৫ মে শাপলার বর্বরতম ট্রাজেডি : ইতিহাসে এক নতুন কারবালা

মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী | কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক : হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ


আজ ৫ ই মে বাংলাদেশের ইতিহাসে এক বর্বরতম কালো রাত্রি। শাপলা চত্বর ট্রাজেডির ৮ বছর পূর্ণ হলো আজ। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারকে কেন্দ্র করে শাহবাগ গণজাগরণ মঞ্চ থেকে কতিপয় নাস্তিক-ব্লগার যখন আল্লাহ ও রাসূল সা., পবিত্র কুরআন-হাদিস অবমাননাসহ ইসলাম, মুসলমান এবং আলেম-ওলামাদের হেয়প্রতিপন্ন করার হীন চেষ্টা চালিয়েছে, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে হরদম মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর বক্তব্য দিয়ে জাতিকে বিভক্ত করার অপতৎপরতা চালিয়েছিল, তখনই এদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে ২০১৩ সালের ৫ মে হেফাজতে ইসলাম শান্তিপূর্ণভাবে রাজধানী ঢাকা অবরোধ করেছিল। জমায়েত হয়েছিল রাজধানী ঢাকার মতিঝিল শাপলা চত্বরে। যা বাংলাদেশের হক্কানী ওলামা-পীর-মাশায়েখ, আশেকে রাসূল সা. ও দেশপ্রেমিক ঈমানদার জনতার জন্য রক্তঝরা এক ঐতিহাসিক দিন। কেননা ওইদিনের ট্রাজেডি মুসলিম উম্মাহর জন্য অত্যন্ত মর্মান্তূদ ও বেদনাদায়ক।

‘সারা দিন অবরোধে অবস্থান নেয়া হেফাজত কর্মীরা যখন ক্ষুধা, পিপাসায় ক্লান্ত শরীরে হাহাকার তখন আইন প্রয়োগকারী সংস্থা তাদের জন্য সরবরাহকৃত খাবার ও পানির গাড়ি বন্ধ করে দেয়। সন্ধ্যা থেকেই রাস্তার লাইট বন্ধ করে দেওয়া হয়। মতিঝিলের আশপাশের বিদ্যুৎ লাইন বিচ্ছিন্ন করে দিয়ে বিটঘুটে অন্ধকার তৈরি করে নিরস্ত্র ঈমানদার নবীজী সা. এর সৈনিকদের ওপর ইতিহাসের বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ড চালায়। সৄষ্টি করেছে ইতিহাসের নতুন কারবালা । যা ৭১ এর পাক বাহিনীর ভয়াল গণহত্যার চেয়েও ভয়ঙ্কর ।

বিশ্বাস করতেও কষ্ট হয়, শুধুমাত্র আল্লাহ ও তার রাসূল সা. এর ইজ্জতের অবমাননার প্রতিবাদ করার অপরাধে নায়েবে রাসূল ওলামা তোলাবা ও ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের নির্বিচারে হত্যা করে দমন করা হলো। তাও আবার ৯২% মুসলিম জনসংখ্যার এই বাংলাদেশে। যে আলেম হাফেজদের আজান শুনে বাংলার মানুষ প্রতি দিন ঘুম থেক জেগে ওঠে, এই আলেমে দ্বীন ও ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদেরকে শুধুমাত্র ঈমানের তাগিদে রাস্তায় নেমে শহীদ হয়ে রক্ত দিতে হলো। অনেকের লাশও আর খুঁজে পাওয়া যাবে না কোনদিন। আহত, অন্ধ ও পঙ্গুত্ব বরণ করলো হাজার হাজার হাফেজে কুরআন, আলেম, মুফতি, মুহাদ্দিস, মসজিদের ঈমাম, মুয়াজ্জিন এবং সাধারণ মুসলমান।

