পাকিস্তানের জন্য যুদ্ধ জাহাজ বানানোর কারণে তুরস্কের শিপইয়ার্ডের সাথে চুক্তি বাতিল করেছে ভারত

অক্টোবর ৫, ২০১৯

ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম | আন্তর্জাতিক ডেস্ক


ভারত এই প্রথম একটি বিদেশী প্রতিরক্ষা কোম্পানির বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। আর সেটি হলো তুরস্কের আনাদুলু শিপইয়ার্ড। এই শিপইয়ার্ডকে ভারতে কোন প্রতিরক্ষা সংশ্লিষ্ট ব্যবসায় নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

তুরস্কের এই প্রতিরক্ষা কোম্পানির সঙ্গে সাম্প্রতিক সময়ে ভারতের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানের সম্পর্ক জোরদার হয়েছে। ভারতের এই সিদ্ধান্তে নৌবাহিনীর ২ বিলিয়ন ডলারের ফ্লিট সার্পোর্ট শিপ কর্মসূচি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এই কর্মসূচির জন্য প্রযুক্তি অংশীদার হিসেবে আনাদুলু শিপইয়ার্ডকে বেছে নিয়েছিলো ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ব হিন্দুস্তান শিপইয়ার্ড লিমিটেড।

ভারতীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, আনাদুলুকে হিন্দুস্তানের সঙ্গে কোন ব্যবসা করতে দেয়া হবে না। কারণ এতে ভারতের নিরাপত্তার উপর ধ্বংসাত্মক প্রভাব পড়তে পারে।

গত সপ্তাহে পাকিস্তান নৌবাহিনীর জন্য এন্টি-সাবমেরিন করভেট নির্মাণ শুরু করে আনাদুলু। তারা পাকিস্তানের জন্য এরকম চারটি করভেট তৈরি করবে। ভারতীয় নৌবাহিনীর জন্য ৫টি ফ্লিট সার্পোর্ট শিপ নির্মাণ করার জন্য আনাদুলুর সঙ্গে চুক্তি করার প্রস্তুতি নিচ্ছিল হিন্দুস্তান।

ভারতীয় নৌবাহিনীর এক কর্মকর্তা বলেন, তুরস্কের প্রতিষ্ঠানটি নির্মাণ কাজ দেখভাল করা, নির্মাণের বিস্তারিত পরিকল্পনা তৈরি, প্রকৌশল, সরঞ্জাম বাছাই, মান নিশ্চিতকরণ, ইত্যাদি কাজ করবে বলে কথা ছিলো। এর মানে হলো তুর্কি শিপইয়ার্ডের জনবলের স্থায়ী উপস্থিতির প্রয়োজন হতো হিন্দুস্তান শিপইয়ার্ডে। এটা বড় ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি।

কর্মকর্তাটি জানান যে তুর্কি প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে অবিলম্বে সম্পর্কচ্ছেদ করতে হিন্দুস্তানকে নির্দেশ দিয়েছে নৌবাহিনী।

৫টি ফ্লিট সাপোর্ট শিপ তৈরির জন্য গত জানুয়ারিতে আনাদুলুকে বাছাই করা হয়। দক্ষিণ কোরিয়ার হুন্দাই হেভি ইন্ডাস্ট্রিজকে নির্বাচন করা যায়নি কারণ তারা জাহাজগুলো ভারতে নির্মাণের গ্যারান্টি দেয়নি।

৪৫,০০০ টনের ফ্লিট সাপোর্ট শিপগুলো নৌ অভিযানে নিয়োজিত যুদ্ধজাহাজগুলোর জন্য অস্ত্র, রসদ এবং অন্যান্য সরঞ্জাম বহন করবে। এর মানে হলো জাহাজগুলো আসলে কি বহন করবে সে বিষয়ে স্পর্শকাতর তথ্য থাকতে হবে ডিজাইনারের কাছে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, পাকিস্তানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কারণে তুরস্কের সঙ্গে কোন ধরনের কৌশলগত মিত্রতার ক্ষেত্রে ভারত খুবই সতর্ক হচ্ছে।

৭০ বছর ধরে কূটনৈতিক সম্পর্ক থাকার পরও তুরস্কের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আনুষ্ঠানিক রূপ দেয়নি ভারত।