জার্মানির কোলনে মসজিদে হামলা করলো ইসলাম বিদ্বেষীরা

ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম | নাহিয়ান হাসান


শনিবার (৯ মে) সকালে জার্মানির কোলোনে অবস্থিত তুর্কী ইসলামিক ইউনিয়ন ফর রিলিজিয়াস এফেয়ার্স সংস্থার একটি মসজিদ ও ইসলামিক সামাজিক কেন্দ্রে বেশকিছু দুষ্কৃতিকারী হামলা করেছে।

দুষ্কৃতিকারীরা এসময় উক্ত মসজিদ ও ইসলামিক সামাজিক কেন্দ্রে পাথর নিক্ষেপ করে বেশ কয়েকটি জানালা ভেঙ্গে ফেলে।

কোলোনে অবস্থিত তুর্কি দূতাবাস তাদের অফিশিয়াল টুইটার একাউন্টে হামলাকারীদের সন্ধান ও বিচারের আওতায় আনার আহ্বান জানিয়ে এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।

উল্লেখ্য ‘নোভেল করোনা ভাইরাসের’ বিস্তার রোধে নেওয়া পদক্ষেপগুলোতে শিথিলতা আরোপ কার্যকর করার একদিন আগেই মসজিদ সহ বিভিন্ন ধর্মীয় উপাসনালয়গুলো পুনরায় খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল জার্মান সরকার।

সিসিটিভি ফুটেজ চেক করে দেখা গেছে যে দুষ্কৃতিকারীরা সকাল ১১ টার দিকে এই দুটি স্থাপনায় অনবরত পাথর নিক্ষেপ করছিল। হামলা চলাকালীন ইমাম সাহেব মসজিদে ছিলেন তবে খোঁজ নিয়ে জানা যায় তিনি সুস্থ আছেন। এবং এই হামলায় স্থাপনা দুটি ক্ষতিগ্রস্ত হলেও কারো হতাহতের খবর পাওয়া যায় নি।

তাছাড়া মহামারীর বিস্তার রোধে নেওয়া পদক্ষেপের কারণে মসজিদটি আট সপ্তাহের জন্য বন্ধ ছিল এবং লকডাউন ব্যবস্থায় শিথিলতা আরোপ করার প্রেক্ষিতে শনিবার মসজিদটি পুনরায় উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছিল।

ডিআইটিআইবির সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহমান আতসয় বলেছেন, মসজিদগুলো ক্রমশ উন্মুক্ত করে দেওয়া রোধে এই হামলা উস্কানি দেয়। এই হামলার পিছনে কোনো ধরণের যোগসাজশ থাকাকে অস্বীকার করা যায় না। এমনকি রমজানেও যা কিনা বিশ্বজুড়ে কয়েক মিলিয়ন মুসলমানের পবিত্র মাস। এবং এই বিশেষ পরিস্থিতিতে মুসলমানরা ইসলামভীতির দুর্ভোগ থেকে রেহাই পাচ্ছে না দেখে তিনি হতাশা প্রকাশ করেন।

জার্মানিতে মসজিদে হামলা করা বিরল কোনো ঘটনা নয়। এই হামলার পূর্বেও মে মাসের শুরুতে আরেকটি হামলার ঘটনা ঘটেছিল যেখানে পশ্চিমের গেলসেনকির্চেনের একটি মসজিদের দেয়াল ইসলামভীতির দুর্ভোগের শিকার হয়েছিল। আগের বছর মোট ১৮৪ টি মসজিদে হামলার ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছিল, যার অর্থ হল জার্মানে গড়ে প্রতিটি দিনেই একটি ইসলামিক উপাসনালয়কে টার্গেট করা হয়েছিল।

সাম্প্রতিক বছরগুলিতে ইসলামবিদ্বেষী আক্রমণগুলির উত্থানের কারণে ফেডারেশন এগেইন্সট ইনজাস্টিস এন্ড রেকিজম (এফআইএআর) এ জাতীয় আক্রমণগুলির ক্রমবর্ধমান সংখ্যার বিরুদ্ধে ‘ব্র্যান্ডেইলিগ’ নামে একটি উদ্যোগ নিয়ে আসে। তারা বলেছে যে অনেকগুলো হামলাই রাজ্যের দৃষ্টির অগোচরে রয়ে গিয়েছে। রাজ্যের দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষ এই আক্রমণগুলির ক্ষেত্রে উপেক্ষা প্রবণ হওয়ায় এই ধরণের হামলাগুলোর ব্যাপারে দৃষ্টি আকর্ষণ করাই হলো এই সংগঠনের একমাত্র কাজ।