তালিকা প্রকাশ : বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী ইসলামি ব্যক্তিত্ব এরদোগান, ৬ষ্ঠ মুফতী ত্বকী উসমানী

সেপ্টেম্বর ১৭, ২০১৯

ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম | সাঈদ মুহাম্মাদ


২০১৯ সালের বিশ্বের প্রভাবশালী ৫০০ ইসলামি ব্যক্তিত্বের তালিকা প্রকাশ করেছে বিখ্যাত জর্ডানের বিখ্যাত থিংকট্যাংক গ্রুপ রয়্যাল ইসলামিক স্ট্রাটেজিক স্টাডি সেন্টার।

তালিকার প্রথমে আছেন তুর্কি প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়িব এরদোগান। ২য় ও ৩য় নম্বরে আছেন সৌদি বাদশাহ সালমান ও জর্দানের বাদশাহ আব্দুল্লাহ। ১০ম নম্বরে আছেন কারান্তরীণ বিখ্যাত সৌদি আলেম শায়খ সালমান আল আউদার নাম।

তবে প্রকাশিত প্রথম পঞ্চাশজন ব্যক্তিত্বের মধ্যে বাংলাদেশের কারো নাম নেই।

রয়্যাল ইসলামিক স্ট্রাটেজিক স্টাডি সেন্টার (জর্ডান) ২০০৯ সাল থেকে প্রতি বছর বিশ্বে সবচে প্রভাবশালী ৫০০ ইসলামি ব্যক্তিত্বের তালিকা প্রকাশ করে। এই বছর ৫০০ মুসলিম ব্যক্তিত্বের তালিকায় সবচে বেশি এসেছে আমেরিকান মুসলিমদের নাম।

পাকিস্তানের প্রায় আঠারো জন ইসলামি ব্যক্তিত্বের নাম এসেছে জরিপে প্রকাশিত তালিকায়। ৬ষ্ঠ নম্বরে আছেন মুফতী ত্বকী উসমানী। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান আছেন ২৯ নম্বরে, আর মাওলানা তারিক জামিলের নাম ৪০ নম্বরে।

সৌদি যুবরাজ মুহাম্মাদ বিন সালমান আছেন ১৩ নম্বরে। আরব আমিরাতের যুবরাজ মুহাম্মাদ বিন যায়েদ ১৫ নম্বরে। আর হিযবুল্লাহ প্রধান হাসান নাসরুল্লাহ আছেন ২৩ নম্বরে।

প্রভাবশালী ইসলামি ব্যক্তিত্তের নামের তালিকায় ভারতের নির্বাসিত ইসলামি ব্যক্তিত্ব বিখ্যাত দায়ী ডক্টর জাকির নায়েকের নামও আছে। এছারাও মিশরের ফুটবলার মুহাম্মাদ সালিহের নামও আছে ৪৬ নম্বরে।

তালিকায় পাকিস্তানের পরমাণু বিজ্ঞানী ডক্টর আব্দুল কাদের, সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফ, জমিয়ত প্রধান মাওলানা ফজলুর রহমান, জামায়াতে ইসলামির আমির সিরাজুল হক প্রমুখের নামও স্থান পেয়েছে।

তবে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মুহাম্মাদের নাম তালিকায় অনেক পরে ৪৪ নম্বরে। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনির নাম এসেছে ৪র্থ নম্বরে। ভারতের মাহমুদ মাদানি ৩২ নম্বরে। শায়খ ইউসুফ কারদাবি ৩০ নম্বরে। তালিকায় সরকার পন্থী সিরিয়ার বিতর্কিত ইসলামি স্কলার হামযাহ ইউসুফের নামও আছে।

সূত্র : রয়্যাল ইসলামিক স্ট্রাটেজিক স্টাডি সেন্টার জর্ডান



আরব আমিরাত : মুসলিম উম্মাহর বিরূদ্ধে ষড়যন্ত্রের আঁতুরঘর

ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম | সাঈদ মুহাম্মাদ


যুবরাজ মুহাম্মাদ বিন জায়েদ। আমিরাতের প্রতিষ্ঠাতা জায়েদ বিন সুলতান আল নাহিয়ানের পুত্র। তিনি আরব–আমিরাতের ক্রাউন প্রিন্স, সশস্ত্র বাহিনীর উপ সুপ্রিম কমান্ডার এবং আরো রাষ্ট্রীয় স্পর্শকাতর পদের দায়িত্বে আছেন।

