নারায়ণগঞ্জে করোনা আক্রান্ত নারীর মৃত্যু; লকডাউন ২ এলাকা

নারায়ণগঞ্জ বন্দর উপজেলায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে এক নারীর (৫০) মৃত্যুর পর পুরো জেলায় ছড়িয়ে পড়েছে আতঙ্ক। ইতোমধ্যে ওই নারী সংস্পর্শে থাকা সদর হাসপাতালের এক ওয়ার্ড বয়কে করোনায় আক্রান্ত সন্দেহে আইসোলোশনে রাখা হয়েছে।

এছাড়া ওই নারীর চিকিৎসা প্রদানকারি এক ডাক্তারসহ আরও ১০ জনকে কোয়ারেন্টিনে পাঠানো হয়েছে। লকডাউন করা হয়েছে আক্রান্ত নারীর এলাকার ১০০ পরিবারসহ শহরে তার বাবার বাড়ির একটি এলাকার দু’টি বাড়িকে। এছাড়া নারায়ণগঞ্জ পুলিশ লকডাউনকৃত এলাকায় বাসিয়েছে কড়া প্রহরা।

আজ শনিবার (৪ এপ্রিল) সকালে নারায়ণগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. ইমতিয়াজ এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি জানান, করোনায় মৃত্যু হওয়া ওই নারীর বাড়িসহ আশপাশের একশ পরিবারকে লকডাউনের আওতায় রাখা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে পরিবারগুলোর সকল সদস্যের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করা হবে। এছাড়া ওই নারী তার বাবার বাড়ি শহরের পাইকপাড়া এলাকায়ও গিয়েছিলেন। সেখানেও একটি বহুতল ভবনসহ দুটি বাড়িকে লকডাউন করা হয়েছে। পাশাপাশি পরবর্তী নির্দেশনা না আসা পর্যন্ত লকডাউন অব্যাহত থাকবে। এই লকডাউনের মেয়াদ আগামী ১৪ দিন পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে।

এদিকে, এই নারী কিভাবে এবং কার মাধ্যমে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন সেটি এখনো নির্ণয় সম্ভব হয়নি। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই নারীর এলাকার বেশ কয়েকজন জানিয়েছেন, ওই নারী কিছুদিন পূর্বে সম্প্রতি ইতালী ফেরত এক আত্মীয়কে দেখতে ঢাকা গিয়েছিলেন।

ঘটনার পর পুরো নারায়ণগঞ্জ এখন ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে উল্লেখ করে জেলা সিভিল সার্জন আরও জানান, মৃতের পরিবারের ৭ সদস্যসহ তাকে চিকিৎসা সেবা প্রদানকারি সদর জেনারেল হাসপাতালের একজন চিকিৎসক ও স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা ডায়াগনস্টিক সেন্টারের তিনজনসহ মোট ১০ জনকে আইসোলেশনে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। তাদের মধ্যে হাসপাতালের সেবা প্রদানকারী চিকিৎসক, নার্স, এ্যাম্বুলেন্স ড্রাইভার, প্রাইভেট ল্যাবের টেকনিশিয়ান, এক্সরে টেকনিশিয়ান, আয়া ও চেম্বার এসিস্ট্যান্ট রয়েছেন। পাশাপাশি আইইডিসিআরে মাধ্যমে আজকালের মধ্যেই লকডাউনের আওতায় রাখা একশ পরিবারের সকল সদস্যের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করা হবে। তাদের কারো শরীরে করোনার উপসর্গ দেখা দিলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।