জাতির উদ্দেশে ইমরান খান: পাকিস্তানকে পুরোপুরি লকডাউন করা হবে না

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান বলেছেন, গরিব মানুষদের কথা চিন্তা করে পাকিস্তানকে পুরো লকডাউন করা হবে না।

নাগরিকদের আতঙ্কিত না হয়ে নিজেদের কোয়ারেন্টিনে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

রোববার জাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণে ইমরান খান এসব কথা বলেন।

ইমরান খান বলেন, ‘পুরো লকডাউনের ধকল সামলে উঠতে পারবে না পাকিস্তান। কারণ দেশের ২৫ শতাংশ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করেন। যদি আমি পুরো পাকিস্তান লকডাউন করি, তাহলে তাদের কী হবে?’

তিনি বলেন, ‘লকডাউন হল কারফিউ জারি থাকা এবং মানুষের বাইরে চলাচলে কড়াকড়ি থাকে। রাস্তায় থাকে সামরিক বাহিনীর সদস্য। কয়েক দিনের মধ্যেই ৯০ শতাংশ মানুষ করোনাভাইরাস থেকে সুস্থ হয়ে যায়। ভাইরাস যদি ভয়াবহভাবে ছড়ায়, তাহলে বৃদ্ধ ও দুর্বল মানুষ সবচেয়ে বেশি ভুগেন এবং তাদেরই হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়।’

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এখন আমরা সব ধরনের জনসমাবেশ বন্ধ করেছি। পুরো দেশে লকডাউন আরোপের সিদ্ধান্ত থেকে আমরা এক কদম পিছিয়ে আছি। এর পেছনে কারণও আছে। আমাদের পরিস্থিতি ইতালির মতো দেশের পরিস্থিতির সঙ্গে মেলালে চলবে না। তাদের মাথাপিছু আয় ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি আমাদের চেয়ে অনেক ভালো।’

তিনি বলেন, ‘আমরা যদি দেশব্যাপী লকডাউন করি, তাহলে দিনমজুর ও শ্রমিকরা সমস্যায় পড়বে। লকডাউনের পরবর্তী সপ্তাহগুলোয় তারা কী করবে?’

যদি সাধারণ মানুষ গণজমায়েত এড়িয়ে যান, বিবাহ বন্ধ করেন এবং বাড়িতে অবস্থান করেন তাহলে ভাইরাস প্রতিরোধ করা সহজ হবে- যোগ করেন ইমরান খান।

২০০৫ সালের ভূমিকম্প ও ২০১০ সালের বন্যা মোকাবেলায় পাকিস্তানের সফলতার কথা উল্লেখ করে ইমরান খান বলেন, ‘আমি আমার জাতি নিয়ে গর্বিত। সাহসিকতার সঙ্গে আমরা আমাদের সমস্যা ও সংকট মোকাবেলা করেছি। পাকিস্তান বরাবরই একত্রে লড়াই করেছে। আমি আমার দেশকে ২০০৫ সালের ভূমিকম্প ও ২০১০ সালের বন্যার বিরুদ্ধে লড়াই করতে দেখেছি।

উল্লেখ, পাকিস্তানে এ পর্যন্ত ৭১৪ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। আর মারা গেছেন চারজন। সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতি সিন্ধু প্রদেশে। এখানে ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ২৯২ জন। রোববার নতুন ৪১ জন আক্রান্ত হওয়ার পর এ প্রদেশটি লকডাউন করা হয়েছে।

Comments are closed.