১৯৬১ সালে জন্ম। ১৯৭৯ সালে যুক্তরাজ্যের সানহার্স্ট রয়্যাল মিলিটারি একাডেমি থেকে স্নাতক শেষ করেন। এখানে সাঁজোয়া, বিমান চালনা এবং প্যারাট্রুপসের উপর প্রশিক্ষণ নেন।

আরব–আমিরাত একটি দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয় যুবরাজ মুহাম্মাদের পিতা শেখ জায়েদ বিন সুলতান আল নাহিয়ানের আমলে। তার পিতা বেশ সুনামের সাথে শাসন করেছেন। বিশেষত আরব বিশ্বে আবুধাবির বিশেষ সুখ্যাতি ছিল। ভিন্ন রাষ্ট্রের “বিশেষ” বিষয়াদি নিয়ে তার কোনো আগ্রহ ছিলনা। সামাজিক কল্যাণমূলক কাজে বড় পরিসরে ব্যয় করতেন।

জায়েদ বিন সুলতান আল নাহিয়ান

শেখ জায়েদের পর ক্ষমতায় আসেন যুবরাজ মুহাম্মাদের বড় ভাই খলিফা বিন জায়েদ। ২০১৪ সালে স্ট্রোক পরবর্তী অপারেশনের পর থেকে তিনি আর জনসম্মুখে আসেন না। এখন আমিরাতে যুবরাজ মুহাম্মাদের ইশারায় সবকিছু হয়। আরব–আমিরাতকে পুলিশি রাষ্ট্রে রূপান্তর করে তিনি জনগণের মুখ সেলাই করে দিয়েছেন।

বিদেশী রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বিষয়াদি বিশেষত ডানপন্থী বিভ্রান্ত খৃষ্টবাদ, জায়োনিজম ও হিন্দুত্ববাদের ইসলাম বিরোধী প্রজেক্টগুলোয় তার প্রচন্ড আগ্রহ। এই তিন দুষ্টচক্রের সাথে মিলে ইসলামপন্থীদের দমন করতে মুসলিম বিশ্বের অঞ্চলে অঞ্চলে তার ইন্ধনে এমন গৃহ বিবাদ, সংঘর্ষ এবং যুদ্ধ বেঁধেছে যার অসহায় বলি হয়েছে কেবলই সাধারণ মুসলমানগণ। লক্ষ লক্ষ মুসলমান গৃহহীন হয়েছেন, আজীবনের জন্য পঙ্গু হয়েছেন, নিহত হয়েছেন। শুধু ইয়েমেনেই না খেয়ে মারা গেছে ৮৬ হাজার শিশু।

সাম্প্রতিক সময়ে কাশ্মীর ইস্যুতে সারা পৃথিবীর মানুষ ভারতের বিরূদ্ধে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিল। গত ৫ আগস্ট স্বায়ত্ব শাসন সংক্রান্ত কাশ্মীরের বিশেষ সুবিধা বাতিল করে মুসলিম দেশটিকে গিলে ফেলেছে ভারত। আর এই চক্রান্তের সহযোগী হিসেবে শুরু থেকেই ভারতের পাশে আছে আরেক সন্ত্রাসী রাষ্ট্র ইসরাইল।

ইসরাইলের সাথে ইসলাম বিদ্বেষী নরেন্দ্র মোদির সখ্য গড়ে ওঠা খুবই স্বাভাবিক এতে কেউ আশ্চর্য হয়নি। কিন্তু শুধু ইসরাইল নয় মুহাম্মাদ বিন জায়েদও পাশে ছিল ভারতের। সে সময়ে একটি আরব মুসলিম দেশ হওয়া সত্বেও মোদিকে সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মাননা দিয়ে ইসরাইল–ভারতের পাশে থাকার সদম্ভ ঘোষণা দিয়েছে আরব–আমিরাত।

ক্ষমতা কারো ক্ষেত্রেই চিরস্থায়ী নয়। কিন্তু এই শাসকেরা পোষ্যদের জন্য কেয়ামত পর্যন্ত মসনদের নিরাপত্তা চান। এটা করতে গিয়ে উম্মাহর পিঠে নির্দ্বিধায় ছুড়ি বসিয়ে দেন।

কাশ্মীরে তখন লাগাতার কারফিউ। গণগ্রেফতার, সেনা বৃদ্ধি, সামাজিক দ্বেষ তৈরী করে এবং টেলিফোন–ইন্টারনেটের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে কাশ্মীরীদের ভারত এবং তাবৎ দুনিয়া থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছে। এমনকি জেনোসাইড ওয়াচ করে করে এমন কোনো কোনো সংগঠন কাশ্মীরে এথনিক ক্লিনজিং হতে পারে এমন পূর্ব সতর্কতা জারি করেছে।

