প্রাণঘাতী করোনা থেকে মুক্তির আমল ও করণীয়

মাওলানা আজিজুল হক ইসলমাবাদী


প্রাণঘাতী মহামারী নোভেল করোনাভাইরাস (COVID-19) বাংলাদেশসহ বর্তমান বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়ছে। ধীরে ধীরে বৈশ্বিক মহামারির রূপ পরিগ্রহ করছে। ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হয়ে এ পর্যন্ত তের হাজার মানুষ মারা গেছে এবং আক্রান্ত হয়েছে কয়েক লাখ মানুষ। চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা এখনো এর কোনো মেডিসিন আবিষ্কার করতে সক্ষম হয়নি। যার ফলে ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হয়ে পৃথিবীর আরো বহু মানুষের মারা যাওয়ার আশঙ্কা প্রবলভাবে তৈরী হয়েছে।

করোনাভাইরাস বিশ্বব্যাপী খুব দ্রুত বিস্তার করেছে। আধুনিক বিজ্ঞানীরা এর কারণ যাই বলুক, এটা নিঃসন্দেহে আল্লাহ তাআলার গজব। কারণ, মহাগ্রন্থ আল কুরআন ও মহানবী হজরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহী ওয়া-সাল্লাম এর হাদিসের পবিত্র বাণী অনুযায়ী পৃথিবীতে মানবজাতির অন্যায়, অনাচার, পাপাচার ও গুনাহের সীমা লঙ্ঘনের কারণে প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও মহামারী আপতিত হয়। আল্লাহ তায়ালার বিধিবিধান, আদেশ নিষেধ লঙ্ঘনের কারণে শাস্তিস্বরূপ পৃথিবীতে প্রাণঘাতী মহামারী ভাইরাস ও ধ্বংসাত্মক দুর্যোগ অবতীর্ণ করা হয়। বর্তমান গোটা বিশ্ব অশ্লীলতা, ন্যুডিজমে ছেয়ে গেছে। পত্রপত্রিকা ম্যাগাজিনে ইলেকট্রনিক্স ও প্রিন্ট মিডিয়াতে অশ্লীল ছবি, ভিডিও, নারী-পুরুষের অশ্লীল দৃশ্য এখন খুবই সহজলভ্য। ইন্টারনেট, ইউটিউবের কারণে এগুলোর অ্যাকসেস পেয়ে যাচ্ছে। ফলে গোটা বিশ্ব এখন অশ্লীলতায় সয়লাব। নির্দিষ্ট দুএক প্রকার গোনাহের কারণে শাস্তি হয়, বিষয়টি এমন না। বরং জীবন ধারণের নানাদিক ও বিষয়ে আল্লাহর আইনের বিরুদ্ধাচরণ হলে পৃথিবীতে বিপর্যয় ঘটে।

কুরআন মাজিদে ইরশাদ হয়েছে, ‘মানুষের কৃতকর্মের দরুন স্থলে ও সাগরে বিপর্যয় ছড়িয়ে পড়েছে, ফলে তাদেরকে তাদের কোনো কোনো কাজের শাস্তি তিনি আস্বাদন করান, যাতে তারা ফিরে আসে।’ (সুরা আর-রূম: ৪১)
রাসূল সা. বলেছেন, যখন কোন সম্প্রদায়ের মাঝে অশ্লীলতার প্রসার ঘটে তখন তাদের মাঝে মহামারি এবং এমন দুর্ভিক্ষ দেখা দেয়, যার নমুনা তারা পূর্বপুরুষদের মাঝে দেখেনি। (ইবনে মাজাহ: ৪০১৯)

আমাদের মনে রাখতে হবে, এদুনিয়ার স্রষ্টা একমাত্র আল্লাহ তাআলা। তিনিই এর সবকিছুর নিয়ন্ত্রক। তিনি কোনো জাতি ও সম্প্রদায়ের অবস্থার পরিবর্তন করেন না, যতক্ষণ না স্বয়ং তারাই নিজেদের অবস্থা, কাজকর্ম, অনৈতিকতা ও অবাধ্যতায় পরিবর্তিত করে না দেয়। যখন আল্লাহ তায়ালা কোনো ব্যক্তি বা সমষ্টিকে আজাব বা শাস্তি দিতে চান তখন কেউ তা রদ করতে পারে না; আল্লাহর নির্দেশের বিপরীতে তার সাহায্যার্থে কেউ এগিয়ে আসতে পারে না ।(সূরা রা’দ: ১১ )

