মুফতী হারুন ইজহার | গবেষক : সেন্টার ফর অবজারভেশন এন্ড রিসার্চ (কোর)


অনৈসলামিক পারিবারিক আইন নিয়ে ইসলামপন্থীরা কোন আন্দোলন গড়ে তুলেনি। আমরা কুরআন-সুন্নাহ বিরোধী নারী উন্নয়ন নীতির বিরুদ্ধে পরিচালিত আন্দোলনের সময় বলেছিলাম আন্দোলনকে আত্মরক্ষার জায়গায় না রেখে গঠনমূলক সংস্কারের লক্ষ্যে আক্রমণাত্মক কৌশলে নিয়ে যেতে হবে। মানে কেবল আলোচিত কিছু কলাম আর ধারাকে টার্গেট না করে সামগ্রিক ইসলামি-করণের পর্যবেক্ষণ দিতে হবে। এবং বৃহত্তর পরিসরে ইসলামের সাথে সাংঘর্ষিক সকল ধারা গুলো বিলোপের আওয়াজ তুলতে হবে।

নারী নীতি বিরোধী আন্দোলনের সময় আমাদের কিছু ভাই শাহাদাত লাভ করেছেন। হাটহাজারী মাদরসার ছাত্র শহীদ রফিকের স্মরণসভায় সে সময় হেফাজতে ইসলামের পক্ষ থেকে প্রকাশিত একটি লিফলেটে ১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইন বাতিলের পাশাপাশি পারিবারিক শরীআহ্ আদালত প্রতিষ্ঠার দাবী করা হয়েছিলো।

সম্প্রতি হাইকোর্ট কাবিননামা থেকে (৫ম কলাম) কুমারী শব্দ বাদ দিয়ে অবিবাহিত শব্দটি সংযোজন করতে আদেশ দিয়েছে। আমাদের অকর্মন্যতাপুর্ণ নীরবতার মাঝে একের পর এক ছোবল হেনে যাচ্ছে ধর্মনিরেক্ষবাদী চক্র।

মুসলিম বিবাহ ও তালাক (নিবন্ধন) বিধিমালা-২০০৯ এর বিধি ২৮(১) (ক) অনুযায়ী বিবাহ রেজিস্ট্রি বইয়ের ৫ নম্বর কলামে বলা হয়েছে, কন্যা কুমারী, বিধবা অথবা তালাকপ্রাপ্ত, নারী কিনা?
বর্তমান সামাজিক বাস্তবতায় এ বিধিটি একজন বিবাহ উপযুক্ত নারীর জন্য অসম্মানজনক উল্লেখ করে ২০১৪ সালে হাইকোর্টে রিট করেন মানবাধিকার সংগঠন নারী পক্ষ, ব্লাস্ট ও মহিলা পরিষদ।
এই রিটে কুখ্যাত আন্তর্জাতিক সিডো সনদের রেফারেন্স দেয়া হয়।

বাংলাদেশে সেক্যুলার চক্র কেবল রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও আন্তর্জাতিক ফ্রন্টে নয়, তারা আমাদের বিরুদ্ধে লড়ছে সামাজিক ফ্রন্টে। এখনো আমাদের ঐতিহ্যে পারিবারিক রীতিনীতি সেক্যুলার আবহ মুক্ত। সেই পারিবারিক ধর্মীয় ঐতিহ্যকে ধ্বংস করতেও এ চক্রটি তৎপর।

কাবিননামার ২১নং কলামে ১৯৬১ সালের কুরআনবিরোধী মুসলিম পারিবারিক আইনের পরিস্কার রেফারেন্স দেয়া আছে। আজ থেকে প্রায় তিন দশক আগে কাতারের এক বিখ্যাত স্কলার আব্দুস সলাম বিসয়ূনী বাংলাদেশে সফরকালে আমাদের কাবিননামার উপর বিস্ময় প্রকাশ করেছিলেন, তিনি কাতারের রাষ্ট্রীয় টিভিতে এ কাবিননামা প্রদর্শন করে বাংলাদেশের আলেম সমসজকে ধিক্কার দিয়েছিলন।

আমরা ছোট আমাদের কথা বলার সময় মুরব্বিরা অন্যমনস্ক হয়ে পড়েন।