বাবরি মস‌জিদ মামলার রায় মুস‌লিম বিশ্ব ঘৃণাভভরে প্রত্যাখ্যান করেছে : আল্লামা শফী

নভেম্বর ১০, ২০১৯

ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম | জুনাইদ আহমাদ


হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ এর আমীর, দারুল উলূম হাটহাজারীর মহাপ‌রিচালক আল্লামা শাহ আহমদ শফী বলেছেন, আলোচিত বাবরি মসজিদ মামলা নি‌য়ে ভারতীয় সুপ্রিম কোর্ট যে রায় দি ‌য়ে‌ছে তা চরম পক্ষপাতমূলক। মূলত ক্ষমতাসীন হিন্দুত্ববাদী ‌মোদী সরকার‌কে খু‌শি কর‌তে এ রায়‌ প্রদান করে‌ছে ভারতীয় সুপ্রি‌ম কোর্ট। মুস‌লিম বিশ্ব এ রায় ঘৃণাভ‌রে প্রত্যাখ্যান ক‌রে‌ছে।

আজ ১০ ন‌ভেম্বর র‌বিবার গণমাধ্য‌মে পাঠা‌নো এক বিবৃ‌তি‌তে হেফাজ‌ত আমি এক বিবৃতিতে এসব কথা বলেন।

‌তি‌ন ব‌লেন, ১৫২৮ সা‌লে মোঘল সম্রাট বাবরের সেনাপতি মীর বাকি কর্তৃক তৈ‌রি করা হয় বাবরি মসজিদ । উক্ত স্থা‌নে কথিত ও ক‌ল্পিত রাম মন্দিের থাকার অজুহা‌তে ১৯৯২ সা‌লের ৬ ডিসেম্বর উগ্রবাদী হিন্দুরা বাবরি মসজিদ শহীদ ক‌রে সাম্প্রদা‌য়িক দাঙ্গা সৃ‌ষ্টি করে শত শত মুসলমানকে শহীদ করা হয়। মুস‌লিম বিশ্ব সে ক্ষত এখ‌নো ভু‌লে‌নি।

তিনি আরো ব‌লেন, বাবরি মস‌জিদের বিতর্কিত মামলার ‌পক্ষপাতমূলক রায় এমন সময় দেয়া হ‌লো যখন ভারতের মুস‌লিম জন‌গো‌ষ্ঠি হিন্দু‌দের হা‌তে চরমভা‌বে নির্যা‌তিত হ‌চ্ছে। গো মাংস ভক্ষণ ও জয়‌শ্রীরাম না বলার কথিত অপরা‌ধে (?) পি‌টি‌য়ে হত্যা করা হচ্ছে। বা‌ড়িঘ‌রে অগ্নি‌সং‌যোগ করা হ‌চ্ছে। আমি ম‌নে ক‌রি, এ রা‌য়ে হিন্দু‌দের খু‌শি করা হ‌য়ে‌ছে। এর মাধ্য‌মে কট্টর হিন্দুদের উগ্রতা আরো বেড়ে যা‌বে।

আল্লামা আহমদ শফী আরো ব‌লেন, প্রত্নতত্ত্ববিদ গণের বহুবার অনুসন্ধানের পরও সেখা‌নে কোন ম‌ন্দি‌রের অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায়নি। এরপরও বাব‌রি মস‌জি‌দের স্থা‌নে রাম মন্দির স্থাপ‌নের অযৌক্তিক রায় দেয়া হ‌য়ে‌ছে। আমা‌দের আশংকা এতে‌ সাম্প্রদা‌য়িক সম্প্রী‌‌তির চরম অবন‌তি হ‌বে। এহেন মুহূ‌র্তে মুস‌লিম বি‌শ্বের বাবরি মস‌জি‌দ ইস্যু‌তে শক্তিয়শালী অবস্থান তৈ‌রি করা এবং ভারতীয় মু‌সলিমদের পা‌শে দাঁড়া‌নো উচিঁৎ।


