ডান অংশ না নিলেও এর রিয়াদের প্রভাব বলয় অস্বীকার করতে পারেনি দেশটি। ফলশ্রুতিতে কাতার থেকে নিজ দেশের রাষ্ট্রদূত প্রত্যাহার করে নেয় জর্ডান। এর দুই বছরের মাথায় ২৩ জুলাই দোহায় নতুন রাষ্ট্রদূত নিয়োগ দেয় দেশটি।

মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে সৌদি-আমিরাতি বলয়ের বাইরে তুরস্ক ও কাতারের মৈত্রী ইতোমধ্যেই রিয়াদের অস্বস্তি এমনকি রীতিমতো ভয়ের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোয়ান সৌদি জোটের কাতারবিরোধী অবরোধ প্রায় একাই নস্যাৎ করে দিয়েছেন। কিছুদিন আগেই সামরিক অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হন তুরস্কের মিত্র সুদানের প্রেসিডেন্ট ওমর আল-বশির। ওই অভ্যুত্থানে সমর্থন দেয় সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত। এখন জর্ডান যদি শেষ পর্যন্ত সৌদির বদলে তুরস্কের দিকে ঝুঁকে পড়ে সেটা নিঃসন্দেহে মধ্যপ্রাচ্য এমনকি পুরো মুসলিম বিশ্বেই সৌদি আরবের প্রভাবকে কিছুটা হলেও ক্ষুণ্ন করবে। কেননা ইতোমধ্যেই পুরো আরব বিশ্বেই তুর্কি প্রভাব বাড়ছে।

বিগত কিছুদিন ধরে সৌদি ও তার মিত্ররা ইহুদিবাদী সন্ত্রাসীদের অবৈধ রাষ্ট্র ইসরাইলের সাথে সম্পর্ক করতে উঠেপড়ে লেগেছে। ইতোমধ্যেই সৌদি আরবের মিত্র বাহরাইনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ খালিদ বিন আহমাদ আলে খলিফা ইহুদিবাদী সন্ত্রাসীদের অবৈধ রাষ্ট্র ইসরাইলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। টুইটারে দেওয়া পোস্টে ইসরায়েলি মন্ত্রী এ বৈঠকের কথা নিশ্চিত করেন।

এসব বিষয়ের কারণে বেশ অসস্থিতে পড়েছেন মুসলমানদের প্রথম কিবলা পবিত্র বাইতুল মোকাদ্দাস মসজিদের রক্ষণাবেক্ষণকারী জর্ডানের বাদশাহ দ্বিতীয় আবদুল্লাহ।

এদিকে তুর্কি প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোগান সবসময় ফিলিস্তিনিদের পক্ষে অবস্থান নিয়ে এসছেন। কাতারও বরাবরই ফিলিস্তিনিদের সহায়তায় এগিয়ে এসেছে। এসব কারণে দেশটিকে তুরস্ক ও কাতারের দিকে ঠেলে দিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

অন্যদিকে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জর্ডানের সাধারণ মানুষের মধ্যে তুরস্কের প্রভাব বেড়েছে। দেশটির অনেক মানুষ সাবেক উসমানীয় খিলাফতের ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলোতে ঘুরতে যান। দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও ব্যক্তিগত বিনিয়োগের পরিমাণও বেড়েছে।