জাতীয় সংকটকালে বিত্তশালীরা অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ান : চরমোনাই পীর

ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম | ডেস্ক রিপোর্ট


করোনা মহামারীতে সারাদেশ লকডাউন অবস্থায় দরিদ্র অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর আমীর মুফতী রেজাউল করীম।

আজ এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, আগেভাগে প্রস্তুতি নিতে ব্যর্থ হওয়ায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এখন করোনা চিকিৎসা নিয়ে হিমসিম খাচ্ছে। সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মধ্যে সমন্বয়ের অভাব নিয়ে বিশেষজ্ঞরা আলোচনা করেছেন। প্রয়োজনীয় ইকুইপমেন্ট না থাকায় ইতোমধ্যে ৩ জন ডাক্তার করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। রোগীর সংখ্যা বাড়লে ডাক্তারদের নিরাপত্তা কী হবে, সে ব্যাপারে বিশেষজ্ঞরা তাদের আশংকা প্রকাশ করেছেন। আমি আশা করি, সরকার যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়ে এ বিষয়ে প্রস্তুতির ঘাটতি বা দূর্বলতা দূর করার চেষ্টা করবেন।

চরমোনাই পীর বলেন, ভাইরাসের প্রভাব কমাতে সরকার কোনো ধরনের আগাম প্রস্তুতি ছাড়াই সকল মানুষকে বাড়িতে থাকতে বলেছে। ফলে নিম্ন আয়ের মানুষের ১০ দিন তো দূরের কথা ১ দিনের অতিরিক্ত খাবারের সংস্থানও ছিল না। এ অবস্থায় নিঃস্ব মানুষ না খেয়ে দিনাতিপাত করতে বাধ্য হচ্ছে। অবশ্য দেরিতে হলেও ইতোমধ্যে সরকার ও বিভিন্ন দলের পক্ষ থেকে দরিদ্রদের মাঝে খাদ্য সহায়তা দেয়া শুরু হয়েছে। তবে এসব সহায়তা চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল বলে মনে হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে দেশের বিত্তশালীরা অধিক হারে এগিয়ে আসলে সকল দরিদ্র পরিবারের কাছে খাবার সামগ্রী পৌঁছানো সম্ভব হবে বলে আশা করা যায়।

চরমোনাই পীর আরো বলেন, করোনা ভাইরাসের কারণে যে গজব বিশ্বজুড়ে নেমে এসেছে তা মোকাবেলা করার সাধ্য কারো নেই। আল্লাহর কাছে বেশি বেশি ইসতেগফার করে আমাদের গুনাহ মাফ করানোর মাধ্যমে এর থেকে পরিত্রাণ পেতে পারি। এছাড়া যে কোনো বালা মুসিবত থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বেশি বেশি দান সদকাহ করতে বলেছেন। এজন্য মহামারী থেকে মুক্তি পেতে সামর্থবান মানুষের উচিত দরিদ্র মানুষের মধ্যে দান সদকাহ বেশি পরিমাণে করা।

তিনি বলেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও সকল সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন স্থানে খাদ্যসামগ্রী, সাবান, স্যানিটাইজার, মাস্ক ইত্যাদি বিতরণ করছে। খেদমতে খালক্বের অংশ হিসেবে এই কার্যক্রম আরো বেগবান করতে সারাদেশের নেতাকর্মীদের তিনি নির্দেশ দেন।

Comments are closed.