এরকম সময়ে আরব-আমিরাত দাওয়াত করে নিয়ে মোদিকে সোনার মালা পড়িয়ে দিলো। এটা কিসের পুরষ্কার? বাংলাদেশ, শ্রীলংকা, মালদ্বীপ, মায়ানমার, আসাম, কাশ্মীরে ইসলামপন্থীদের ফাঁসি, জেল, গণহত্যা, ধর্ষণ, দেশান্তর করে আচ্ছামত সাইজ করতে পেরেছে তার প্রতিদান দেওয়া হল গুজরাটের কশাইকে?

সম্ভবত মুসলিম উম্মাহ শত্রুদের চূড়ান্ত শিকারে পরিণত হওয়ার মুহুর্তে উপনীত হয়েছে, তাই ঘরের শত্রুরা এখন নিজেদের আড়ালে রাখার কোনো প্রয়োজন আছে মনে করছে না।

খলিফা বিন জায়েদ বিন সুলতান আল নাহিয়ান

আরেকটি বিষয় হলো এই শাসক শ্রেণীর ধারণা হয়েছে যে, উম্মাহর বৃহত্তর অংশ ভোগবাদিতার জালে এমন ভাবে আটকে গেছে যে, প্রতিরোধ তৈরী করার মত শক্তি এই জাতির মধ্যে আর নেই। তাই গাদ্দার শাসকদের আচরণে পরোয়াহীন ঔদ্ধত্য চলে এসেছে।

রাজনৈতিক, সামাজিক, ধর্মীয় এমনকি ফিলিস্তিন, কাশ্মীর, আফগানিস্তান বা উইঘুরের মুসলমানদের অধিকার আদায়ের যে ন্যায়সঙ্গত লড়াই অজানা কারণে এগুলোরও বিরুদ্ধে অবস্থান মোহাম্মাদ বিন জায়েদের। তিনি বরং মুসলমানদের জাগরণের প্রচেষ্টাকে রুখে দিতে প্রত্যেক অঞ্চলে মুসলমানদের স্থানীয় শত্রুদের সাথে সখ্যতা গড়ে তুলেছেন।

পিতা জায়েদ বিন সুলতান আল নাহিয়ানের সাথে যুবরাজ মুহাম্মাদ বিন জায়েদ

মিশরে সিসির সাথে হাত মিলিয়েছেন, উদ্দেশ্য ইখওয়ানুল মুসলিমিনকে শায়েস্তা করা। হাফেজ মোহাম্মদ মুরসির সরকারকে উৎখাতের জন্য সিসিকে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সহযোগিতা দিয়েছে আরব–আমিরাত।

লিবিয়ায় আরব–আমিরাত সহযোগিতা করেছে কট্টর ইসলামবিরোধী মিলিশিয়া হাফতারকে। হাফতারের মিলিশিয়াকে অস্ত্র দিয়েছেন মোহাম্মাদ বিন জায়েদ।

আল জাযিরার অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, মুহাম্মাদ বিন জায়েদ প্রথমে ইয়েমেনের হুথিদের সহযোগিতা করেছেন সুন্নি সরকারের বিরূদ্ধে বিদ্রোহ করতে। আবার এই হুথিদের বিরুদ্ধে সৌদি নেতৃত্বাধীন সম্মিলিত বাহিনীকেও অর্থায়ন করেছেন তিনি।

বড় ভাই খলিফা বিন জায়েদ বিন সুলতান আল নাহিয়ানের সাথে যুবরাজ মুহাম্মাদ বিন জায়েদ

গালফে প্রতিবেশি দেশ আম্মানের সেনা এবং প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনার উপর গোয়েন্দা জাল বিছিয়েছিলেন। আম্মানের জাতীয় সংবাদসংস্থার তদন্তে বিষয়টি ফাঁস হয়ে যায়।

যুক্তরাষ্ট্রে আমিরাতের রাষ্ট্রদূত ইউসুফ উতাইবার সাথে মার্কিন সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী রবার্ট গেটসের কিছু তাঁর বার্তা ফাঁস হয়ে যায়। সেখানে কাতারের বিরূদ্ধে তাকে চক্রান্তে লিপ্ত দেখা যায়। এই উতাইবা মুহাম্মাদ বিন জায়েদের ঘনিষ্ঠ বন্ধু। সে রবার্ট গেটসকে লাঞ্চের আমন্ত্রণ জানায়। সেখানে মোহাম্মদ বিন জায়েদের একটি পত্র তাকে হস্তান্তর করে। সেখানে রবার্ট গেটসকে শুভেচ্ছা জানানোর পর কাতারের উপর “জাহান্নামের দরজা” খুলে দিতে তাকে মুহাম্মাদ বিন জায়েদ আহবান করেন। এর পরপর কাতারের বিরূদ্ধে অবরোধ আরোপ করা হয়।

