‘জাতীয় পার্টি মরা গরুতে পরিণত হয়েছে’

ফেব্রুয়ারি ৯, ২০২০ । নিজস্ব প্রতিনিধি



ব্রাহ্মণবাড়িয়া জাতীয় পার্টির বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সমাবেশে দল ও কেন্দ্রের নেতাদের সমালোচনায় দলটির জেলা নেতাকর্মীরা বলেছেন, জাতীয় পার্টি মরা গরুতে পরিনত হয়েছে। একে শকুন, কুকুর, কুত্তা খাওয়ার পর এখন পিপীলিকাও খাওয়া শুরু করেছে। কেন্দ্রে কিছু কিছু নেতা খানকা খুলে বসেছেন। দান-খয়রাত পেয়ে তারা সুপারিশ করে পদ পাইয়ে দেন যাকে-তাকে।

রোববার (৯ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১২টায় জেলা জাতীয় পার্টির উদ্যোগে শহরের পৌর মুক্ত মঞ্চে আয়োজিত প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তারা এসব কথা বলেন।

এ সময় পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটি পুন:গঠনের দাবি জানিয়ে বক্তারা বলেন, আগামী ১০ দিনের মধ্যে তা করা না হলে কঠোর কর্মসূচি দেয়া হবে এবং তৃনমূল জাতীয় পার্টি গঠন করা হবে।

জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও চট্টগ্রাম বিভাগীয় অতিরিক্ত মহাসচিব রেজাউল ইসলাম ভূঁইয়া এসবে জড়িত উল্লেখ করে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হয় তাকে। বিক্ষোভ মিছিলে ঝাঁড়– উচিয়ে তার বিরুদ্ধে দেওয়া হয় স্লোগান।

পরে প্রেসক্লাবের সামনে হয় প্রতিবাদ সভা। জেলা জাতীয় পার্টির আহবায়ক ও সাবেক এমপি জিয়াউল হক মৃধার সভাপতিত্বে এতে বক্তৃতা করেন জেলা জাতীয় পার্টির সদস্য সচিব কাজী মামুনুর রশিদ, কেন্দ্রীয় জাতীয় পার্টির শিল্প ও বাণিজ্য সম্পাদক শাহ জামাল রানা, জেলা জাতীয় পার্টির যুগ্ম আহবায়ক ওয়াহেদুল হক ওহাব, মনির হোসেন দেলোয়ার প্রমুখ।

প্রতিবাদ সমাবেশে সাবেক সংসদ সদস্য জিয়াউল হক মৃধা কেন্দ্রীয় কমিটিতে টোকাইদেরও সদস্যপদ দেওয়া হয়েছে অভিযোগ করে বলেন- এ কারণে কেন্দ্রীয় জাতীয় পার্টি এখন উপজেলা ও ইউনিয়ন কমিটিতে পরিণত হয়েছে বলে মানুষ সমালোচনা করছে। চাটুকার-বাটপারদের বাদ দিয়ে যোগ্য ব্যাক্তিদের পদ দেওয়া না হলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় যে আন্দোলন শুরু হবে তা প্রত্যেক জেলায় ছড়িয়ে দেওয়া হবে। গঠন করা হবে তৃনমুল জাতীয় পার্টি।

তিনি বলেন- আমাদের দূর্ভাগ্য জাতীয় পার্টি করি। কারণ মাঝে-মধ্যে জাতীয় পার্টির বিরুদ্ধেই আমাদের ব্যবস্থা নিতে হয়। এরশাদের মৃত্যুর পর আমরা মনে করেছিলাম জিএম কাদের এরশাদের আদর্শকে ধারণ করে সুশৃঙ্খল জাতীয় পার্টি গড়ে তুলবেন। কিন্তু এখন দেখছি ৪০-৫০ বছর ধরে যারা রাজনীতির সঙ্গে জড়িত তাদের বাদ দিয়ে ৪-৫ দিন কেন্দ্রে ঘুরাঘুরি করেছে এমন লোকজনকে নেতা বানানো হচ্ছে।