বগুড়া মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে এগারো দিনেও বসেনি আইসিইউ-ভেন্টিলেটর

কোভিট-১৯ সন্দেহভাজনদের চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জামাদি ছাড়াই বগুড়া মোহাম্মাদ আলী হাসপাতালকে বিশেষায়িত (আইসোলেশন) হিসেবে ঘোষণা করা হলেও সেখানে চিকিৎসার পর্যাপ্ত সুযোগ সুবিধা নেই। এগারো দিন আগে হাসপাতালে ৭টি আইসিইউ বিছানা ৮টি ভেন্টিলেটর পৌঁছলেও তা এখনও স্থাপন করা হয়নি। এছাড়া ডিজিটাল এক্সরে মেশিন নেই এবং পর্যাপ্ত অক্সিজেন সিলিন্ডারের সংকটও রয়েছে।

করোনাভাইরাস সন্দেহভাজন রোগীদের চিকিৎসার জন্য ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট বগুড়া মোহাম্মাদ আলী হাসপাতালকে ২৬ মার্চ থেকে আইসোলেশন ইউনিট হিসেবে কার্যক্রম শুরু করা হয়। এখন পর্যন্ত এই হাসপাতালের ১২০টি শয্যাকে করোনা রোগীদের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। বর্তমানে এই হাসপাতালে করোনা পজিটিভ ৬জন ও সন্দেহভাজন হিসেবে আরও এক ব্যক্তিসহ মোট ৭জন রয়েছেন।

তবে করোনা ভাইরাসে আক্রান্তদের জন্য আইসিইউ এবং ভেন্টিলেটর সুবিধা সবচেয়ে জরুরি হলেও সেগুলো ছাড়াই মোহাম্মদ আলী হাসপাতালটিকে আইসোলেশন ইউনিট হিসেবে গড়ে তোলায় সেখানে প্রাণঘাতি এই ভাইরাসে আক্রান্তদের যথাযথ চিকিৎসা সেবার বিষয় জনমনে সন্দেহ রয়ে গেছে। এমনকি খোদ চিকিৎসকরাও এ নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়েন।

মোহাম্মদ হাসপাতালের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের পর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে গত ১৭ এপ্রিল ৭টি আইসিইউ বিছানা এবং ৮টি ভেন্টিলেটর পাঠানো হয়। এর মাঝে করোনার উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হওয়া ৩ রোগী মারাও গেছেন।

মোহাম্মদ আলী হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ড. নুরুজ্জামান সঞ্চয় জানান, কোভিট-১৯ এর জন্য এ হাসপাতালটিকে জেলার পক্ষ থেকে বিশেষায়িত হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। ৩০ জনের একটি চিকিৎসা প্যানেলও রয়েছে।

বগুড়া মোহাম্মাদ আলী হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক শফিক আমিন কাজল বলেন,করোনায় আক্রান্ত রোগীদের জন্য আইসিইউ ও ভেন্টিলেশন খুবই জরুরি। এই হাসপাতালে কেন্দ্রীয়ভাবে অক্সিজেন সরবরাহের কোন ব্যবস্থা নেই। আমরা সিলিন্ডারগুলো একটির পর একটি ব্যবহার করি। কিন্তু আইসিইউতে তা করা সম্ভব নয়। আমরা বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি।

তিনি আরও জানান,৭টি আইসিইউ ও ৮টি ভেন্টিলেটর এসেছে ১১দিন আগে। স্পেট্রা নামে একটি প্রতিষ্টান এ গুলো স্থাপনের কাজ করছে। এখন তাদের উপর নির্ভর করছে এ গুলো সংযোগ স্থাপনের।