ইতিহাস হয়ে রইল ঢাকার শাপলা চত্বর। ৫ মে ২০১৩ সালের এই দিন ঢাকা অবরোধকালে ছয়টি স্পটে হেফাজত কর্মীরা প্রত্যেকটি যায়গায় অত্যন্ত সুশৃঙ্খল ও শান্তিুপূর্ণ কর্মসূচি পালন করতে ছিল। অবরোধ শুরু হয় ফজরের পর থেকেই। সড়কপথে রাজধানী ঢাকাকে সারাদেশ থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলা হয়। কিন্তু সরকার ঢাকার ছয়টি প্রবেশপথ থেকে হেফাজত কর্মীদের সরিয়ে দমনের কৌশল অবলম্বন করতে থাকে। দুপুরে হেফাজত ইসলামকে শাপলা চত্বরে সমাবেশের অনুমতির ঘোষণা দিয়ে অবরোধের জায়গায় অবস্থান থেকে মুসল্লিদের সরে যেতে বাধ্য করে । ঢাকা মহানগর পুলিশের পক্ষ থেকে শাপলা চত্বরেই সমাবেশ করবার নির্দেশ দেয়া হয়। সেই নির্দেশনার আলোকে বিভিন্ন স্থান থেকে ইসলামপ্রিয় তৌহিদী জনতার ঢল নামে শাপলা চত্বর অভিমুখে। ইতোমধ্যে একটি ছোট মিছিল বাবুবাজার থেকে গুলিস্তান হয়ে শাপলা চত্বর আসবার পথে সরকার দলীয় সন্ত্রাসীদের দ্বারা আক্রান্ত হয়। নিরস্ত্র ও নিরীহ আলেমদের উপর সশস্ত্র হামলায় মুহূর্তেই রঞ্জিত হয়ে ওঠে রাজপথ, লগি- বৈঠার তান্ডব ও দেশীয় আগ্নেয়াস্ত্রের হামলায় শাহাদত বরণ করেন দুই জন আলেম। পুলিশ সম্পূর্ণ দর্শক হিসেবে তা অবলোকন করে। এভাবেই পাল্টে যেতে থাকে দৃশ্যপট। খালি হাতে প্রতিরোধ গড়ে তোলার চেষ্টা করেন হেফাজতে ইসলামের কর্মীরা, কিন্তু পুলিশ ও সন্ত্রাসীদের নৃশংসতায় সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে পল্টন, কাকরাইল, বিজয়নগর এলাকাতেও। একের পর এক গুলিবিদ্ধ লাশ পড়তে থাকে হেফাজত কর্মীদের। এইসব খবর আসতে থাকলে শাপলাচত্বরে জড়ো হওয়া লাখ লাখ মানুষ বিক্ষুদ্ধ হয়ে উঠতে থাকেন, কিন্তু মঞ্চে থাকা হেফাজতে ইসলামের মহাসচিব আল্লামা জুনাইদ বাবুনগরী, ঢাকা মহানগর আমীর আল্লামা নুর হোসাইন কাসেমীসহ নেতৃবৃন্দ চরম ধৈর্য ও প্রজ্ঞার পরিচয় দিয়ে সবাইকে শান্ত করে রাখেন। এভাবেই সন্ধ্যা পেরিয়ে এশার আজান পড়ে যায়। আমিরে হেফাজত শায়খুল ইসলাম আল্লামা শাহ আহমদ শফী দা.বা. শাপলা চত্বরে আসতে চাইলেও পলাশী এলাকা থেকে নিরাপত্তাজনিত কারণে লালবাগ মাদ্রাসায় ফিরিয়ে দেয়া হয়। অন্যদিকে ১৩ দফা দাবী আদায়ে জিকির-স্লোগান-বক্তব্যে চলতে থাকে মতিঝিলের শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচি।

এরই মধ্যে নানা নটকীয়তা আর ফন্দী করে। রাত ৮টা থেকে ৯টার মধ্যে বায়তুল মুকাররম মসজিদের দক্ষিণ গেটের নিকটবর্তী জুয়েলারী মার্কেট এবং ইসলামী বইপুস্তকের দোকানে রহস্যজনকভাবে আগুন ধরানো হয়। এতে ইসলামী বইপুস্তকের সাথে পুড়ে যায় বেশ কিছু কুরআন শরীফও। আশ্চর্যজনক হলো, যে আলেম উলামা ও মাদরাসার ছাত্ররা সারা জীবন পবিত্র কুরআনকে বুকে ধারণ করে রখেন, কুরআনের ইজ্জত রক্ষার আন্দোলনে মাঠে নেমে রক্ত ঝরাচ্ছেন, তাদের উপরই এই নাশকতার দায়ভার চাপানো অপচেষ্ঠা চালায় সরকার। আর বামপন্থী নাস্তিকবাদী মিডিয়া এই জঘন্য মিথ্যা সংবদ ফলাও করে প্রচর করতে থাকে।

