দেশে কোটি কোটি মুসলিম ছাত্র-ছাত্রীকে হিন্দুতত্ত্ব শেখানো হচ্ছে: আল্লামা আহমদ শফী

মার্চ ৩, ২০১৬

ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম | ডেস্ক রিপোর্ট


ইসলামী সেবামূলক সংগঠন চট্টগ্রাম হাটহাজারী আল-আমিন ফাউন্ডেশন কর্তৃক আয়োজিত দুই দিন ব্যাপী ঐতিহ্যবাহি বিশাল তাফসীরুল কুরআন মাহফিলের প্রথম দিনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে হেফাজতে ইসলামের আমীর শাইখুল ইসলাম আল্লামা শাহ আহমদ শফী বলেছেন, ইসলামী শিক্ষা, আদর্শ ও ধর্মীয় চেতনাবোধ ধ্বংস করে এ দেশে নাস্তিক্যবাদ প্রতিষ্ঠা ও ভোগবাদিতা বিস্তারের এক গভীর ষড়যন্ত্র চলছে।

শাইখুল ইসলাম বলেন, উলামা-মাশায়েখের বিরুদ্ধে নানা নেতিবাচক অপপ্রচার চালিয়ে গোটা আলেম সমাজকে জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা চলছে। সংবিধান থেকে মহান আল্লাহর উপর আস্থা-বিশ্বাসের ধারা বিলোপ ও রাষ্ট্রীয়ভাবে ধর্মনিরপেক্ষপতা প্রতিষ্ঠার মধ্যদিয়েই এই ষড়যন্ত্রের যাত্রা শুরু। এরপর ইসলামের উপর সবচেয়ে বড় আঘাত হানা হয়েছে ধর্মহীন জাতীয় শিক্ষানীতি প্রবর্তন এবং সংস্কৃতির নামে নগ্নপনা ও বেহায়াপনা তথা ভোগবাদিতা বিস্তারের মাধ্যমে।

তিনি বলেন, দেশের স্কুল-কলেজ ও ইউনির্ভার্সিটিগুলোতে কোটি কোটি মুসলমানের সন্তান কী পড়ছে, অভিভাবকরা জানেন না। স্কুল-কলেজগুলোতে এখন ইসলামী পরিভাষা, ইতিহাস, সংস্কৃতি বাদ দিয়ে নাস্তিকতা ও হিন্দুত্ববাদের তত্ত্ব শেখানো হচ্ছে। ইসলাম ও মুসলমানদেরকে কটাক্ষ করে যারা নিয়মিত লেখালেখি করে, তাদের লেখা প্রায় প্রত্যেক শ্রেণীর পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। প্রথম শ্রেণী থেকে দ্বাদশ শ্রেণী পর্যন্ত গল্প ও কবিতার সংখ্যা ১৯৩টি। এর মধ্যে হিন্দু ও নাস্তিক্যবাদিদের লেখার সংখ্যা হলো ১৩৭টি। অবশিষ্ট লেখার মধ্যেও ইসলামী ভাবধারার সাথে সঙ্গতিপূর্ণ কোন লেখা নেই। জাতীয় শিক্ষাবোর্ডসহ অন্যান্য সকল বোর্ডের শীর্ষপদগুলোতে সংখ্যালঘুদেরকে বসানো হয়েছে। প্রধান বিচারপতিসহ হাইকোর্টের বিচারপতি, জনপ্রশাসনের অনেক গুরুত্বপূর্ণ পদে সংখ্যালঘুদের নিয়োগের হার রহস্যজনকভাবে বহুলাংশে বৃদ্ধি করা হয়েছে। এছাড়াও জেলা-উপজেলা পর্যায়ে ডিসি, ইউএনও, পুলিশ সুপার, এসপি, এএসপি, ওসি ও সাব ইন্সপেক্টরসহ প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলাবাহীনির অনেক গুরুত্বপূর্ণ পদে সংখ্যালঘুদের হার দিন দিন বেড়েই চলেছে। এটা দেশ থেকে ইসলামী চেতনাবোধ মুছে ফেলা ও নাস্তিক্যবাদি নীতি প্রতিষ্ঠার এক গভীর ষড়যন্ত্র ছাড়া আর কিছু নয়।

শাইখুল ইসলাম আরো বলেন,  ৯১ ভাগ মুসলমানের দেশে গরু জবাই নিষিদ্ধের দুঃসাহস দেখাতে পারছে মুষ্টিমেয় সংখ্যালঘু। এর মধ্যে আদালতের উপর ভর করে রাষ্ট্রধর্ম ইসলামকে বাতিল করার ষড়যন্ত্রও শুরু হয়েছে। এভাবে চলতে থাকলে, আমাদের ভবিষ্যত প্রজন্ম ধর্মহীন নাস্তিক্যবাদি মানসিকতা নিয়েই গড়ে ওঠবে এবং ঈমান-আমল নিয়ে ইসলাম চর্চা করা মুসলমানদের জন্যে কঠিন হয়ে ওঠবে। সকল নাস্তিক্যবাদি ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বক্তারা বলেন, আমাদেরকে এখনই সচেতন ও সোচ্চার হতে হবে। ষড়যন্ত্রকারীদের কাছে এই বার্তা পৌঁছাতে হবে যে, ওলামা-মাশায়েখ ও পীর-আউলিয়ারে পদধন্য ৯১ ভাগ মুসলমানের এই দেশে ইসলাম বিদ্বেষী নাস্তিক্যবাদিদের কোন স্থান নেই।

আজ বৃহস্পতিবার বৃহত্তর চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী ইসলামী সেবামূলক সংগঠন ‘আল-আমিন ফাউন্ডেশন’ এর উদ্যোগে হাটহাজারী পার্বতী হাই স্কুল ময়দানে দু’দিন ব্যাপি ঐতিহাসিক তাফসিরুল কুরআন মাহফিলের প্রথম দিনের আয়োজন সম্পন্ন হয়।

মাওলানা মীর মুহাম্মদ ইদরিস ও মাওলানা হাফেজ মুহাম্মদ ইসমাইল এর পরিচালনায় তাফসীরুল কুরআন মাহফিলে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন হেফাজতে ইসলামের মহাসচিব ও দারুল উলূম হাটহাজারী মাদ্রাসার প্রখ্যাত মুহাদ্দিস আল্লামা হাফেজ মুহাম্মদ জুনায়েদ বাবুনগরী।

আরো বক্তব্য রাখেন, মুফতী মাসউদুল করীম, মুফতী হাবীবুর রহমান কাসেমী, মাওলানা সাজেদুর রহমান, মাওলানা মুজিবুল হক ফরায়েজী, মাওলানা ড. মুহাম্মদ শহিদুল্লাহ উজানী, মাওলানা মুফতী রহীমুল্লাহ, মাওলানা শেখ আহমদ, মাওলানা মোস্তফা নূরী প্রমুখ। হেফাজত আমীর ও মহাসচিবসহ শীর্ষস্থানীয় উলামায়ে কেরাম ও ইসলামী নেতৃবৃন্দ শরীক থাকায় মাহফিলে প্রায় লক্ষাধিক লোকের সমাগম ঘটে।