জীবনসঙ্গী

জুলাই ২০, ২০১৭

মুহাম্মদ আবদুল আলিম


আরব নারীদের মধ্য থেকে এক বুদ্ধিমতী মায়ের গুরুত্বপূর্ণ কিছু উপদেশ আছে, যেগুলো খুব সংক্ষিপ্ত ও সমৃদ্ধ। এগুলো হচ্ছে উমামা বিনতে হারেসের উপদেশ। তাঁর মেয়ে উম্মে ইয়াস বিনতে আউফ যখন বিয়ের পর শ্বশুরবাড়িতে যাচ্ছিলেন, তখন তাঁকে তিনি এসব উপদেশ করেছিলেন। তিনি মেয়েকে বলেছিলেন,
হে আমার প্রিয় মেয়ে! কিছুক্ষণের মধ্যে তুমি সেই ঘর পরিত্যাগ করবে, যে ঘরে তুমি প্রতিপালিত হয়েছ, যেখানে তুমি পা পা করে বড় হয়েছ। নারী যদি পিতার ধন-সম্পদের অজুহাতে স্বামীর প্রয়োজন থেকে মুক্ত হতে পারত, তা হলে তুমি সবচেয়ে ধনী হতে; কিন্তু নারীকে পুরুষের জন্য এবং পুরুষকে নারীর জন্য সৃষ্টি করা হয়েছে।
প্রথম ও দ্বিতীয় উপদেশ: অল্পে সন্তুষ্ট থেকে জীবনসঙ্গীর সাথে আচার-ব্যবহার নির্ণয় করবে। তার কথা মনোযোগ দিয়ে শুনবে এবং তার আনুগত্য করবে।
তৃতীয় ও চতুর্থ উপদেশ: খেয়াল রাখবে, যাতে তোমাকে সুন্দর দেখায় এবং তোমার দেহ থেকে উত্তম খোশবু আসতে থাকে। তার দৃষ্টি যেন তোমার দেহের এমন স্থানে পতিত না হয়, যা দেখতে বিরক্তিকর। তোমার শরীর থেকে তার নাকে যেন শুধু খোশবুই প্রবেশ করে।
পঞ্চম ও ষষ্ঠ উপদেশ: তার আহার ও নিদ্রার সময়ের প্রতি খুব খেয়াল রাখবে। তীব্র ক্ষুধা গোস্বার আগুন জ্বালিয়ে দেয় এবং আরাম বিঘ্নিত হলে মানুষ ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে।
সপ্তম ও অষ্টম উপদেশ: স্বামীর চাকর-বাকর ও ছেলেমেয়ের দিকে খেয়াল রাখবে এবং তাঁর সম্পদ হেফাজত করবে। তাঁর সম্পদ হেফাজত করার অর্থ হচ্ছে তুমি তাকে কামনা কর এবং তাঁর চাকর-বাকর ও সম্পদের প্রতি খেয়াল রাখার অর্থ হচ্ছে তোমার মধ্যে শৃঙ্খলা আছে।
নবম ও দশম উপদেশ: স্বামীর কোন গোপন কথা কখনও ফাঁশ করবে না এবং তার কোন নির্দেশ অমান্য করবে না। কেননা, গোপন তথ্য ফাঁশ করলে তুমি তার রূঢ় আচরণ থেকে নিরাপদ থাকতে পারবে না। আর তার নির্দেশ অমান্য করলে তার অন্তরে তোমার উপর বিরক্তি সৃষ্টি হবে। মেয়ে আমার! সাবধান, স্বামী যখন হতাশ ও উদাস থাকবেন, তখন তাঁর সামনে আনন্দ প্রকাশ করবে না; আর যখন তিনি আনন্দিত থাকবেন, তখন নিজের চেহারা গোমরা করে রাখবে না।


ফেসবুক থেকে