দেশের ভেতরে ধর্মভিত্তিক দল নিষিদ্ধ না হলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কেন তা নিষিদ্ধ হবে ?

সেপ্টেম্বর ২৭, ২০১৯

মিনার রশীদ


ইউরোপ সহ পৃথিবীর সব গণতান্ত্রিক দেশেই ধর্মভিত্তিক দল রয়েছে । আমাদের পাশের দেশ ইন্ডিয়ায় একটি ধর্মভিত্তিক দল তো পর পর দুইবার ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়েছে এবং বহাল তবিয়তে আছে । ধর্মভিত্তিক রাজনীতির প্রতি অতি এলার্জিক এদেশের সুশীল সমাজ এদের নিয়ে কোনোরূপ মাইন্ড করে না । হিন্দু – বৌদ্ধ-খ্রীষ্টান ঐক্য পরিষদও তো স্পষ্টতই একটি ধর্মভিত্তিক দল । এদের কর্মকান্ডও কি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নিষিদ্ধ হবে ?

আমাদের দেশেও ধর্মভিত্তিক দল নিষিদ্ধ নয় । সেখানে এই দেশের মানুষের করের টাকায় পরিচালিত একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ এমন একটি আইন কীভাবে করে ?

পরমত সহিষ্ণুতা গণতন্ত্রের পূর্ব শর্ত । দেশের মধ্যে সবচেয়ে অগ্রসর চিন্তার মানুষের মাঝে চিন্তার এই দৈন্যতা সত্যি হতাশাজনক !

একটি দেশের সবার ভাবনা একইরূপ হবে না । একটি জ্ঞানভিত্তিক সমাজে চিন্তার এই ভিন্নতা গণতন্ত্রের অপার আশীর্বাদ হিসাবেই বিবেচিত হয় ।
আপনাকে কেউ বলে নাই যে আপনাকে ধর্ম ভিত্তিক রাজনীতি করতে হবে । কিন্তু কেউ করতে চাইলে আপনি বাঁধা দেওয়ার কে ?

“আমি তোমার চিন্তার সাথে একমত নাও হতে পারি । কিন্তু তোমার মতামত প্রকাশের জন্যে প্রয়োজনে নিজের জীবন দিতেও প্রস্তুত আছি । “ গণতন্ত্রের এই আপ্ত বাক্যটি উচ্চারণ কর লে কিংবা স্মরণ করালে আমিও কি রাজাকার হয়ে পড়ব ? এই ভয় থেকেই কি এই দেশের বিবেকরা এই বেলায় চুপ মেরে যাবেন ? এভাবেই কি আমরা বুদ্ধিবৃত্তিক ভাবে একটি পঙ্গু জাতি হয়ে পড়ছি না ??

বুদ্ধিবৃত্তিক এই পঙ্গুত্ব/ অসহায়ত্ব সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ছে !

আপনার মনোমত না হলে আপনি যে কোনো মতাদর্শের বিরোধিতা করতে পারেন । নিজের মতের পক্ষে ক্যামপেইনও করতে পারেন কিন্তু আইন করে / গায়ের জোরে / প্রশাসনিক ক্ষমতার জোরে অপরের রাজনৈতিক মতাদর্শ চাপা দিয়ে রাখতে পারেন না ।
এই ধরনের ফ্যাসিবাদি কার্যকলাপকে সমর্থন করব আবার একই সঙ্গে নিজেকে উদার গনতান্ত্রিক বলে প্রচার করব – এগুলি বুদ্ধিবৃত্তিক দেউলিয়াপনা ছাড়া আর কিছু নয় । স্বাধীনতার পর থেকেই বুদ্ধিবৃত্তিক এই লাঠিয়ালপনা পুরো জাতিকে মেন্টালি রিটার্ডেড করে রেখেছে । তারই ফলাফল আজ সমাজের সর্বত্র প্রতিফলিত !

খোদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় যাদের পারিবারিক জমির উপর প্রতিষ্ঠিত , যিনি এই বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল প্রতিষ্ঠাতা সেই নবাব সলিমুল্লাহ নিজেও এই উপমহাদেশে একটি ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দল প্রতিষ্ঠা করেছিলেন । সেই দলটির নাম মুসলিম লীগ । আজ সেই প্রতিষ্ঠানে বসেই ধর্মভিত্তিক রাজনীতি বন্ধ করার আইনটি করা হচ্ছে !!

বি.দ্র. : অনেকেই বিষয়টি নিয়ে ঢাকসুর ভিপি নুরুরও সমালোচনা করছেন। নুরু এবং তার সংগঠনটি ছাত্রশিবিরের সাথে সংশ্লিষ্ট – এটি প্রমাণের জন্যেই সম্ভবত এই আয়োজনটি করা হয়েছিল। আমার মতে নুরু এই পরীক্ষায় পাশ করেছে ।

ফেসবুক থেকে নেয়া