পাকিস্তানকে বিভক্ত করতে ভারত স্বাধীনতা সংগ্রামে সহায়তা করেছিল : আসিফ নজরুল

অক্টোবর ৬, ২০১৯

ড. আসিফ নজরুল


বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে ভারত কেন সহায়তা করেছিল? করেছিল মূলত নিজের স্বার্থে। প্রথম স্বার্থ ছিল শত্রুরাষ্ট্র পাকিস্তানকে বিভক্ত করা। দ্বিতীয় স্বার্থ ছিল বাংলাদেশকে চুষে খাওয়ার চিন্তা। কায়দামতো সরকার এদেশে প্রতিষ্ঠা করতে পারেনি বলে সেটি অনেকদিন পর্য্ন্ত করতে পারেনি ভারত। ওয়ান-ইলেভেন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে ধাপে ধাপে সেই লক্ষ অর্জিত হয়েছে। বাংলাদেশকে চুষে খেতে দিতে রাজী বা বাধ্য সরকার অবশেষে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এদেশে।

এখন আমার মনে হয় ১৯৭১ সালে একা পাকিস্তানের সাথে লড়ে দেশ স্বাধীন করতে পারলে ভালো হতো। সেটা বোধহয় অসম্ভব ছিল না। যদি আমাদের মধ্যে স্বাধীনতাবিরোধী তৈরী না হতো, যদি আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ থাকতাম, আমাদের ভূপ্রকৃতি আর জলবায়ুতে বেশীদিন টিকে থাকতে পারতো না পাকিস্তানের সৈন্যরা।

মাথামোটা শয়তান পাকিস্তানীদের তাড়িয়ে আমরা এখন পরেছি শেয়ালবুদ্ধির ভারতের খপ্পরে।

ফেসবুক থেকে


হাসিনা-মোদি বৈঠকে সিদ্ধান্ত : ভারতে যাচ্ছে বাংলাদেশের গ্যাস

ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম | ডেস্ক রিপোর্ট


প্রথমবারের মতো প্রাকৃতিক গ্যাস ভারতে রফতানি করবে বাংলাদেশ।

শনিবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দিল্লি সফরের তৃতীয় দিন দিল্লিতে দুই দেশের পক্ষ থেকে ঘোষণা করা হয়েছে।

এছাড়াও ফেনী নদীর পানিও ভারতের ত্রিপুরার সাব্রুম শহরে সরবরাহ করা হবে। খবর বিবিসি বাংলার

খবরে বলা হয়, যে ইস্যুগুলোতে বাংলাদেশে অনেকেরই নজর ছিল – যেমন তিস্তা নদীর পানি ভাগাভাগি কিংবা রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের প্রশ্নে ভারতের অধিকতর সমর্থন আদায়, সেগুলোতে বিশেষ অগ্রগতির লক্ষণ চোখে পড়েনি।

দু’দেশের যৌথ বিবৃতিতে ভারতের বিতর্কিত জাতীয় নাগরিকপঞ্জী বা এনআরসির প্রসঙ্গও উল্লেখ করা হয়নি।

বিগত বেশ কয়েক বছর ধরেই শীর্ষ পর্যায়ে যে কোনও ভারত-বাংলাদেশ বৈঠকে কৌতূহলের কেন্দ্রে থাকছে তিস্তা চুক্তি বা রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের মতো বিষয়।

শনিবার দিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী মোদী ও প্রধানমন্ত্রী হাসিনার বৈঠকে সে সব ইস্যুতে কোনও নাটকীয় মোড় আসেনি – তবে বেশ তাৎপর্যপূর্ণভাবে বাংলাদেশ ভারতে তাদের প্রাকৃতিক গ্যাস রফতানি করতে সম্মত হয়েছে।

এলপিজি রফতানি জন্য একটি প্রকল্পেরও উদ্বোধন করেছেন দুই প্রধানমন্ত্রী।

এই প্রকল্পে বাংলাদেশ থেকে বুলেট ট্রাকে চাপিয়ে তরল প্রাকৃতিক গ্যাস নিয়ে যাওয়া হবে ত্রিপুরার বিশালগড় বটলিং প্ল্যান্টে, তারপর তা সরবরাহ করা হবে উত্তর-পূর্ব ভারতের বিভিন্ন স্থানে। তাতে এলপিজি সিলিন্ডার অনেক কম পরিবহন-খরচে আর কম সময়ে পৌঁছে দেয়া যাবে ভারতের সব দুর্গম এলাকায়।

খবরে বলা হয়, ত্রিপুরার সাব্রুম শহরে পানীয় জল জোগাতে ফেনী নদী থেকে ১.৮২ কিউসেক জল সরবরাহে রাজি হয়েছে বাংলাদেশ।

ফেনী-সহ সাতটি অভিন্ন নদীর পানি ভাগাভাগির জন্য একটি কাঠামো প্রস্তুত করতেও যৌথ নদী কমিশনকে নির্দেশ দিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তবে এই সাতটি নদীর মধ্যে তিস্তা নেই।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেন, “শেখ হাসিনার সঙ্গে আজকের এই এলপিজি-আমদানিসহ এই নিয়ে গত এক বছরে আমি অন্তত ডজনখানেক প্রকল্পের উদ্বোধন করলাম। যার সবগুলোরই লক্ষ্য এক – আমাদের নাগরিকদের জীবনের মানে উন্নতি ঘটানো। আর এটাই ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের মূলমন্ত্র।”

যে সাতটি সমঝোতা স্মারক ও চুক্তি দিল্লিতে স্বাক্ষরিত হয়েছে তার মধ্যে প্রথমটিই ছিল বাংলাদেশের চট্টগ্রাম ও মংলা বন্দর ব্যবহার করার ক্ষেত্রে স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিওর বা পদ্ধতি ঠিক কী হবে, তা নিয়ে।

চট্টগ্রাম ও মংলা বন্দর ভারত কীভাবে ব্যবহার করবে, তা নির্ধারিত হলেও বাংলাদেশের জন্য ব্যবহারযোগ্য ভারতের কোনও বন্দর সেই তালিকায় ছিল না।

এনআরসি-কে ভারত একদিকে তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয় বলে বর্ণনা করে আসছে, অন্যদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ-সহ বিজেপি নেতারা অনেকেই হুমকি দিচ্ছেন এনআরসি-বাতিলদের বাংলাদেশে ডিপোর্ট করা হবে।

এই পটভূমিতে বাংলাদেশ চেয়েছিল এনআরসি নিয়ে তাদের উদ্বেগের কিছু নেই, এই আশ্বাসটা ভারতের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে আসুক।

কিন্তু দু’দেশের যৌথ বিবৃতিতে অন্তত তার কোনও প্রতিফলন ঘটেনি।