প্রধান বিচারপতিকে বাদ দিয়ে মীর কাসেমের আপিল পুনরায় শুনানির দাবি খাদ্যমন্ত্রীর

মার্চ ৫, ২০১৬

প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা1খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম বলেছেন, প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার (এসকে) সিনহা প্রসিকিউশনের বিরুদ্ধে নয়, রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে মন্তব্য করেছেন। তাকে বাদ দিয়ে কাসেম আলীর আপিল পুনরায় শুনানি হওয়া উচিত। অন্যথায় রায়ে সঠিক বিচার না পাওয়া যাবে না।

শনিবার ধানমন্ডিতে ‘প্রধান বিচারপতির মন্তব্যের প্রতিবাদে’ ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি আয়োজিত ‘একাত্তরের গণহত্যাকারী বিচারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র, সরকার, বিচারবিভাগ ও নাগরিক সমাজের করণীয়’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি এ দাবি করেন।

অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম বলেন, প্রকাশ্যে বলা হয়েছে প্রসিকিউশন মামলা নিয়ে রাজনীতি করছেন। অর্থাৎ জামায়াত যে অভিযোগ করছেন, বিএনপি যে অভিযোগ করছেন আন্তর্জাতিক লবিস্ট যে অভিযোগ করছে, আজকে প্রধান বিচারপতি সেই অভিযোগ করেছেন।

খাদ্যমন্ত্রী বলেন, প্রসিকিউশনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা আর রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা একই। তিনি মূলত রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অভিযোগ করছেন।

তিনি বলেন, মীর কাসেম আলী মৃত্যুদণ্ডাদেশ নিয়ে কারাগারে আছে কিন্তু তার অর্থ বাইরে কার্যকর। যার ফলশ্রুতিতে তার রায় নিয়ে এত কথাবার্তা হচ্ছে।

কামরুল ইসলাম বলেন, এতো কথাবার্তার পর এই আপিলের রায় পুনরায় শুনানি হওয়া উচিত। প্রধান বিচারপতিকে বাদ দিয়ে এই শুনানি হওয়া উচিত। অন্যথায় কাসেম আলীর রায়ে সঠিক বিচার না পাওয়া যাবে না।

খাদ্যমন্ত্রী বলেন, প্রধান বিচারপতি যে কথা বলেছেন এ কথা থেকে তিনি বেরুতে পারবেন না। আসামিকে হয় তিনি খালাস দিবেন, না হয় সাজা কমিয়ে দেবেন, নইলে মামলা পুনর্বিচারে পাঠাবেন, তিনটার একটা তারা করবেন। মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখার আর কোনো উপায় নাই তার।

কামরুল ইসলাম বলেন, যে কথাটা তিনি বলে ফেলেছেন, এত অতিকথন আমরা গত ৪৫ বছরে কোনো বিচারপতিকে দেখি নাই। প্রধান বিচারপতির আসনে যদি থাকতে চান, তাহলে এটা বন্ধ করা উচিত। আর না হয় সরকারের বিকল্প চিন্তাভাবনা করা উচিত।

উল্লেখ্য, গত ২৪ ফেব্রুয়ারি মীর কাসেম আলীর আপিল শুনানিকালে প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহা বলেছিলেন, রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী এবং তদন্ত সংস্থা যে গাফিলতি করেছে এজন্য তাদের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো উচিত। আমরা রাষ্ট্রপক্ষের মামলা পরিচালনায় খুবই মর্মাহত। মামলার এভিডেন্স দেখলে, এগুলো পড়লে আমাদের খুব কষ্ট লাগে। মামলাগুলো যখন আমরা পড়ি, তখন আমাদের গা ঘিনঘিন করে তাদের মামলা পরিচালনা দেখে। সব মামলায় এটা হয়ে আসছে।

এরপর প্রধান বিচারপতি অ্যাটর্নি জেনারেলকে বলেন, এত হাফ হার্টেড হয়ে আপনারা মামলা চালান কেন? প্রসিকিউশন, তদন্ত সংস্থার পেছনে রাষ্ট্রের লাখ লাখ টাকা খরচ হচ্ছে। কিন্তু তারা এসব কী মামলা পরিচালনা করছে? ট্রাইব্যুনালে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা শুধু ব্যস্ত টিভিতে চেহারা দেখানো নিয়ে। তারা দামিদামি গাড়ি চড়েন আর পুলিশের হুইসেল দিয়ে ঘুরে বেড়ান।