মৃত্যুর আগে তুরস্ককে ফিলিস্তিনের পক্ষে থাকার আহ্বান জানিয়েছিলেন ইয়াসির আরাফাত

নভেম্বর ১০, ২০১৯ | ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম | আরিফ মুসতাহসান


মৃত্যুর ৫ মাস পূর্বে ধর্মীয় নগরী আল কুদস ও বাইতুল মুকাদ্দাসের পক্ষে লড়াই করার জন্য তুর্কী সরকারকে আহ্বান জানিয়েছিলেন ফিলিস্তিনের সাবেক প্রেসিডেন্ট ইয়াসির আরাফাত।

১১ নভেম্বর ২০০৪ সালে ৭৫ বছর বয়সে ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে মৃত্যুবরণ করেন ফিলিস্তিনের এই বিপ্লবী নেতা। তাঁর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আনাদোলু এজেন্সির সামমে সেই স্মৃতি তুলে ধরলেন তুরস্কের ততকালীন সাংসদ হুসাইন তানরিভের্দি।

আনাদোলুকে হুসাইন বলেন, আমি ২০০৪ সালের মে মাসে ফিলিস্তিনের রামাল্লায় গিয়েছিলাম। সেখানে তাঁর কার্যালয়ে আমি যাই। যেখানে তিনি ইহুদিবাদী অবৈধ রাষ্ট্র ইসরাইলের সেনাবাহিনী কর্তৃক গৃহবন্দী ছিলেন।

রামাল্লা থেকে ফেরার পথে তিনি আমার কাছে একটি চিঠি ধরিয়ে দেন। যাতে তিনি তুর্কী সরকারের কাছে অনুরোধ জানান যাতে তুরস্ক ফিলিস্তিনের পাশে থাকে।

এতে এরকম লিখা ছিল, আপনারা হচ্ছেন এমন জাতি (উসমানিয়া) যারা ইতিহাসের বিভিন্ন সময় আল আকসাকে রক্ষা করেছেন। আপনারাই একে ‘হারাম আল শারীফ’ নামে অভিহিত করেছেন। এটা মুসলিম বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ, তাই এর দায়িত্ব আপনাদেরকেই নিতে হবে। আপনারা দীর্ঘ ৪০০ বছর যেভাবে আল কুদসকে রক্ষা করেছেন, ভবিষ্যতে সেভাবেই করবেন আশাকরি।

ইয়াসির আরাফাত ফিলিস্তিন লিবারেশন অর্গানাইজেশনের প্রতিষ্ঠাতা। এর মাধ্যমে তিনি সারাজীবন ইহুদিবাদী অবৈধ রাষ্ট্র ইসরাইলের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করে গেছেন। তবে তিনি ইসরাইলের সাথে শান্তি আলোচনা করে অনেকের কাছে বিতর্কিত হয়েছেন।

কিন্তু তিনি নতজানু নীতি অবলম্বন করেও ইহুদিবাদী অবৈধ রাষ্ট্র ইসরাইলের আগ্রাসন থেকে রেহাই পাননি। প্রায় ২ বছর রামাল্লায় ইসরাইলী বাহিনীর কাছে গৃহবন্দী থেকে ২০০৪ সালের ১১ নভেম্বর প্যারিসের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন।

প্রাথমিকভাবে ডাক্তারগণ বার্ধক্যজনিত রোগ ও স্বাভাবিক মৃত্যুর কথা বললেও পরবর্তীতে সুইজারল্যান্ডের বিজ্ঞানীরা গবেষণা করে তাঁর শরীরে বিষাক্ত পদার্থ খুঁজে পান। যা মানবদেহের সহনীয় মাত্রার চেয়ে ১৮ গুণ বেশি। তাই বলা হয়ে থাকে ফিলিস্তিনি এই নেতাকে ষড়যন্ত্র মূলক বিষ প্রয়োগে হত্যা করা হয়েছে।