সম্প্রতি করোনাভাইরাস চীনে উৎপত্তি হয়ে বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ার কারণ উল্লেখ করা হয়েছে যে; চাইনিজরা শুকর, কুকুর, সাপ, বাদুড়, ইঁদুর ইত্যাদি জীবজন্তু খাওয়া। ফলে কুরআনে বর্ণীত স্রষ্টার খাদ্যনীতি না মানার কারণে তারা জীবনহানীকর এমহামারী রোগে আক্রান্ত হয়েছে। অথচ এব্যাপারে আল্লাহর নির্দেশ হল, ‘তোমাদের জন্যে হারাম করা হয়েছে মৃত জীব, রক্ত, শুকরের গোশত এবং যেসব জন্তু যা আল্লাহর নাম ব্যতীত অন্যের নামে উৎসর্গকৃত হয়।’ (সুরা মায়িদা: ৩)

সম্প্রতি গণমাধ্যমে আরো প্রকাশিত হয়েছে যে, চীনের রাষ্ট্রীয় সংস্থা কর্তৃক কুরআন সংস্কারের প্রকল্প হাতে নিয়েছে! এটা মহাশক্তিধর আল্লাহর সাথে মারাত্মক রকমের ঔদ্ধত্য। এর শাস্তিস্বরূপ শুধু করোনা ভাইরাস কেন, এর চেয়ে ভয়াবহ আজাবও যদি নেমে আসে, আশ্চর্য হওয়ার কিছু থাকবে না। পৃথিবীর যেখানেই এমন অপরাধ সংঘটিত হবে, সেখানেই মহামারী ও মহাদুর্যোগ আঘাত হানতে পারে। যারা আল্লাহ তায়ালার কালাম পবিত্র কুরআন সংস্কার করতে চায়, নিজেদের তৈরী মনগড়া মতবাদ কুরআনে সংযোজন করতে চায়, তাদের প্রতি আল্লাহ তায়ালা নিজেই চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন। স্বাভাবিকভাবেই চ্যালেঞ্জে পরাজিত হলে পরিণতি শুভ হয় না। অতীতে কুরআনের প্রতি ঔদ্ধত্যের শাস্তি হয়েছে ভয়ংকর।

বিশ্ববিখ্যাত ইসলামী স্কলার জাস্টিস আল্লামা তাকী উসমানী বলেন, বিশ্বব্যাপী দ্রুত ছড়িয়ে পড়া করোনা ভাইরাস থেকে বাঁচতে সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি। অনেকেই মনে করেন এ রোগ থেকে বাঁচতে শরয়ি বিধানের পরিপন্থী চলতে হবে, এ ধারণা মোটেও সঠিক নয়।

শরিয়তের প্রবর্তক নবী করিম  (সা.) স্বয়ং এ জাতীয় রোগ থেকে সতর্কতা অবলম্বন করতে বলেছেন। এ ব্যাপারে তার স্পষ্ট বর্ণনা হলো, আক্রান্ত এলাকার লোকজন বাইরে যাবে না। এবং বাহির থেকে কেউ আক্রান্ত এলাকায় প্রবেশ করবে না। এ কথার উপর আমল করাটাই মূলত শরিয়তের নির্দেশনার উপর আমল করা।

মসজিদে গিয়ে জামাতের সঙ্গে নামাজ আদায়ের অনেক গুরুত্ব আছে। হাদিস শরিফে এ বিষয়ে তাগিদ এসেছে। এটি অবশ্যই অনস্বীকার্য। কিন্তু কখনো কখনো মসজিদে গিয়ে জামাতের সঙ্গে নামাজ আদায়ের বাধ্যবাধকতা শিতিল হয়ে যায়। যেমন: প্রবল বর্ষণ, ঘোর অন্ধকার, শত্রুর ভয়, মৃত্যুভয় অর্থাৎ মারা যাওয়ার মতো পরিস্থিতি এবং হিংস্র প্রাণীর ভয় ইত্যাদি।