সুপরিকল্পিতভাবে রাতের অন্ধকারে আলো নিভিয়ে দিয়ে রাত আড়াইটায় তিনপাশ থেকে ঘিরে ভারী অস্ত্রশস্ত্র ও সাঁজোয়া গাড়ির বহর নিয়ে চালানো হয় তথাকথিত ‘অপারেশন ফ্লাশআউট’ বা অপারেশন শাপলা। দশ হাজার পুলিশ বিজিবি র‌্যাব এবং দলীয় ক্যাডার ও প্রফেশনাল শুটার বাহিনী সদস্যের সম্মিলিত আক্রমনে মতিঝিল শাপলা চত্বরে গণহত্যা চালানো হয় লক্ষ লক্ষ হেফাজতে ইসলামের নেতা-কর্মী, নিরীহ শান্তিপ্রিয় মাদরাসা শিক্ষক ও ছাত্র-জনতার ওপর। একদল ফকিরাপুল মোড় হয়ে নটরডেম কলেজের সামনে দিয়ে, আরেক দল দৈনিক বাংলা মোড় থেকে শাপলা চত্বরের মঞ্চের অভিমুখে। হাজার হাজার রাউন্ড গুলি, গ্রেনেড, পিপার স্প্রে, টিয়ার শেল, বোমা, গরম পানি নিক্ষেপ করতে করতে তেড়ে যায় নিরস্ত্র শান্তি প্রিয় নবীপ্রেমিক তাওহিদী জনতার দিকে। অনেকেই ক্লান্ত শরীর নিয়ে তখন ঘুমন্ত, অন্যরা কুরআন তিলাওয়াত, তাহাজ্জদ ও জিকিরে মশগুল । আর তাদের নিকট তাসবীহ জায়নামজ ছাড়া প্রতিরোধ গড়ে তোলার কোন হাতিয়ার ছিলনা। থাকবেই বা কেন? তারাতো দাবী আদায়ে অনুমতি নিয়ে জমায়েত হয়েছিল। তারাতো যুদ্ধ করতে যায়নি। কিন্তু তিনদিক থেকে চালানো হাজার হাজার বুলেট বোমা একের পর এক কেড়ে নিতে থাকে নিষ্পাপ প্রাণগুলি। ইসলামের জন্য প্রাণ বিলিয়ে দেন নায়েবে রাসুল ওলামায়ে কেরাম ও ইসলাম প্রেমিক জনতা। একপর্যায়ে বুলেট বোমার সামনে তারা অসহায় হয়ে পড়ে। ওলিতে গলিতে আশ্রয় নিয়ে তারা প্রাণে বাঁচার চেষ্টা করেন। কিন্তু ইসলামবিদ্বষী জালেম হায়েনাদের উন্মাদের মত আক্রমন ও অনবরত টিয়ারশেল, গ্রেনেড ও মুহুর্মূহ গুলি বর্ষণের কারণে হেফাজতের কাফেলা শাপলা চত্বর ছাড়তে বাধ্য হয়। শাহাদাতের অমীয় সুধা পান করেন অসংখ্য হেফাজত কর্মী ও সাধারণ জনতা। আহত হন দশ হাজারেরও বেশী লোক। পত্রিকার রিপোর্ট মতে ১ লক্ষ ৫৪ হাজার গুলি, রাবার বুলেট, টিয়ার গ্যাস, পিপার গান, বৃষ্টির মতো সাউন্ড গ্রেনেড ছুঁড়েছে পুলিশ-র‌্যাব-বিজিবির যৌথ বাহিনী।

