৫০০ বছরের ঐতিহাসিক বাবরি মসজিদ ধ্বংসের জড়িত ছিলো যেসব হিন্দুত্ববাদী সংগঠন

নভেম্বর ৯, ২০১৯ মাহবুব শাহীন

ভারতের অযোধ্যার আলোচিত শহীদ বাবরি মসজিদ মামলার রায়ে মসজিদের জমিতে হিন্দুদের মন্দির নির্মাণ করতে আদেশ দিয়েছে দেশটির সুপ্রিম কোর্ট।

আজ শনিবার (৯ নভেম্বর) প্রধান বিচারক রঞ্জন গগৈর নেতৃত্বাধীন পাঁচ সদস্যের বেঞ্চ এই রায় দিয়েছে।

মামলার রায়ে বলা হয়েছে, কেন্দ্রীয় সরকারকে তিন মাসের মধ্যে একটি ট্রাস্ট গঠন করতে হবে। তাদের তত্বাবধানেই রামমন্দির নির্মিত হবে। এবং মসজিদ তৈরির জন্য অন্য জায়গায় মুসলিমদের জমি দেওয়া হবে। উগ্র হিন্দুত্ববাদীদের আজকের উল্লাস ছিলো শত বছরের ষড়যন্ত্রের প্রতিফলন।

১৫২৮ সালে মুঘল সম্রাট বাবরের সেনাপ্রধান মীর বাকী বাবরের নামানুসারে বাবরি মসজিদ নির্মাণ করেন। মসজিদটি মুসলিম বিশ্বের অন্যতম ঐতিহ্যের নিদর্শন। কিন্তু মুসলমানদের এ নিদর্শন নিয়ে উগ্র হিন্দুত্ববাদীরা বারবার ষড়যন্ত্র করে আসছিলো। কট্টর হিন্দুদের দাবি, তাদের দেবতা রাম ওখানে জন্ম নিয়েছে। তবে শহীদ বাবরি মসজিদের ঐ স্থানটির প্রত্নতাত্ত্বিক খননে দাবির সত্যতার কোন প্রমান পায়নি অধিদপ্তর। বিষয়টি মামলার রায়ে প্রধান বিচারক রঞ্জন গগৈর এভাবে তুলে ধরেছেন, বাবরি মসজিদের জায়গার স্থায়ী কোনো প্রমাণ মুসলিমরা দেখাতে পারেনি। এছাড়া খালি জায়গায় মসজিদ নির্মিত হয়নি। সেখানে একটি স্থাপনা ছিল। সেটি মন্দির কি না তা নিশ্চিত না হলেও সেটি ইসলামিক নয়। তাই মসজিদের স্থানে মন্দির নির্মিত হবে।

মুসলমানদের এ পবিত্র মসজিদ নিয়ে কট্টর হিন্দুত্ববাদী নেতারা যেমন ষড়যন্ত্রের জাল বুনছিলো, ঠিক তার সাথে দেশটির আদালত মদদ ‍দিয়েছে বরাবরের মত। ১৯৪৯ সালের ডিসেম্বরে মুসলমানদের মসজিদে প্রবেশে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। সেই মাসেই মসজিদের ভেতরে হিন্দু দেবতার মূর্তি পাওয়া যায়। মসজিদের ভেতরে মুসলমানদের নামাজ আদায়ে বিধিনিষেধ আরোপ করা হলেও হিন্দু ধর্মীয় নেতাদের সেখানে পূজার জন্য নিয়োগ দেয়া হয়েছিলো। তারা প্রথানুসারে দেবতাদের দেখভাল করে যাচ্ছিলেন।

১৯৯০ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর বিশ্ব হিন্দু পরিষদ তাদের রাজনৈতিক সহযোগী ভারতীয় জনতা পার্টি বিজেপিকে সঙ্গে নিয়ে ওই স্থানে রাম মন্দির নির্মাণের জন্য প্রচারাভিযান চালায়।

রাম মন্দির নির্মাণের জন্য কিছু শোভাযাত্রা ও মিছিল আয়োজন করা হয়েছিল। এসব শোভাযাত্রা ও মিছিলের মাঝে অন্তর্ভুক্ত ছিল রাম রথ যাত্রা, যার নেতৃত্বে ছিলেন বিজেপির হিন্দুত্ববাদী নেতা লাল কৃষ্ণ আদভানি।

এরপর ১৯৯২ সালের ৬ ডিসেম্বর বিশ্ব হিন্দু পরিষদ (ভিএইচপি), ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) এবং শিব সেনা পার্টির নেতারা দেশটির সুপ্রিম কোর্টের আদেশ অনুযায়ী বাবরি মসজিদ ক্ষতিগ্রস্ত হবে না এই প্রতিশ্রুতি দিয়ে মসজিদ সংলগ্ন এলাকায় একটি রাজনৈতিক সমাবেশ করে। এরপর সেখানে পরিকল্পিতভাবে উগ্র হিন্দুত্ববাদী ও মুসলিম বিদ্ধেষী ১৫০,০০০ জনের সম্মিলিত একটি দল মসজিদটি সম্পূর্ণরূপে ভূমিসাৎ করে শহীদ করে। পরবর্তীকালে অনুসন্ধান চালিয়ে দেখা যায় যে, তাদের মাঝে বিজেপি এবং ভিএইচপির উল্লেখযোগ্য নেতারও জড়িত ছিলেন।