জাহিলিয়াতের প্রাচীর ডিঙ্গিয়ে অনেক দূর এগিয়ে যাবে ইনসাফ

মাহবুবুল মান্নান | চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা প্রতিনিধি


মিডিয়ার ভয়াবহ আগ্রাসন থেকে আমরা কেউই নিরাপদ নই। বিশেষ করে মুসলিম মিল্লাত। ছোটবেলা থেকেই সেটা উপলদ্ধি করে আসছি।

মাজলুমকে জালিম ও জালিমকে মাজলুম বানিয়ে আসছে মিডিয়া নামক এই ভয়াবহ ভাইরাসটি। ‘তিলকে তাল’ বানানো আর ‘তালকে তিল’ করে দেখানোর কসরতটা একদম প্রকাশ্য। শহর বলেন আর গ্রাম বলেন- সর্বত্র আজ মিডিয়ার থাবা বিস্তার করেছে।

মিডিয়া ইসলামিষ্টদের শব্দে, কথায়, বাক্যে ও কলমে মারছে প্রতিনিয়ত। এককথায় মিডিয়া এখন সর্বগ্রাসী। বেশিরভাগ মিডিয়াই যে দলবাজ ও মুসলিমবিদ্বেষী ভূমিকায় সেটা এখন আর কারো অজানা নয়। ন্যায় ও সুন্দরের পথ দেখানো ও অন্যায় ও অবিচারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোই ছিল মিডিয়ার দায়িত্ব ও কর্তব্য।

কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে আমরা দেখি মিডিয়া তার দায়িত্ব পালন না করে মন্দ ও অন্যায়ের প্রচার, ইসলাম ও ইসলামি নেতৃবৃন্দের বিরুদ্ধে অহেতুক অপপ্রচারে লিপ্ত। ইহুদীবাদী সাজেশন বাস্তবায়নে তারা মরিয়া।

এই হলো বর্তমান মিডিয়ার অবস্থা। এমতাবস্থায় যারা ইসলাম নিয়ে ভাবেন, চিন্তা করেন ইসলামের প্রচার-প্রসারই যাদের কামনা ও বাসনা তাদের হাত গুটিয়ে বসে থাকলে হবে না। এই সঙ্কট থেকে উত্তোরণের জন্য তাদের দায়িত্ব সুস্থ মিডিয়া এবং নির্দোষ গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠা করা। ইসলাম প্রচারে মিডিয়াকে কাজে লাগানো এখন সময়ের দাবি।

একসময় কেবল বাম রাজনীতির ধারা থেকে আসা নেতাকর্মীরাই গনমাধ্যম চর্চা তথা সাংবাদিকতা পেশা ও লেখালেখিতে জড়িত ছিল।সংস্কৃতি ও সাংবাদিকতা ছিল তাদের মূল বিপ্লবের সহচর। সেটা আমরা বিভিন্ন জাতীয় পত্রিকার সম্পাদক, সহকারী সম্পাদক ও প্রকাশকদের দেখলে বুঝতে বাকী থাকেনা। ২০১৩ সালের মে মাসে ইসলামি মিডিয়ার ঘাটতি পূরণ করার লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল দেশের প্রথম ইসলামী ঘরানার অনলাইন পত্রিকা ইনসাফ।

অনেক চড়াই-উৎরায় ডিঙ্গিয়ে ও আলো আঁধারির জাল ছিন্ন করে ইনসাফ অর্ধযুগ পেরিয়ে সপ্তম বর্ষে পদার্পণ করেছে। আলহামদুলিল্লাহ, আমি সে ইনসাফ পরিবারের একজন নগন্য সদস্য। আমার মত একজন অযোগ্য ও নগন্য ব্যক্তিকে ইনসাফে কাজ করার সুযোগ দান করায় ইনসাফের মুহতারাম সম্পাদক মহোদয়, নির্বাহী সম্পাদক মহোদয়সহ সংশ্লিষ্ট সকলের কাছে আমি কৃতজ্ঞ।

ইনসাফ অনেক দূরে এগিয়ে যাবে জাহিলিয়াতের প্রাচীর ডিঙ্গিয়ে এটাই আমার প্রত্যাশা।

জানি সাংবাদিকদের চলার পথ বড় পিচ্ছিল। সাংবাদিকতা হচ্ছে কোনো জাতির নির্মাণ কিংবা ধ্বংসের গদ্য। তাই এই নির্মাণ কাজে শরীক হতে সামান্য চেষ্টা মাত্র। চেষ্টা করা বান্দার কাজ। তাওফিক দান ও কবুল করা, কাজকে পূর্ণতা দান করা ও গন্তব্যে পৌঁছানো মহান দয়াময় প্রভুর কাজ। মহান আল্লাহ কবুল করুন। কদম সুদৃঢ় করুন।

Previous post ইনসাফের অর্ধযুগ পূর্তিতে ডক্টর আ ফ ম খালিদের শুভেচ্ছা বার্তা
Next post যশোরে ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্তদের ঘর-বাড়ি সংস্কার করে দিচ্ছে সেনাবাহিনী