মৃত্যুর আগে তুরস্ককে ফিলিস্তিনের পক্ষে থাকার আহ্বান জানিয়েছিলেন ইয়াসির আরাফাত

নভেম্বর ১০, ২০১৯

ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম | আরিফ মুসতাহসান


মৃত্যুর ৫ মাস পূর্বে ধর্মীয় নগরী আল কুদস ও বাইতুল মুকাদ্দাসের পক্ষে লড়াই করার জন্য তুর্কী সরকারকে আহ্বান জানিয়েছিলেন ফিলিস্তিনের সাবেক প্রেসিডেন্ট ইয়াসির আরাফাত।

১১ নভেম্বর ২০০৪ সালে ৭৫ বছর বয়সে ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে মৃত্যুবরণ করেন ফিলিস্তিনের এই বিপ্লবী নেতা। তাঁর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আনাদোলু এজেন্সির সামমে সেই স্মৃতি তুলে ধরলেন তুরস্কের ততকালীন সাংসদ হুসাইন তানরিভের্দি।

আনাদোলুকে হুসাইন বলেন, আমি ২০০৪ সালের মে মাসে ফিলিস্তিনের রামাল্লায় গিয়েছিলাম। সেখানে তাঁর কার্যালয়ে আমি যাই। যেখানে তিনি ইহুদিবাদী অবৈধ রাষ্ট্র ইসরাইলের সেনাবাহিনী কর্তৃক গৃহবন্দী ছিলেন।

রামাল্লা থেকে ফেরার পথে তিনি আমার কাছে একটি চিঠি ধরিয়ে দেন। যাতে তিনি তুর্কী সরকারের কাছে অনুরোধ জানান যাতে তুরস্ক ফিলিস্তিনের পাশে থাকে।

এতে এরকম লিখা ছিল, আপনারা হচ্ছেন এমন জাতি (উসমানিয়া) যারা ইতিহাসের বিভিন্ন সময় আল আকসাকে রক্ষা করেছেন। আপনারাই একে ‘হারাম আল শারীফ’ নামে অভিহিত করেছেন। এটা মুসলিম বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ, তাই এর দায়িত্ব আপনাদেরকেই নিতে হবে। আপনারা দীর্ঘ ৪০০ বছর যেভাবে আল কুদসকে রক্ষা করেছেন, ভবিষ্যতে সেভাবেই করবেন আশাকরি।

ইয়াসির আরাফাত ফিলিস্তিন লিবারেশন অর্গানাইজেশনের প্রতিষ্ঠাতা। এর মাধ্যমে তিনি সারাজীবন ইহুদিবাদী অবৈধ রাষ্ট্র ইসরাইলের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করে গেছেন। তবে তিনি ইসরাইলের সাথে শান্তি আলোচনা করে অনেকের কাছে বিতর্কিত হয়েছেন।

কিন্তু তিনি নতজানু নীতি অবলম্বন করেও ইহুদিবাদী অবৈধ রাষ্ট্র ইসরাইলের আগ্রাসন থেকে রেহাই পাননি। প্রায় ২ বছর রামাল্লায় ইসরাইলী বাহিনীর কাছে গৃহবন্দী থেকে ২০০৪ সালের ১১ নভেম্বর প্যারিসের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন।

প্রাথমিকভাবে ডাক্তারগণ বার্ধক্যজনিত রোগ ও স্বাভাবিক মৃত্যুর কথা বললেও পরবর্তীতে সুইজারল্যান্ডের বিজ্ঞানীরা গবেষণা করে তাঁর শরীরে বিষাক্ত পদার্থ খুঁজে পান। যা মানবদেহের সহনীয় মাত্রার চেয়ে ১৮ গুণ বেশি। তাই বলা হয়ে থাকে ফিলিস্তিনি এই নেতাকে ষড়যন্ত্র মূলক বিষ প্রয়োগে হত্যা করা হয়েছে।