পাকিস্তান থেকে ১৫ বছর পর পেঁয়াজ আমদানি করছে বাংলাদেশ

নভেম্বর ১০, ২০১৯ | নিজস্ব প্রতিনিধি

পাকিস্তান থেকে অন্তত ১৫ বছর পর পেঁয়াজ আমদানি করছে বাংলাদেশ।

জানাগেছে, সম্প্রতি করাচি ভিত্তিক রোশান এন্টারপ্রাইজের সঙ্গে ঢাকার তাসো এন্টারপ্রাইজের মধ্যে ৩০০ টন পেঁয়াজ নিয়ে চুক্তি হয়েছে।

পাকিস্তানের দ্য নিউজ ইন্টারন্যাশনাল তাদের এক প্রতিবেদনে জানায়, ট্রেড ডেভেলপমেন্ট অথোরিটি অব পাকিস্তানের (টিডিএপি) এক কর্মকর্তা খবরটি নিশ্চিত করেছেন।

এতে বলা হয়, প্রতিবেশী দেশের ওপর ভারতীয় সবজি রপ্তানির নিষেধাজ্ঞার কারণে বাংলাদেশের স্থানীয় বাজারে পেঁয়াজের দাম বেড়ে গেছে।

ওই কর্মকর্তা জানায়, কমপক্ষে ১২ কনটেইনার পেঁয়াজ বাংলাদেশে যাবে। এরপর আরও রপ্তানি হবে।

ভারতীয় নিষেধাজ্ঞার কারণে পাকিস্তান সম্ভাব্য বাজার হিসেবে হাজির হয়েছে বলে জানান ওই কর্মকর্তা।

তিনি আরও জানান, পেঁয়াজ বাণিজ্য নিয়ে দুই দেশের সরকারও একমত হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, বাংলাদেশ প্রতিবছর ৭ লাখ থেকে ১১ লাখ টন পেঁয়াজ আমদানি করে। এর ৭৫ ভাগই যায় ভারত থেকে।

পাকিস্তানি পণ্যের বাজার হিসেবে বাংলাদেশ বেশ গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্য বলেও জানানো হয় প্রতিবেদনে। এশিয়ার মধ্যে চীনের পর বাংলাদেশেই বেশি পণ্য রপ্তানি করে দেশটি।

স্থানীয় বাজারে সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য তুরস্ক, মিয়ানমার ও মিসরের মতো বিকল্প বাজারের সন্ধান করছে ঢাকা।


বাবরি মসজিদের স্থানে রাম মন্দির নির্মাণের রায় মেনে নিলেন দিল্লীর শাহী ইমাম!

নভেম্বর ১০, ২০১৯ | মুসলিম বিশ্ব ডেস্ক


উপমহাদেশের মুসলিম ঐতিহ্যের অন্যতম নিদর্শন ঐতিহাসিক বাবরি মসজিদের স্থানে রাম মন্দির নির্মাণের পক্ষে দেয়া দেশটির সুপ্রিমকোর্টের রায় মেনে নেয়ার কথা জানিয়েছেন দিল্লি জামে মসজিদের শাহী ইমাম সাইয়েদ আহমদ বুখারী।

রায় ঘোষণার পর প্রতিক্রিয়াতে তিনি বলেন, আমি এর আগেও বলেছিলাম যে, সুপ্রিম কোর্টের রায়কে সম্মান দেওয়া হবে। আমি আশা করছি যে, দেশ এবার উন্নতির রাস্তায় এগিয়ে যাবে। আমি পুনর্বিচার আবেদনের পক্ষে সহমত না।

তিনি আরও বলেন, ভারতের মুসলিমরা শান্তি চায়৷ হিন্দু-মুসলিমদের মধ্যে বছরের পর বছর ধরে চলা বিরোধ এখানেই শেষ হওয়া উচিত৷

শনিবার, দেশটির প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈয়ের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের বেঞ্চ বাবরি মসজিদের জায়গা নিয়ে মামলার রায় ঘোষণা করেন। জায়গাটিতে হিন্দুদের মন্দির নির্মাণের পক্ষে রায় দেয়া হয়।

এদিকে, সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্ত ঘোষণা হওয়ার পর, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী তথা মুসলিম পক্ষের আইনজীবী জাফারইয়াব জিলানি জানিয়েছেন, তারা এই সিদ্ধান্ত মেনে নিতে পারছেন না। ভবিষ্যতে সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্ত নিয়ে তারা আবার আদালতের দরজায় কড়া নাড়তে পারে।

রায় নিয়ে অসন্তুষ্টিও প্রকাশ করেছেন কেউ কেউ৷ অল ইন্ডিয়া মজলিস-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমিন এর প্রধান আসাদউদ্দিন ওয়াইসি জানিয়েছেন, মামলার রায়ে তারা সন্তুষ্ট নন৷ সুপ্রিম কোর্টকে সর্বোচ্চ আদালত বলে মানলেও তিনি মনে করেন সুপ্রিম কোর্টও সবসময় নির্ভুল নয়৷

ভারতীয় গণমাধ্যমকে তিনি বলেন, সংবিধানে আমাদের সম্পূর্ণ বিশ্বাস রয়েছে, আমরা আমাদের অধিকারের জন্য লড়াই করছি৷ দান হিসেবে পাঁচ একর জমি আমাদের দরকার নেই৷ আমাদের এই পাঁচ একর জমি প্রত্যাখ্যান করা উচিত৷

আজমীর শরীফের দেওয়ান সৈয়দ জয়নুল আবেদীনও এ রায় সবাইকে মেনে নিতে আহ্বান জানিয়েছেন৷ তিনি বলেন, এটা কারো জয় পরাজয়ের বিষয় নয়৷ আমাদের সুপ্রিম কোর্টের রায় মেনে নেয়া উচিত৷ যা হয়েছে, দেশের স্বার্থের কথা চিন্তা করে আমাদের এই বিরোধের এখানেই সমাপ্তি টানা উচিত।

একই আহ্বান এসেছে দেশটির শিয়া ও সুন্নি মতাবলম্বী ধর্মীয় নেতাদের কাছ থেকেও৷ শিয়া নেতা মওলানা কালবে জাওয়াদ বলেন, এখনও রিভিউ পিটিশনের সুযোগ থাকলেও বেশিরভাগ মুসলিম এই রায় মেনে নিয়েছেন৷ আমরা সুপ্রিম কোর্টের রায় মেনে নিয়েছি৷ আমি মনে করি এই বিষয়টির এখানেই সমাপ্তি ঘটা উচিত।