প্রয়োজনে বাবরি মসজিদ অভিমুখে আবার লংমার্চ করা হবে : মাওলানা মামুনুল হক

নভেম্বর ১০, ২০১৯ | মাহবুব শাহীন

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব ও খেলাফত যুব মজলিসের সভাপতি মাওলানা মামুনুল হক বলেছেন,  ভারতের অযোধ্যায় শহীদ বাবরি মসজিদের জমিতে হিন্দুদের রাম মন্দির নির্মানের পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রদায়িক রায় আমরা মেনে নিতে পারিনা। ধর্মের পরিচয়ে ইতিহাসের বাস্তবতাকে অস্বীকার করা কস্মিনকালেও সম্ভব নয়। ইতিহাস অতীতেও প্রমান করেছে ৫০০ বছরের এই বাবরি মসজিদ মূলত মসজিদই ছিলো।

আজ রবিবার (১০ নভেম্বর) বাদ আসর জাতীয় মসজিদ বাইতুল মোকাররমের উত্তর গেইটে বাবরি মসজিদের জমিতে রাম মন্দির নির্মানের প্রতিবাদে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস কর্তৃক আয়োজিত প্রতিবাদ সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

ওআইসি’কে আহ্বান করে মামুনুল হক বলেন, আপনারা এর প্রতিবাদে এগিয়ে আসুন। মুসলমানদের দেশগুলো থেকে বিপুল পরিমান ভারতীয় জনগণ অর্থ উপার্জন করে ভারতে পাঠায়। মুসলামদের খয়রাতের পয়সা খেয়ে মোদী সরকারের ঘার মোটা হয়ে গেছে। ওরা আমাদের বলতে চায়, পাঁচ একর জমি দান করবে।

তিনি বলেন, ভারতের মুসলিম রাজনীতিবীদ আসাদউদ্দিন ওয়েইসি স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, আমরা নিজেদের পয়সা দিয়ে পাঁচ একর নয়;  পঞ্চাশ একর জমির উপর মসজিদ কায়েম করতে প্রস্তুত আছি। তবুও ভারতের সাম্প্রদায়িক সুপ্রিম কোর্টের তাচ্ছিল্য মুসলমানরা গ্রহণ করবেনা । মুসলমানরা আপনার অনুদান দিতে প্রস্তুত। আপনাদের অনুদান নিয়ে মসজিদ তৈরি করতে চায় না।

তিনি বলেন, মসজিদের জমিতে রাম নির্মান করার স্বপ্নসাধ তাদের কিছুদিনের জন্য পূরণ হলেও চূরান্তভাবে ভারত একদিন পরাজিত হবে। দিল্লী আবার মুসলমানরা শাসন করবে। কাশ্মীর এবং বাবরি মসজিদ কেন্দ্রীক সুপ্রিম কোর্টের রায়ের মধ্য দিয়ে প্রকৃত অর্থে ভারত যে খন্ড-দিখন্ড হবে তার সুস্পষ্ট পূর্বাভাস পাওয়া যায়। ভারত মুুুুুুসলমানদের শাসন করার যোগ্যতা রাখেনা। মুসলমানদের শাসন করার অধিকার তাদের নেই। দীর্ঘ ৭০ বছর শাসন করার মাধ্যমে ভারত একথায় প্রমাণ করেছে। কাজেই ভারতের সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে প্রদেশগুলোকে রুখে দাড়ানোর আহ্বান জানাই। বিশ্ব মুসলমান তোমাদের পাশে আছে। প্রয়োজনে আমরা আবার লংমার্চ করবো।

বাবরি মসজিদ অভিমুখে আবার লংমার্চ করা হবে : মাওলানা মামুনুল হক

বাবরি মসজিদ অভিমুখে আবার লংমার্চ করা হবে : মাওলানা মামুনুল হক

Posted by insaf24.com on Sunday, 10 November 2019


মৃত্যুর আগে তুরস্ককে ফিলিস্তিনের পক্ষে থাকার আহ্বান জানিয়েছিলেন ইয়াসির আরাফাত

নভেম্বর ১০, ২০১৯ | ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম | আরিফ মুসতাহসান


