নিজামুদ্দিন থেকে সরাইলের জানাযা: ওলামায়ে কেরাম ও ডা. এরতেজাদের ভূমিকা

মাওলানা মামুনুল হক | সভাপতি : বাংলাদেশ খেলাফত যুব মজলিস


সাম্প্রতিক বাংলাদেশের মিডিয়াপাড়া উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে আল্লামা যুবায়ের আহমদ আনসারী রহ,এর জানাযায় লক্ষ মানুষের জমায়েতকে কেন্দ্র করে ৷ অনাকাঙ্ক্ষিত, অপরিকল্পিত, চিন্তার বাইরে, কাকতালীয়, কল্পনাতীত কিংবা হঠাৎ করে যে কোনভাবেই এই জমায়েতের কারণ আপনি ব্যক্ত করতে পারেন ৷ নিরপেক্ষ তদন্ত ও বস্তুনিষ্ঠ প্রতিবেদনে এই সত্যই প্রতিষ্ঠিত হবে ৷ দিন যত যাচ্ছে সংশয় ও অপপ্রচারের কালো মেঘগুলো সরে গিয়ে এই সত্যটি দিবালোকের ন্যায় প্রতিভাত হয়ে উঠছে ৷ কিন্তু লক্ষ্য করেছেন কি এই ঘর পোড়ার মধ্য দিয়ে একটি মহল ঢুকে পড়েছে তাদের আলু পুড়িয়ে নিতে ?

হ্যাঁ আমি পাগড়ীওয়ালা সেই নাটকের মঞ্চাভিনেতা ডাক্তার এরতেজা হাসানের কথাই বলছি ৷ ঝোপ বুঝে কোপ মারতে এতটুকু কালক্ষেপণও করেনি ৷ কিন্তু একথা তার জানা নেই, মিথ্যা যত বেশি দানবীয় রূপ নিয়েই আধিপত্য বিস্তার করুক কিন্তু সত্যের জয় অবশ্যম্ভাবী৷

মূল প্রসঙ্গে যাওয়ার আগে পার্শ্ববর্তী ভারতের সাম্প্রতিক সময়ের বহুল আলোচিত নিজামুদ্দিন মারকাজ ও মাওলানা সাদ কান্ধলভীকে কেন্দ্র করে ভারতীয় হিন্দুত্ববাদী মিডিয়াপাড়ার চিৎকার চেঁচামেচি ও তোলপাড় সৃষ্টি করার বিষয়টির দিকে দৃষ্টি দিতে চাই ৷ নিজামুদ্দিন মারকাজে দেশ-বিদেশের এতাআতি তাবলীগী সাথীদের জমায়েত ও অবস্থানকে কেন্দ্র করে কি লঙ্কাকান্ডই না ঘটানো হয়েছে গোটা ভারত জুড়ে ৷ মিডিয়ার এই আগ্রাসনে সম্পূর্ণরূপে কুপোকাত নিজাম উদ্দিনের মাওলানা সাদ কান্ধলভী ৷ এই সাদ সাহেব দারুল উলুম দেওবন্দকে তুড়ি মেরে উড়িয়ে দিয়েছিলেন ৷ সারা বিশ্বজুড়ে তার অনুসারীরা দারুল উলুম দেওবন্দের মুন্ডুপাত করতে সামান্য ত্রুটিও করেনি ৷ কিন্তু মাওলানা সাদ ও নিজামুদ্দিনের এই পরিস্থিতিতে হিন্দুত্ববাদী আগ্রাসনের মুখে দারুল উলুম দেওবন্দ ও মাওলানা আরশাদ মাদানীদের ভূমিকাটা লক্ষ্য করেছেন ? বুক টান করে দাঁড়িয়ে গেছেন সাম্প্রদায়িক মিথ্যাবাদী হিন্দুত্ববাদী মিডিয়া আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ৷ সাম্প্রদায়িক হিন্দুত্ববাদী মিডিয়া চাচ্ছিল ঘটনার দায় ও করোনা ভাইরাস বিস্তারের দোষ নিজামুদ্দিনের উপর চাপিয়ে তাদেরকে কোণঠাসা করতে ৷ এজন্য তারা নুন্যতম সুযোগ পেয়েই ঝাঁপিয়ে পড়েছে ৷ দেওবন্দ এবং ওলামায়েকেরাম মনে করলেন মাওলানা সাদের সাথে বিরোধ ভিন্ন জায়গায়, হিন্দুত্ববাদী মিডিয়া সুযোগ পেয়ে মাওলানা সাদকে দোষারোপ করতে চাইছে ৷ এখানে নিজেদের অবাধ্য সন্তানের বিপক্ষে শত্রুর সাথে হাত মেলায়নি দেওবন্দ ৷ তাদের হাতে ইসলাম ও তাবলীগ জামাতকে ঘায়েল করার হাতিয়ার তুলে দেয়নি ৷ বরং সম্ভাব্য সকল উপায়ে মাওলানা সাদকে প্রটেক্ট করেছে, তার পক্ষ সমর্থন করেছে, আগ্রাসী সাম্প্রদায়িক হিন্দুত্ববাদী মিডিয়াসন্ত্রাসের সামনে বুক টান করে দাঁড়িয়ে গিয়েছে ৷ এটাই দেওবন্দ ৷ এটাই উলামায়ে দেওবন্দ ৷ এটাই তাদের পরিচয় ৷

