ফিলিস্তিনকে রুখে দেয়া প্রসঙ্গে ইউরোপীয় নেতাদের সঙ্গে নেতানইয়াহুর কথোপকথন ফাঁস

জুলাই ২৪, ২০১৭

ইউরোপীয় নেতাদের সঙ্গে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানইয়াহুর কথোপকথনের ফাঁস হওয়া এক অডিও থেকে জানা গেছে, ফিলিস্তিনি স্বাধীনতার দাবি নস্যাতে ইইউ নেতাদের সঙ্গে দেনদরবার করেছে তেল আবিব।

মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদ পর্যবেক্ষণ সংস্থা মিডল ইস্ট মনিটর ফাঁস হওয়া অডিওকে উদ্ধৃত করে দাবি করেছে, ১৯৯৫ সালের ইইউ-ইসরায়েল সহযোগিতামূলক এক বাণিজ্য চুক্তিতে ফিলিস্তিনি মানবাধিকারকে গুরুত্ব দেওয়ার শর্ত রয়েছে, তা প্রত্যাহারে ইউরোপীয় নেতাদের প্ররোচিত করার চেষ্টা করেছিলেন নেতানইয়াহু।

মিডল ইস্ট মনিটরের খবর অনুযায়ী ফিলিস্তিনিদের জন্য ইউরোপীয় উদ্বেগকে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী তুচ্ছতাচ্ছিল্য করেছেন।

মিডল ইস্ট মনিটর জানিয়েছে, ১৯৯৫ সালে দেশটির সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়ন একটি পারস্পরিক সহযোগিতামূলক বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষর করে। ‘মানবাধিকার এবং গণতান্ত্রিক নীতিমালার প্রতি ইসরায়েলকে শ্রদ্ধাশীল থাকা’র শর্ত ছিল ওই বাণিজ্য চুক্তিতে। তবে ফাঁস হওয়া অডিওর বরাতে খবরে বলা হয়েছে, মানবাধিকার এবং গণতান্ত্রিক নীতিমালার প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকার’ বাধ্যবাধকতাটুকু মানতে চায় না ইসরায়েল। এ ব্যাপারেই ইউরোপীয় নেতাদের সমর্থন আদায়ের চেষ্টা চালাচ্ছে দেশটি।

এরইমধ্যে হাঙ্গেরি, চেক রিপাবলিক, পোল্যান্ড এবং স্লোভাকিয়ার নেতার সঙ্গে নেতানইয়াহু একান্তে আলাপ করেছেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী। আলাপের এক পর্যায়ে চুক্তির ওই শর্তটিকে ‘পাগলামো’ বলে উল্লেখ করেন তিনি। সেই বৈঠকের অডিওই সংবাদমাধ্যমের হাতে এসে পৌঁছার খবর দিয়েছে মিডল ইস্ট মনিটর। এটি ঘটেছে অনেকটা অসাবধানতার কারণে। সেখানে সরবরাহ করা হেডফোনের মধ্য দিয়ে আলাপচারিতাগুলো সাংবাদিকদের কানে ভেসে আসে এবং তারা তা রেকর্ড করতে শুরু করেন। নেতানইয়াহু এবং ওই চার ইউরোপীয় নেতা আসলে খেয়ালই করেননি যে সম্মেলনে অংশ নেওয়া সাংবাদিকদের কাছে তাদের আলাপচারিতাগুলো চলে যাচ্ছে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম লস অ্যাঞ্জেলস টাইমস জানায়, হাঙ্গেরিতে একটি সম্মেলনে যোগ দিয়ে ওই চার দেশের নেতাকে নেতোনিয়াহু বোঝানোর চেষ্টা করছিলেন যেন পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি নীতিমালার সমালোচনা কমাতে তারা ইউরোপের অন্য দেশগুলোকে রাজি করায়। তবে অডিওতে নেতানিয়াহুকে বলতে শোনা যায়, “এর মধ্যে কোনও যুক্তি নেই। ইসরায়েলকে হেয় করে ইউরোপীয় ইউনিয়ন এর নিরাপত্তাকে হেয় করছে। শর্ত তৈরির পাগলামো প্রচেষ্টার মধ্য দিয়ে ইউরোপ এর অগ্রগতিকেই খর্ব করছে।” নেতানইয়াহু বলেন, “এক কথায় আমি যদি বলতে চাই তাহলে বলব-এটি আমার কাছে পাগলামো। আমি মনে করি এটি নিতান্তই পাগলামি।”

১৯৬৭ সালের আরব যুদ্ধের পর থেকে ইসরায়েল পূর্ব জেরুজালেম দখল করে রেখেছে। পূর্ব জেরুজালেমকে নিজেদের অবিভাজ্য রাজধানী বলে দাবি করে থাকে ইসরায়েল। ফিলিস্তিনিরা চায় পশ্চিম তীরে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে এবং পূর্ব জেরুজালেমকে এর রাজধানী বানাতে। অবশ্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় পূর্ব জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেয়নি। ১৯৬৭ সালের পর পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমে প্রায় ২০০ বসতি স্থাপন করেছে ইসরায়েল। পশ্চিম তীর এবং পূর্ব জেরুজালেমে স্থাপিত এসব বসতিতে প্রায় ৬ লাখ ইসরায়েলি বসবাস করে। আন্তর্জাতিক আইনের আওতায় এ বসতি স্থাপনকে অবৈধ বলে বিবেচনা করা হলেও ইসরায়েল তা মানতে নারাজ।