এই গণহত্যাকে লুকিয়ে রাখার জন্য সমস্ত মিডিয়াকে বাধ্যতামূলকভাবে সরিয়ে নেয়া হয় রাত দশটার ভেতর। বন্ধ করে দেয়া হয় দিগন্ত টিভি এবং ইসলামিক টিভি। অসংখ্য আলেমে দ্বীনের রক্তে সেই কালোরাতে শাপলা চত্বর রঞ্জিত হয়েছে। সরকার তার সমস্ত শক্তি দিয়ে এ অপকর্ম আড়াল করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তাদের এ অপকর্মে প্রধান সহযোগীর ভূমিকা পালন করেছে রাষ্ট্রযন্ত্রের ভেতরে লুকিয়ে থাকা ইসলামবিদ্বষী চাকর-বাকর ও বাম-রামপন্থী নাস্তিকবাদী মিডিয়া চ্যানেলগুলো।

আশ্চর্য্যের বিষয় হলো- শাহবাগ; যেখানে রাজপথ দখল করে জনগণের দূর্ভোগ সৃষ্টি করে নাস্তিকদের তথাকথিত ‘গণজাগরণ মঞ্চ’ মাসের পর মাস অবস্থান করে যেতে পারল, সেখানে নিরীহ আলেম-ওলামাদের ঈমানী দাবীর সমাবেশকে সরকার একটি রাতও বরদাশত করতে পারল না! এমনকি যুদ্ধংদেহীভাবে এরূপ রক্তাক্ত নারকীয় আক্রমণ চালাতে দ্বিধাবোধ করল না! এই দ্বিমুখী আচরণই সরকারের প্রবল ইসলাম বিদ্বেষী মনোভাবের সুস্পষ্ট বহিঃপ্রকাশ।

আর ৫ মের রাতের গণহত্যার ব্যাপারে জাতীয় সংসদে মিথ্যাচার করে বলা হলো- হেফাজতের কর্মীরা গায়ে রং মেখে রাস্তায় শুয়ে ছিল, পুলিশ ও বিজিবি কোন ধরণের হামলা করেনি। সোহরাওয়ার্দীতে অনুষ্ঠিত ‘শোকরানা মাহফিল’-এ প্রধানমন্ত্রীর সামরিক সচিব মেজর জয়নাল আবেদীন বলেই দিলেন, ‘শাপলা চত্বরে কেউ নিহত হয়নি, এটা মিথ্যা প্রচারণা’। ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার সংবাদ সম্মেলন করে বলেছেন, “ঐ রাতে কোন হতাহতের ঘটনা ঘটেনি”।
অথচ “অনস্বীকার্য বাস্তবতা হল, দেশবাসী ও আন্তর্জাতিক বিশ্ব মিডিয়ার বদৌলতে ২০১৩ সালের ৫ মে সন্ধ্যায় ও দিবাগত রাতে যৌথবাহিনী কর্তৃক শাপলা চত্বরে অবস্থানরত শান্তিপ্রিয় আলেমসমাজ ও তাওহিদী জনতার উপর নির্মম ও নিষ্ঠুর হামলা সরাসরি প্রত্যক্ষ করেছে।” মিডিয়াতে সম্পূর্ণ ব্ল্যাক আউটের পরও ইন্টারনেটে প্রকাশিত স্বল্পসংখ্যক ভিডিও ও ছবিতে দেখা যায়, শাপলা চত্বরের আশপাশে অমানবিকভাবে রাস্তায় সিড়িতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে ছিল অসংখ্য রক্তমাখা লাশ। ভোরের আলো ফোটার আগেই পুলিশের জলকামান, ওয়াসা ও ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি দিয়ে ঐ এলাকা ধুয়ে মুছে রক্তের সব চিহ্ন পরিস্কার করে ফেলা হয়েছে।

