পড়া না পারায় দুই ছাত্রীর মুখে থুথু দিলো শিক্ষক

ফেব্রুয়ারি ১৩, ২০২০ । নিজস্ব প্রতিনিধি


চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জের শ্রীকালিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোশাররফ হোসেন তালুকদার এখনো বহাল তবিয়তে আছেন। ঘটনার চারদিন পার হলেও আজ বৃহস্পতিবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) পর্যন্ত তাকে বিদ্যালয়ে দেখা গেছে।

প্রসঙ্গত, পড়া পারেনি এমন অভিযোগে দুই ছাত্রীর মুখে থুথু নিক্ষেপ করে আলোচনায় ফিরেন এই শিক্ষক।

এর আগে গত রবিবার বিকেলে উপজেলার শ্রীকালিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী সাবিকুন নাহার ও ফাতেমা বেগম নামে এই দুই ছাত্রী পড়া না পারার অজুহাতে তাদের মুখে থুথু নিক্ষেপ করেন সহকারী শিক্ষক মোশাররফ হোসেন তালুকদার। এ ঘটনার প্রতিকার এবং অভিযুক্ত শিক্ষকের শাস্তি দাবি করেছেন সাবিকুন নাহারের বাবা মহিউদ্দিন। এই বিষয় জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন তিনি।

অভিযোগের প্রেক্ষিতে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শাহাবউদ্দিন জানান, শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ তদন্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে ঘটনা প্রমানিত হলে সহকারী শিক্ষক মোশাররফ হোসেন তালুকদারের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শ্রীকালিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় বিগত ১৯১০ সালে প্রতিষ্ঠা করা হয়। বর্তমানে এই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী দুই শতাধিক। শিক্ষক হচ্ছেন মাত্র চার জন। এরমধ্যে সহকারী শিক্ষক মোশাররফ হোসেন তালুকদার দীর্ঘদিন ধরে প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করেছেন। চলতি বছরের শুরুতে প্রধান শিক্ষক পদে এখানে আব্দুল হান্নান নামে একজন দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এতে দায়িত্ব হারিয়ে এরপর থেকেই মোশাররফ হোসেন তালুকদার বেপরোয়া হয়ে উঠেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বেশ কয়েকজন অভিভাবক জানান, বদমেজাজি এবং দুর্নীতিবাজ হিসেবে মোশাররফ হোসেন তালুকদার এলাকায় পরিচিত। তাছাড়া উপজেলা শিক্ষা কার্যালয় এবং তার মতো আরো কয়েকজন শিক্ষক নিয়ে তার একটি সিন্ডিকেট রয়েছে।

এদিকে ছাত্রীদের সঙ্গে অশিক্ষা এবং নীতিবিরুদ্ধ কাজের চারদিন পরও সহকারী শিক্ষক মোশাররফ হোসেন তালুকদার এখনো স্বপদে বহাল তবিয়তে থাকায় হতবাক অভিভাবকরা।

অন্যদিকে ঘটনা সম্পর্কে শ্রীকালিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল হান্নান জানান, একজন অভিভাবক সহকারী শিক্ষক মোশাররফ হোসেন তালুকদারের বিরুদ্ধে অভিযোগ দিয়েছেন। তাই এই বিষয় জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার নির্দেশে উপজেলা শিক্ষা কার্যালয় তদন্ত করবে। এ ছাড়া তার আর বলার কিছু নেই বলে জানান এই প্রধান শিক্ষক।