সুতরাং জুমুআ ও অন্যান্য ফরজ নামাজের আগে পরের সুন্নতগুলো নিজ ঘরে পড়ার চেষ্টা করা। নিজ ঘরে সুন্নত পড়ার বিষটি হাদিসেও এসেছে। এটাই উত্তম। যথাসম্ভব বাড়ি থেকেই অজু করে আসা। ইমামদেরও উচিত কেরাত সংক্ষিপ্ত করা। প্রয়োজনের সময় কেরাত ছোট করাই উত্তম।

এছাড়াও মুসাফাহা না করার জন্য বিশেষজ্ঞ ডাক্তারদের যে নির্দেশনা আছে তা মেনে চলা উচিত। ভাইরাস সংক্রমণের এই সময়ে ফরজ ওয়াজিব নয় এমন সব বিধান ছাড়তে কোন অসুবিধা নেই। এটা নিজের জন্য এবং নিজের সাথীদের জন্যও কল্যাণ বয়ে আনবে। মহামারীর সময় এটাই নববী নির্দেশনার অনুসরণ হতে পারে।

এক্ষেত্রে করণীয় বিষয়ে হাদীসের নির্দেশনা হলো- রাসূল সা. বলেন, فر من المجذوم فرارك من الأسد কুষ্ঠ আক্রান্ত ব্যক্তি হতে দূরে সরে থাক যেমন সিংহ থেকে পালিয়ে থাকো। অপর হাদীসে ইরশাদ হয়েছে- لا يورد ممرض على مصح অসুস্থ ব্যক্তি যেন সুস্থদের কাছে না ভিড়ে। (সহীহ বুখারী শরীফ)

করোনায় আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। মহামারি ও দূরারোগ্যব্যাধি কাফের-মুশরিকদের জন্য আযাব হলেও মুসলমনদের জন্য রহমত এবং তাতে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করলে তা শাহাদাত হিসেবে গণ্য হয়। যেমন- হাদীসে ইরশাদ হয়েছে: “মহামারি আমার উম্মতের জন্য শাহাদাত এবং রহমতস্বরুপ। আর কাফেরদের জন্য হল আযাব। (মুসনদে আহমদ ৭/৩৩)
রাসূল সা. আরো বলেন, যখন কোনো ব্যক্তি মহামারিতে পতিত হয় এবং নেকির আশায় সে ধৈর্যসহকরে সেখানে অবস্থান করে এবং এ বিশ্বাস রাখে যে, আল্লাহ তাআলার হুকুম ব্যতিত কিছুই হয় না, তাহলে সে শহীদের সওয়াব পায়। (বুখারি শরীফ : ৫৪০২ নং হাদীস)

মুমিনতো সর্বদা আল্লাহর ফায়সালা ও সিদ্ধান্তের উপর সমর্পিত থাকে। বিশেষ করে বান্দা যখন আল্লাহ তাআলার হুকুম মেনে চলে তবে তার যিন্দেগী হয় চিন্তামুক্ত। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, জেনে রাখো, আল্লাহর বন্ধুদের কোনো ভয় নেই এবং তারা দুঃখিতও হবে না। (সূরা ইউনূস : ৬২)

করোনা ভাইরাস থেকে মুক্তির জন্য করণীয় আমল:

