জামিয়ার শিশুদের ওপরে জুলুম করছে কেন্দ্রীয় সরকার: ওয়াইসি

ফেব্রুয়ারি ৪, ২০২০ । আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ভারতের মজলিশ-ই-ইত্তেহাদুল মুসলেমিন (মিম) প্রধান ব্যারিস্টার আসাদউদ্দিন ওয়াইসি কেন্দ্রীয় সরকারের সমালোচনা করে বলেছেন, ‘সরকার জামিয়ার (জামিয়া মিল্লিয়া ইসলামিয়া বিশ্ববিদ্যালয়) শিশুদের (ছাত্র-ছাত্রী) ওপরে জুলুম করছে।’

মঙ্গলবার সংসদের নিম্নকক্ষ লোকসভায় ওয়াইসি ওই মন্তব্য করে বলেন, আমরা সমস্ত শিশুদের পাশে আছি।

দিল্লির জামিয়া চত্বরে সাম্প্রতিক গুলিবর্ষণের ঘটনা, পুলিশি জুলুম ইত্যাদির বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে স্পিকারের উদ্দেশ্যে ওয়াইসি বলেন, ‘আমি আপনার মাধ্যমে সরকারকে বলতে চাই আমরা সমস্ত জামিয়ার বাচ্চাদের পাশে আছি। এই সরকার বাচ্চাদের (শিক্ষার্থী) ওপরে জুলুম করছে। ওঁরা কী জানেন যে, এক ছাত্রের চোখ নষ্ট হয়ে গেছে। মেয়েদের (ছাত্রী) মারা হয়েছে। বাচ্চাদের মারছে। এঁদের লজ্জা নেই! গুলি চালাচ্ছে!’

এদিকে লোকসভায় প্রশ্নোত্তর পর্বে অর্থ প্রতিমন্ত্রী অনুরাগ ঠাকুর বলার জন্য উঠে দাঁড়ালে বিরোধীরা ‘গুলি মারা বন্ধ করো, বন্ধ করো’ স্লোগানে সোচ্চার হন।

লোকসভায় কংগ্রেসের দলনেতা অধীর চৌধুরী কেন্দ্রীয় সরকারের উদ্দেশ্যে তীব্র ক্ষোভে ফেটে পড়ে বলেন, ‘গোটা ভারতে সংবিধান রক্ষা করতে ভারতের সাধারণ মানুষ বিক্ষোভ প্রদর্শন করছেন, আন্দোলন করছেন, এটা কোনও অন্যায় নয়। তাঁরা নিজেদের হাতে ভারতীয় সংবিধান, জাতীয় পতাকা হাতে নিয়ে, জাতীয় সঙ্গীত গেয়ে প্রতিবাদ করছেন। কিন্তু এঁদের ওপরে গুলি চালানো হচ্ছে, নির্দয়ভাবে ভারতের সাধারণ মানুষকে হত্যা করা হচ্ছে।’ এসময় বিরোধী সদস্যরা অধীর বাবুর বক্তব্যের সমর্থনে তীব্র হইচই জুড়ে দেন।

কংগ্রেস এমপি অধীর চৌধুরী, কে সুরেশ ও গৌরব গগৈ লোকসভায় মুলতুবি প্রস্তাব এনে দেশে চলমান অশান্তির কারণে ‘সিএএ’ নিয়ে পুনর্বিবেচনা, ‘এনআরসি’ ও ‘এনপিআর’ স্থগিত করার দাবি জানান।

লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা এসময় ক্ষুব্ধ সদস্যদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘সিএএ’ ইস্যুতে সেই সময় সংসদে রাত বারোটা পর্যন্ত দীর্ঘ আলোচনা হয়েছে। আপনারা সম্মানীয় সকল সদস্য এ নিয়ে বক্তব্য রেখেছেন। যে বিষয়ে হাউসে একবার আলোচনা শেষ হয়ে যায় সেই ইস্যুতে দ্বিতীয়বার আলোচনা করা হয় না।’ পরে বিরোধী সদস্যরা লোকসভা থেকে ওয়াকআউট করেন।

অন্যদিকে, রাজ্যসভায় সিএপিএম ও সিপিআই এমপি’রা দেশের চলমান অবস্থা, জাতীয় জনসংখ্যা নিবন্ধন (এনপিআর) এবং সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন (সিএএ) নিয়ে আলোচনার দাবি জানান। বহুজন সমাজবাদী পার্টির এমপি সতীশচন্দ্র মিশ্র অবিলম্বে বিজ্ঞপ্তি জারি করে ‘সিএএ’ আইন বাতিল করার দাবি জানান।

সিএএ ও এনআরসি ইস্যুতে তুমুল গোলযোগের জেরে রাজ্যসভার অধিবেশন বেলা ২ টা পর্যন্ত স্থগিত হয়ে যায়। পরে কংগ্রেস, ডিএমকে, তৃণমূল এমপিরা সিএএ ও এনআরসি ইস্যুতে ওয়েলে নেমে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। অবশেষে হট্টগোলের জেরে অধিবেশনের কাজকর্ম মঙ্গলবার বেলা ১১ টা পর্যন্ত মুলতুবি হয়ে যায়।

উৎস, পার্সটুডে