মৃত্যুর ৫ মাস পূর্বে ধর্মীয় নগরী আল কুদস ও বাইতুল মুকাদ্দাসের পক্ষে লড়াই করার জন্য তুর্কী সরকারকে আহ্বান জানিয়েছিলেন ফিলিস্তিনের সাবেক প্রেসিডেন্ট ইয়াসির আরাফাত।

১১ নভেম্বর ২০০৪ সালে ৭৫ বছর বয়সে ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে মৃত্যুবরণ করেন ফিলিস্তিনের এই বিপ্লবী নেতা। তাঁর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আনাদোলু এজেন্সির সামমে সেই স্মৃতি তুলে ধরলেন তুরস্কের ততকালীন সাংসদ হুসাইন তানরিভের্দি।

আনাদোলুকে হুসাইন বলেন, আমি ২০০৪ সালের মে মাসে ফিলিস্তিনের রামাল্লায় গিয়েছিলাম। সেখানে তাঁর কার্যালয়ে আমি যাই। যেখানে তিনি ইহুদিবাদী অবৈধ রাষ্ট্র ইসরাইলের সেনাবাহিনী কর্তৃক গৃহবন্দী ছিলেন।

রামাল্লা থেকে ফেরার পথে তিনি আমার কাছে একটি চিঠি ধরিয়ে দেন। যাতে তিনি তুর্কী সরকারের কাছে অনুরোধ জানান যাতে তুরস্ক ফিলিস্তিনের পাশে থাকে।

এতে এরকম লিখা ছিল, আপনারা হচ্ছেন এমন জাতি (উসমানিয়া) যারা ইতিহাসের বিভিন্ন সময় আল আকসাকে রক্ষা করেছেন। আপনারাই একে ‘হারাম আল শারীফ’ নামে অভিহিত করেছেন। এটা মুসলিম বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ, তাই এর দায়িত্ব আপনাদেরকেই নিতে হবে। আপনারা দীর্ঘ ৪০০ বছর যেভাবে আল কুদসকে রক্ষা করেছেন, ভবিষ্যতে সেভাবেই করবেন আশাকরি।

ইয়াসির আরাফাত ফিলিস্তিন লিবারেশন অর্গানাইজেশনের প্রতিষ্ঠাতা। এর মাধ্যমে তিনি সারাজীবন ইহুদিবাদী অবৈধ রাষ্ট্র ইসরাইলের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করে গেছেন। তবে তিনি ইসরাইলের সাথে শান্তি আলোচনা করে অনেকের কাছে বিতর্কিত হয়েছেন।

কিন্তু তিনি নতজানু নীতি অবলম্বন করেও ইহুদিবাদী অবৈধ রাষ্ট্র ইসরাইলের আগ্রাসন থেকে রেহাই পাননি। প্রায় ২ বছর রামাল্লায় ইসরাইলী বাহিনীর কাছে গৃহবন্দী থেকে ২০০৪ সালের ১১ নভেম্বর প্যারিসের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন।

প্রাথমিকভাবে ডাক্তারগণ বার্ধক্যজনিত রোগ ও স্বাভাবিক মৃত্যুর কথা বললেও পরবর্তীতে সুইজারল্যান্ডের বিজ্ঞানীরা গবেষণা করে তাঁর শরীরে বিষাক্ত পদার্থ খুঁজে পান। যা মানবদেহের সহনীয় মাত্রার চেয়ে ১৮ গুণ বেশি। তাই বলা হয়ে থাকে ফিলিস্তিনি এই নেতাকে ষড়যন্ত্র মূলক বিষ প্রয়োগে হত্যা করা হয়েছে।