মুহাম্মাদ গোলাম রব্বানী ইসলামাবাদী |  গবেষক ও রাষ্ট্রচিন্তক


সম্ভাব্য একটি চুক্তির কাছাকাছি এসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তালিবানের সাথে চুক্তির আলোচনা বাতিল করে কী লক্ষ্য অর্জন করতে চাচ্ছেন? আন্তর্জাতিক সংবাদ-মাধ্যমের আলোচনাগুলো শুনলে মনে হয় না, আমেরিকা চুক্তিকরা থেকে স্থায়ীভাবে সরে আসবে। তালিবান ইতোমধ্যে প্রতিক্রিয়া দেখাতে গিয়ে বলেই দিয়েছে, এতে ক্ষতি তালিবানের নয়, খোদ আমেরিকার। কথাটি অতিরঞ্জন নয়। ভূমিচিত্র দেখলে বোঝা যায়, তালিবান এখন আফগানিস্তানে বেশ সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তালিবান যেভাবে এগুচ্ছে তাতে তারা কোন চুক্তি না মানলেও বড় সমস্যায় পড়বে বলে মনে হয় না। সমস্যায় পড়বে বিদেশীশক্তি ও ঘানির সরকার। তালিবানের কূটনৈতিক ও আন্তার্জাতিক জ্ঞান দেখে আমার অবাক হতে হয়। অন্য কেউ হলে এমন অবস্থায় নিজেরাও চুক্তি থেকে সরে আসার ঘোষণা দিয়ে দিতো বলে মনে হয়। কিন্তু তালিবান তা না করে বল আমেরিকার দিকে ঠেলে দিলো। এতে তালিবান বিশ্বকে দেখিয়ে দিচ্ছে তারা আফগানিস্তানে শান্তি চায় বলেই ট্রাম্পের বিপরীতে চুক্তি থেকে সরে আসার ঘোষণা দেয়নি। এখন ট্রাম্পকেই প্রমাণ করতে হবে, তারা আসলেই আফগানিস্তানে শান্তি চায়। তালিবানের আরেকটি বিজ্ঞতার প্রমাণ হলো, ভবিষ্যতে যদি তারা বন্দুকের মুখে কাবুল দখলও করে ফেলে তাতে আন্তর্জাতিকমহল কড়া কোন অবস্থান নিতে পারবে না। তারা তা চাইলেও তালিবান বলবে: আমরা তো চুক্তি করতে চেয়েই ছিলাম। আমার মনে হয়, ট্রাম্পের চুক্তির আলোচনা থেকে সরে আসা পাশ্চাত্যের মিত্রদের থেকে সমর্থন পাবে না। কারণ, উক্ত চুক্তির বলেই অন্যান্য ন্যটোভুক্ত দেশও আফগানিস্তান থেকে বেরিয়ে আসার পথ খোঁজার উপায় পেতো। এখন বাকিরাও সমস্যায়।

আরেকটি বিষয় হলো, তালিবান এখন চাপমুক্ত হয়ে নিজেদের মতো করে কাবুল দখলের পথচিত্র তৈরি করবে। তাতে কেউ আন্তর্জাতিকতার দোহাই দিয়ে তালিবানের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারবে না। হতে পারে, সব কিছু বিবেচনা করে ট্রাম্প চুক্তির পথে ফিরে আসবে। কারণ, যদিও ট্রাম্প ভেতরে-বাইরের চাপ সামাল দিতে এমন সিদ্ধান্ত নিলেন কিন্তু বিলক্ষণ বুঝতে পারছেন আফগানিস্তানের মাটি দিনদিন উত্তপ্ত হচ্ছে। তাই যতো তাড়াতাড়ি বেরুনো যাবে ততোই মঙ্গল। এখন বিদেশী বাহিনীর ইজ্জত রক্ষার চেয়ে জান বাঁচানো ফরয। ইতোমধ্যে বিশ্ব জেনে গেছে আফগানিস্তানে মার্কিন নেতৃত্বাধীন ন্যাটো বাহিনী তালিবানের কাছে পরাজিত হয়েছে। সর্বোপরি তালিবান যে কোন সন্ত্রাসীগোষ্ঠী নয়, তাও আমেরিকা স্বীকার করে নিয়েছে।