যুবরাজ মুহাম্মাদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান ও মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও

উইকিলিকসের ফাঁস করা তথ্যে জানা যাচ্ছে, আরবের জনমতকে তাবেদার রাজরাদের বিরূদ্ধে ব্যবহারের সুযোগ বন্ধ করতে কাতারের আল জাযিরার অফিস বোমা মেরে উড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা এটেছিলেন এই যুবরাজ। আফগানিস্তানে আমেরিকার যুদ্ধাপরাধের দৃশ্যগুলো যেন ধারণ না করতে পারে সে জন্য সে সাংবাদিক প্রবেশে বাঁধা দিতে পরামর্শ দিয়েছিলেন। আফগানিস্তানে যে আল জাযিরার অফিস দু’ দু’বার বোমা হামলার শিকার হয়েছে তার পিছনেও আমিরাতের ইন্ধন ছিল।

তুরষ্কে এরদোগানের বিরূদ্ধে অভ্যুত্থান প্রচেষ্টায় তার চক্রান্ত এবং বিপুল অর্থ ছিল। মিশরের ইখওয়ানুল মুসলিমিন,ফিলিস্তিনের হামাসকে ধ্বংস করার জন্য তার প্রাণান্তকর প্রচেষ্টা আছে।

আর এই প্রত্যেক ষড়যন্ত্রে ছায়ার মত তাকে সঙ্গ দিচ্ছে আরেক উচ্চাভিলাষী যুবরাজ সৌদির মুহাম্মাদ বিন সালমান।

যুবরাজের পরিবারের সদস্যরাই আমিরাতের রাষ্ট্রীয় স্পর্শকাতর পদগুলো নিয়ন্ত্রণ করেন। পরিবারের প্রত্যেকেই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে আছেন। পাঠকদের জন্য নিচে যুবরাজের পরিবারের একটি চিত্র দেওয়া হল।

ক্যাথোলিক খ্রিষ্টানদের প্রধান ধর্মগুরু পোপ ফ্রান্সিস ও যুবরাজ মুহাম্মাদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান

ইয়েমেনে নির্বিচারে বেসামরিক লোকজন হত্যার জন্য ফ্রান্সের একটি মানবাধিকার সংগঠন যুবরাজের বিরূদ্ধে যুদ্ধাপরাধের মামলা দায়ের করেছিল। মানাবাধিকার সংগঠনটির অভিযোগ হচ্ছে, আরব–আমিরাত এ যুদ্ধে যে পদ্ধতি অনুসরণ করছে অর্থাৎ ব্যাপক ও নির্বিচার বোমা বর্ষণ সামরিক বাহিনীর উপপ্রধান হিসেবে এর দাঁয় তিনি এড়াতে পারেন না।

মুসলমানদের ধর্মীয় নেতাদের সাথে বৈরী সম্পর্ক থাকলেও অন্য ধর্মের নেতাদের সঙ্গে যুবরাজের যথেষ্ট প্রীতির সম্পর্কআছে। মোহাম্মদ বিন যায়েদের আমন্ত্রণেই প্রথমবারের মতো আরব আমিরাত সফরে আসেন খ্রিষ্টানদের শীর্ষ ধর্মীয় নেতা পোপ ফ্রান্সিস।

তবে আফগানিস্তানে যুবরাজের মিশন ব্যর্থ হয়েছে। তালেবানের প্রভাবশালী নেতাদেরকে ভাড়াটে গুণ্ডা দিয়ে হত্যা করার প্লান ছিল মোহাম্মাদ বিন যায়েদের। কিন্তু আফগানিস্তানের রুক্ষ পাহাড়ে যুবরাজের প্রাসাদীয় আহ্লাদ সুবিধা করতে পারেনি।

ইতিহাসের অবধারিত চরিত্র হল ভবিষ্যতের ঘটনাপ্রবাহে এর পুণ: পুণরাবৃত্তি ঘটে। আরবের যুবরাজদের জন্য ভবিষ্যত তার ডালা কি দিয়ে সাজিয়ে রেখেছে তা দেখতে হয়তো আরো কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে