‘তিনি কোয়ারেন্টাইনে থেকে কি বিএনপির সমালোচনা ছাড়া কিছুই বোঝেন না’

‘এই সংকটময় সময়ও বিএনপি জনগণের পাশে নাই। তারা সরকারের সমালোচনা করে এই সংকটময় পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক ফায়দা লোটার অপতৎপরতায় লিপ্ত।’ সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের এমন বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, আমি বলতে চাই- গণতন্ত্রকে যাদুঘরে পাঠিয়েছেন বলেই সরকারের ব্যর্থতা তুলে ধরাকে অপতৎপরতা হিসেবে অভিহিত করছেন। সরকারের ব্যর্থতা তুলে ধরে সমালোচনা করাকে প্রকৃত গণতন্ত্রে অপতৎপরতা হিসেবে গণ্য করে না। আপনাদের গণতান্ত্রিক মানস নেই বলেই সমালোচনা শুনলেই ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। এই মহাদুর্যোগে যখন মানুষ জাতীয় ঐক্যের কথা বলছে তখন ওবায়দুল কাদেরের বক্তব্য বিভাজন ও বিভেদেরই প্রতিফলন। কি কারণে যেন আপনারা সমালোচনার শঙ্কায় অস্থির থাকেন। আমার প্রশ্ন তিনি কোয়ারেন্টাইনে থেকে কি বিএনপির সমালোচনা ছাড়া কিছুই বোঝেন না? যখন করোনার প্রাদুর্ভাব শুরু হলো তখন আমরাই রাজপথে নেমেছি, সারাদেশের সর্বত্রইা প্রথম সচেতনতা শুরু করেছি।

বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) সকালে রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক ভিডিও কন্ফারেন্সে তিনি এসব কথা বলেন।

রিজভী বলেন, সম্মিলিত প্রচেষ্টা ছাড়া প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাস মোকাবিলা করা যাবে না। তাই সঠিক তথ্য দিয়ে এই রোগের ভয়াবহতা বুঝিয়েই জনগণকে কোয়ারেন্টাইন মেনে চলতে অনুপ্রাণিত করতে হবে। করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধ, সুরক্ষা ও প্রতিকারে সরকারের পরিকল্পনা সম্পর্কে প্রকৃত তথ্য দিয়ে মানুষের আস্থা তৈরি করা উচিত। সরকারের তথ্য গোপন পলিসির সমালোচনা করার কারনে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে গত কয়েকদিনে বিএনপির ১২ নেতাকর্মী ও চিকিৎসকদের গ্রেফতার করা হয়েছে। অবিলম্বে তাদের মুক্তি দিন।

তিনি বলেন, গতকাল বুধবার পর্যন্ত সারাদেশে ১৭৫৯ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ৫৪ জনের মধ্যে কোভিড-১৯ এর সংক্রমণ ধরা পড়েছে। বাংলাদেশে সামাজিক পর্যায়ে সংক্রমিত হচ্ছে বলে স্বীকার করলেও তা মৃদু মাত্রায় রয়েছে বলে দাবী করেছে সরকারের স্বাস্থ্য বিভাগ। সরকার বলছে-সবকিছু নিয়ন্ত্রণে, পশ্চিমা মিডিয়া বলছে-আগামী দুই সপ্তাহ বাংলাদেশের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। বাংলাদেশের গণমাধ্যমও এ ব্যাপারে ওয়াকিবহাল। মৃত্যু হানা দিচ্ছে দেশে দেশে। আর করোনা যদি এখনি কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ না করা যায় তবে তা ভয়াবহ পরিণতি বয়ে আনবে। ইতোমধ্যে বিদেশী কুটনীতিকরা দলে দলে ঢাকা ছাড়ছেন। আমরা মনে করি সরকারের নীতির কারণেই দেশের করোনা পরিস্থিতির আসল চিত্র ফুটে উঠছে না। ভেতরে ভেতরে সংক্রমণ হতে থাকলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যেতে পারে। আজকের পত্রিকায় খবর বেরিয়েছে, গতকাল ২৪ ঘন্টায় করোনার উপসর্গ জ্বর, সর্দি, কাশি, গলাব্যথা ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে মারা গেছেন বেশ কয়েকজন। আর সরকারী হিসাবে মারা গেছে একজন।