ইস্তেগফার ও দুআ করা: আল্লাহর কাছে সমস্ত অপরাধ ও পাপ থেকে ক্ষমা চাওয়া এবং করোনা ভাইরাসসহ সর্বপ্রকার রোগ থেকে পরিত্রাণ চাওয়া ।
أَسْتَغْفِرُ اللَّهَ وَأَتُوبُ إِلَيْهِ আস্তাগফিরুল্লাহা ওয়া আতূবু ইলাইহি । অর্থ: ‘আমি আল্লাহ্‌র কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি এবং তাঁর নিকটই তাওবা করছি।’(সহীহ বুখারী-৬৩০৭; সহীহ মুসলিম-২৭০২)
রাসূলুল্লাহ (সা.) দুরারোগ্য ব্যাধি থেকে মুক্তির জন্য নিম্মোক্ত দুআ সমূহ বেশি বেশি করে পড়তেন-
اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ البَرَصِ، وَالْجُنُونِ، وَالْجُذَامِ، وَمِنْ سَيِّئِ الْأَسْقَامِ
উচ্চারণ: আল্লা-হুম্মা ইন্নী আউযুবিকা মিনাল বারাছি ওয়াল জুনূনি ওয়াল জুযা-মি ওয়ামিন ছাইয়্যিইল আসক্বাম। অর্থ: হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে শ্বেত রোগ, মস্তিষ্ক বিকৃতি, কুষ্ঠ রোগ ও দুরারোগ্য ব্যাধি থেকে আশ্রয় চাই। (সুনানে আবি দাউদ, হাদীস নং ১৫৫৪)
اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ مُنْكَرَاتِ الأَخْلاَقِ وَالأَعْمَالِ وَالأَهْوَاءِ وَ الْاَدْوَاءِ
উচ্চারণ : ‘আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজুবিকা মিন মুনকারাতিল আখলাক্বি ওয়াল আ’মালি ওয়াল আহওয়ায়ি, ওয়াল আদওয়ায়ি।’
অর্থ : হে আল্লাহ! নিশ্চয় আমি তোমার কাছে খারাপ (নষ্ট-বাজে) চরিত্র, অন্যায় কাজ ও কুপ্রবৃত্তির অনিষ্টতা এবং বাজে অসুস্থতা ও নতুন সৃষ্ট রোগ বালাই থেকে আশ্রয় চাই।’ (সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং ৩৫৯১)
রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেনঃ প্রতিদিন ভোরে ও সন্ধ্যায় যেকোনো বান্দা এ দুআটি তিনবার পাঠ করবে, কোনো কিছুই তার অনিষ্ট করতে পারবে না।
بِسْمِ اللَّهِ الَّذِي لَا يَضُرُّ مَعَ اسْمِهِ شَيْءٌ فِي الْأَرْضِ وَلَا فِي السَّمَاءِ وَهُوَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ
উচ্চারণ: বিসমিল্লাহিল লাযি লা- ইয়াদুররু মা’আসমিহি শাইয়্যুন ফিল আরদি ওয়ালা ফিস সামায়ি ওয়াহুয়াস সামীউ’ল আলীম। অর্থ: ‘আল্লাহ তায়ালার নামে যাঁর নামের বারাকাতে আকাশ ও মাটির কোন কিছুই কোন অনিষ্ট করতে পারে না। তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞানী’। (সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং ৩৩৯১)
اللهمَّ إنِّي أعُوذُ بِكَ مِنْ جَهْدِ الْبَلَاءِ، وَدَرَكِ الشَّقَاءِ، وَسُوءِ الْقَضَاءِ، وَشَمَاتَةِ الْأَعْدَاءِ
উচ্চারণ: আল্লা-হুম্মা ইন্নী আউযুবিকা মিন জাহদিল বালা-ই ওয়া দারাকিস সাক্বা-ই ওয়াসূইল কাযা-ই ওয়াশামা-তাহিল আ’দাই। অর্থ: হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে বালা মুসীবতের কঠোরতা, দুর্ভাগ্যে পতিত হওয়া, ভাগ্যের অশুভ পরিণতি এবং দুশমনের আনন্দিত হওয়া থেকে আশ্রয় চাই। (বুখারী শরীফ, হাদীস নং ৬৩৪৭,৬৬১৬)
বেশি বেশি করে দুআ ইউনুস পাঠ করা: لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ سُبْحَانَكَ إِنِّي كُنْتُ مِنَ الظَّالِمِينَ উচ্চারণ: লা ইলা-হা ইল্লা আনতা সুবহানাকা ইন্নী কুনতু মিনায যালিমীন। (সূরা আম্বিয়া, আয়াত: ৮৭)
রাসূল (সা.) ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি সকাল-সন্ধ্যায় তিনবার দোয়া পড়বে, أَعُوذُ بِكَلِمَاتِ اللَّهِ التَّامَّاتِ مِنْ شَرِّ مَا خَلَقَ উচ্চারণ: “আউযু বিকালিমাতিললা-হিত তা-ম্মাতি মিন সাররি মা খালাক্বা।” অর্থঃ “ আল্লাহ তায়ালার নিকট আমি তাঁর সম্পূর্ণ কালামের ওয়াসীলায় আশ্রয় প্রার্থনা করি, সে সকল অনিষ্ট হতে, যা তিনি সৃষ্টি করেছেন ”। সে যে কোন ক্ষতিকর জীব জন্তুর অনিষ্ট থেকে নিরাপদ থাকবে। সুহাইল (রহ.) বলেন, আমার পরিবারের লোকেরা এই দুআ শিখে তা প্রতি রাতে পড়ত। একদিন তাদের একটি মেয়ে দংশিত হয়, কিন্তু তাতে সে কোন যন্ত্রণা অনুভব করেনি। (সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং ৩৬০৪)

পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন থাকা: পরিচ্ছন্নতা ঈমানের অঙ্গ। জীবাণুমুক্ত থাকার জন্য ঘন ঘন হাত মুখ ধুয়ে পরিস্কার থাকতে বলেছেন চিকিৎসকরা। মেডিকেল চাইন্সের আলোকে বিশ্ব সাস্থ্য সংস্থা ঘন ঘন হাত পা মুখ ইত্যাদি অঙ্গগুলো ধোয়ার উপকারিতার প্রচার করছে। অথচ মুসলমানরা দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত নামাজে অজু করে হাত মুখ পা ধুয়ে পরিস্কার করে। এছাড়া ঘন ঘন অজুর মাধ্যমেও আমরা সর্বদা পরিচ্ছন্ন থাকতে পারি। কারণ মহান আল্লাহ অজু করার সময় এমন চারটি অঙ্গকে ধোয়া ফরজ করেছেন, যে চারটি অঙ্গের মাধ্যমে শরীরে দ্রুত ভাইরাস ছড়িয়ে পড়তে পারে। ইসলামের বিধান মেনে চললে মানবদেহে করোনাভাইরাস ঝুঁকির আশঙ্কা কমবে। পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতার বিষয়টি সবসময়েই সবারই জন্য সমভাবেই প্রযোজ্য। ১৪শ’ বছর পূর্বে মহানবী সা. যে কথাটি গুরুত্ব সহকারে বলে গেছেন, তা আজকের প্রেক্ষাপটে আমাদের জন্য যুগোপযোগী ব্যাখ্যা।

পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘হে মুমিনরা, যখন তোমরা নামাজে দণ্ডায়মান হতে চাও, তখন তোমাদের মুখ ও কনুই পর্যন্ত হাত ধৌত করো, মাথা মাসেহ করো এবং টাখনু পর্যন্ত পা ধৌত করো। (সুরা মায়েদা- ৬)
উল্লিখিত আয়াতে মহান আল্লাহ তাঁর বান্দাদের পবিত্রতা অর্জনের জন্য চারটি অঙ্গ ধৌত করা ফরজ করেছেন। কনুই পর্যন্ত হাত, মুখ, পা ও মাথা মাসেহ করা। পাশাপাশি যে পানি দিয়ে পবিত্রতা অর্জন করবে, সেই পানিও হতে হবে পরিষ্কার ও স্বচ্ছ। যে পানির স্বাদ, গন্ধ এবং রং অবিকৃত থাকবে।
এ ছাড়া অজুর শুরুতে কবজি পর্যন্ত দুই হাত ধোয়া, কুলি করা, দাঁত মিসওয়াক করা, কান ও নাকের বহির্ভাগ পরিষ্কার করাকে মহানবী সা. তাঁর সুন্নাত হিসেবে অনুসরণ করতে বলেছেন। তাই অজুর মাধ্যমে ভালোভাবে মুখ হাত পা ধোয়ার মাধ্যমেও আমরা করোনাভাইরাস থেকে মুক্ত থাকার চেষ্টা করতে পারি। কারণ কোনোভাবে যদি করোনার জীবাণু লেগে যায়, তা খুব সহজেই যেন সেরে যেতে পারে।