৬মে হেফাজত মহাসচিব আল্লামা জুনাইদ বাবুনগরীসহ মিথ্যা মামলায় গ্রেফতার হন আরও অনেক আলেম, মাদরাসাছাত্র ও সাধারণ মানুষ। শুধু তাই নয়, ঐদিন সন্ধ্যার আগ থেকেই সরকারদলীয় সন্ত্রাসী ও আইনশৃংখলা বাহিনীর উগ্রসদস্যদের বর্বরোচিত আক্রমনে অবরোধকারী তাওহিদী জনতার গুলিবিদ্ধ লাশ নানাদিক থেকে মতিঝিলের শাপলা চত্বরে আসতে থাকে। যার ভিডিও ফুটেজ প্রত্যক্ষ স্বাক্ষী হিসেবে রয়েছে। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ইলেক্ট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ায় এ খবর খোলামেলা প্রকাশিত হয়।” অল্পদিনের ব্যবধানে সে ঘটনাকে সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করা নিঃসন্দেহে চরম অমানবিক, মজলুম নবীপ্রেমিক জনতার সাথে উপহাস আর শহীদদের প্রতি অবজ্ঞার শামিল। হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে যেখানে নিঃশ্বর্ত ক্ষমা চাওয়া উচিত ছিল, সেখানে সরকার প্রধানসহ একাধিক দায়িত্বশীল ব্যক্তির মুখে এমন বক্তব্য নিঃসন্দেহে শাক দিয়ে মাছ ঢাকা ও দম্ভোক্তির শামিল।” এই বর্বর হত্যাকাণ্ড কোন বিবেকবান মানুষের পক্ষেই মেনে নেয়া সম্ভব নয়।

শাপলা চত্বরে যারা রক্ত দিয়েছেন, যারা আহত হয়েছেন, তারা কেবল মহান আল্লাহ ও প্রিয় নবী হযরত মোহাম্মদ সা. এর ভালবাসা নিয়ে ইসলামের জন্য জীবন উৎসর্গ করেছেন। যারা শহীদ হয়েছেন তাদর রক্ত বৃথা যেতে পারে না। হেফাজতে ইসলাম যে ১৩ দফা দাবি নিয়ে সেদিন ময়দানে নেমেছিল সে দাবি আজও পূরণ হয়নি। বরং মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করে, কিছু ক্ষুদ খুড়ে হাওয়া দালাল তৈরী করে ঈমানি আন্দোলন বন্ধ করার নানা চক্রান্ত অব্যাহত রয়েছে। ক্ষমতাসীনের জানা দরকার, হেফাজত কাফেলার মাতৃভূমি কিন্তু বাংলাদেশ। তারা এদেশের নাগরিক, আইন বিরোধী কোন কর্মকাণ্ডে তারা জড়িত নয়, কোন দাগী আসামিও নয়, আলেমরা শান্তিপ্রিয়, সমাজে তারা মর্যাদাশালী। এরা কোন অন্যায় কাজ করে না। আলেম-ওলামাদের সঙ্গে জুলুমের পরিণতি খুব ভয়াবহ। যালিমরা এই যুলুমের পরিণাম থেকে কখনই নিজেদর রক্ষা করতে পারবে না। আজ হোক, কাল হোক এর পরিণাম তাদের ভোগ করতেই হবে। আল্লাহ আমাদেরকে যালিমদের হাত থেকে রক্ষা করুন। তাদেরকে যুলুমের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিন। সাথে সাথে এই ঘটনায় যারা নির্মমভাবে যুলুমের শিকার হয়েছেন তাদেরকে দুনিয়া ও আখেরাতে উপযুক্ত প্রতিদান দিন-আমীন।

বৈশিষ্ট্যগতভাবে বাংলাদেশের মানুষ নাস্তিকতাকে ঘৃণা করে। একজন মুসলমান নামাজি নাও হতে পারে। কিন্তু ইসলামের জন্য তার দরদ অপরিসীম। হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশী মুসলমানদের ঈমান ও আকিদাভিত্তিক এ আবেগময় ধারার প্রতিনিধিত্বশীল সংগঠন। উগ্রস্যকুলার, বাম ও রামপন্থীরা হাজারো উসকানি দিলেও হেফাজত দৃঢ়তার সঙ্গে তার অরাজনৈতিক ধারা অক্ষুণ্ণ রেখেছেন। হেফাজতে ইসলামের লক্ষ্য আদর্শিক, রাজনৈতিক নয়। সুতরাং হেফাজত আছে, থাকবে ইনশাআল্লাহ।