ভিন্ন দিকে বাংলাদেশের জানাযা প্রসঙ্গটির দিকে একটু তাকান ৷ এখানে ইসলামবিরোধী মিডিয়া হুমরি খেয়ে পড়েছিল আলেম সমাজকে হেয় প্রতিপন্ন করতে ৷ জাতির সামনে আসামির কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে দিতে ৷ ন্যূনতম ছুঁতোয় তারা কাজটি করতে আদাজল খেয়ে নেমেছিল ৷ এতটুকু সামান্য সুযোগ ৷ এই সুযোগও হেলায় হারাতে চায়নি তারা ৷

হ্যাঁ ডা, এরতেজা হাসানের কথাই বলছি ৷ ঘটনার ২৪ ঘন্টা যাওয়ার আগেই ১৬টি পয়েন্টসহ ইয়া বড় এক ফর্দি তৈরি করে দিলেন দেশের আলেমদের বিরুদ্ধে ৷ নির্জলা মিথ্যা কথাগুলো লিখে গেছেন অবলীলায় ৷ একটুও কি কেঁপে ওঠেনি তার ওই পাপীষ্ঠ হাত ? একটিবারের জন্যও কি বিবেক তাকে ডেকে বলেনি তোমার মাথায় তো রাসূলের সুন্নাত, তুমি এত বড় মিথ্যা কথা লিখতে পারো না ? সে কিভাবে লিখে দিলো মাওলানা মাহফুজুল হক ও অন্যান্য আলেমদের নেতৃত্বে ঢাকা থেকে হাজার হাজার লোক জানাজায় অংশ নিয়েছে ৷ অথচ অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথেই আমরা বলতে পারি ঢাকা থেকে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের চারজন কেন্দ্রীয় দায়িত্বশীল,ওয়ায়েজদের তিন চারজন ও আনসারী সাহেবের একান্ত ঘনিষ্ট একদুজন প্রতিনিধিসহ সাকুল্যে ১৫/১৬ জন লোক, তাও বিচ্ছেন্নভাবে অনেক বাধা-প্রতিবন্ধকতা পেরিয়ে জানাযায় গিয়ে অংশগ্রহণ করেছেন এবং নিজেদের সহকর্মীর প্রতি সহমর্মিতা দেখিয়েছেন ৷ আর এতটুকুকেই বাড়িয়ে ডা,এরতেজা হাজার হাজার মানুষের মিথ্যা কল্পিত ষড়যন্ত্রমূলক সংখ্যাতত্ব দাঁড় করিয়ে দিলেন !

প্রশ্ন হল কেন তিনি এমনটি করলেন? ডা,এরতেজাদের সাথে মাওলানা মাহফুজুল হক ও আলেম-ওলামাদের বিরোধ একটি জায়গাতেই ৷ আলেম-ওলামাগণ তাবলীগ ইস্যুতে তাদের বিপরীতে অবস্থান করেন, এই কারণে আলেম সমাজকে ঘায়েল করতে ইসলামবিরোধী মিডিয়ার সুরে শুধু সুর মেলাতেই নয়, বরং আরো একধাপ এগিয়ে মিথ্যার সয়লাব বইয়ে দিতেও এতোটুকু কেঁপে ওঠেনি তার কণ্ঠ ! ইসলামবিদ্বেষীদের হাতে হাতিয়ার তুলে দিতে এতোটুকু ইতস্তত করেনি তার হাত!

এতায়াতী তাবলীগের দায়িত্বশীল এই ডা,এরতেজারা মনের মধ্যে কতটা বিদ্বেষ লালন করে আর কতটা মারমুখী, এই ঘটনা থেকে তার কিছুটা অনুমান পাওয়া যায় ৷ তারা আলেম-ওলামাদেরকে নির্মূল করতে নাস্তিক্যবাদী ও ইসলাম বিরোধী চক্রের সাথে শুধু হাত মেলাতেই নয় বরং তাদের প্রতিনিধিত্ব করতেও কুন্ঠিত হয় না ৷

আজকের সংবাদ মাধ্যমে ফোনালাপ ফাঁসের নামে যে জঘণ্য অডিও স্ক্রিপ্ট তৈরি করা হয়েছে, তার সূত্রও কিন্তু তিন দিন আগের প্রকাশিত এরতেজার লেখায় পাওয়া যায় ৷ বাংলাদেশের অধিকাংশ ইসলাম ও ওলামাবিদ্বেষী চক্রান্তের গোড়ায় এই চক্রের হাত থাকা বিচিত্র কিছু নয় ৷
ডা,এরতেজার ১৬ দফা ফর্দির ৬ ও ৭ নম্বর দফা দুটি পড়তে পারেন-

“৬. করোনার এই পরিস্থিতিতে ঢাকা থেকে মাওলানা মাহফুজুল হক ও মামুনুর হকের নেতৃত্ব হাজার হাজার নেতা কর্মী কি জানাজায় শরিক হতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় যাওয়া খুব জরুরি ছিল? লকডাউনের জরুরি অবস্থায় তার এতো বড় বহর নিয়ে ঢাকা থেকে বের হলেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কোথায় ছিল? কোন খুঁটির জোড়ে তাদের আটকাতে পাড়লো না?
৭. খেলাফত মজলিস কেন্দ্রীয় নেতা মাহফুজুল হকদের সাথে আনসারীর পরিবারের ফোন আলাপ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় দলীয় নেতাদের ও জামেয়া ইউনুসিয়া মাদ্রাসার মুহতামিম মাওলানা মোবারক উল্লাহর ফোন আলাপ আনসারীর মৃত্যুর পরে বিকাল ৫টা থেকে ট্যাপ করলেই লাশ নিয়ে শোডাউনের বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে যাবে।”( হুবহু কপি-পেস্ট)


ফেসবুক থেকে নেয়া