বঙ্গবন্ধু ছিলেন প্রকাশ্য নেতা পেছনে ছিলেন সিরাজুল আলম খান : রব (ভিডিও)

মার্চ ১, ২০১৬

আ স ম আব্দুর রবস্বাধীন বাংলার প্রথম পতাকা উত্তোলনের সময় জীবনের মায়া করিনি। বিভিন্ন বাহিনীর হাজার হাজার সদস্য ও সাঁজোয়া যানের সামনে লাখো মানুষের মধ্যে সেদিন স্বাধীন বাংলার পতাকা উত্তোলন করেছি। বাংলাদেশ স্বাধীন না হলে নিশ্চিত ফায়ারিং স্কোয়াডে রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগে প্রকাশ্য গুলি করে হত্যা করা হতো। কিন্তু স্বাধীনতা, স্বাধিকার, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্রের জন্য নিজের জীবনের মায়া ত্যাগ করে ছিলাম। আমাদের সময় ডটকমের সাথে সাক্ষাতকারে স্বাধীন বাংলার প্রথম পতাকা উত্তোলনকারী জেএসডি’র সভাপতি আ স ম আব্দুর রব এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ইকবাল হলের ১১৬ নাম্বার রুমে স্বাধীন বাংলার প্রথম পতাকা তৈরির কাজ করা হয়। শাসক গোষ্ঠি মনে করেছিল তাদের ব্যাপক সাঁজোয়া যান দেখে হয়তো ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ কোন কর্মসূচির ঘোষণা দিবে না। কিন্তু পেছনে মা বাবা কারো কথাই তখন মনে ছিল না। লক্ষ্য ছিল একটাই দেশকে স্বাধীন করতে হবে।

আ স ম আব্দুর রব বলেন, ৬২ সাল থেকেই নিউক্লিয়াস স্বাধীন বাংলার স্বপ্ন দেখতে শুরু করে। ৬২’র পর ৬৬,৭৯ প্রতিটি আন্দোলনের পেছনে থেকে যিনি রসদ যুগিয়েছে তিনি হলেন সিরাজুল আলম খান। বঙ্গবন্ধু আমাদের প্রকাশ্য নেতা ছিলেন। কিন্তু পেছনে থেকে সব ধরণের কাজ করে গেছেন সিরাজুল আলম খান। তিনি হলেন রূপকার, পরিকল্পনাকারী। আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা থেকে শেখ মুজিবকে মুক্ত করে নিউক্লিয়াসের পরিকল্পনায় লাখো মানুষের সামনে তাকে তৎকালীন ডাকসু ভিপি তোফায়েল আহমেদ বঙ্গবন্ধু উপাধিতে ভূষিত করেন। আবার ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণে এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম শব্দগুলো নিউক্লিয়াসের পরামর্শেই জুড়িয়ে দেয়া হয়। আওয়ামী লীগের হাই কমান্ড চাচ্ছিল এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম পর্যন্ত আসতে। খুব চতুরতার সাথে বক্তব্যটি দিতে যাচ্ছিলেন যেন উনার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগ না আসে। কিন্তু নিউক্লিয়াসের বক্তব্য হচ্ছে শুধু স্বাধীন হলে তো হবে না। পাকিস্তানতো স্বাধীন হয়েছে কিন্তু মুক্তি আসে নি। নিউক্লিয়াসের আবার দাবির প্রেক্ষিতে আওয়ামী লীগের হাইকামান্ড রাজি হলো এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম বলার পর এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম বলতে।
রব বলেন, প্রবাসী সরকারের নেতৃত্বে দেশ স্বাধীন ছিল ১৬ ডিসেম্বর থেকে ৯ জানুয়ারি পর্যন্ত। এই সময়ে দেশের কোথাও চুরি ডাকাতিসহ কোন ধরনের অপরাধ হয় নি। কিন্তু পরবর্তীতে দেখা গেল লুন্ঠন, ডাকাতি দুর্নীতির মাত্রা ছাড়িয়ে যায়। বঙ্গবন্ধু দেশের আসার পর দেখা গেলো যারা পাকিস্তানিদের পক্ষে কাজ করেছে তারা সুবিধা পাচ্ছে। আর যারা মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে ছিলেন তারা অবহেলিত হচ্ছে। সীমলা চুক্তির মাধ্যমে পাকিস্তানি যুদ্ধাপরাধীদের ছেড়ে দেয়া হলো। বিদেশের মাটিতে যুদ্ধাপরাধীদের রেখে বিচার সম্ভব নয়। যে লক্ষ্যকে সামনে নিয়ে দেশের স্বাধীনতার জন্য সংগ্রাম করা হলো। তা যখন ভুলন্ঠিত হতে থাকলো তখন শতভাগ মুক্তিযুদ্ধাদের নিয়ে জাসদ গঠন করা হয়। কিন্তু জাসদের নেতা-কর্মীদের অনেক নির্যাতন সহ্য করতে হয়েছে। এমনকি সিরাজুল আলম খানের জীবন যখন হুমকির সম্মুখিন হলো তখন তিনি দেশ ত্যাগ করলেন।

আ স ম আব্দুর রব বলেন, দেশে এখন যে রাজনৈতিক ধারা চলছে তা থেকে বেড়িয়ে এসে দ্বিতীয় ধারার রাজনৈতিক শক্তি গড়ে তোলার জন্য সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়া হবে। এবং জীবনের শেষ পর্যন্ত এই সংগ্রাম করে যাবো। তিনি বলেন, দ্বিতীয় ধারার তৃতীয় শক্তির রাজনৈতিক আন্দোলনের অন্যতম সদস্য মাহমুদুর রহমান মান্নাকে বিনা বিচারে অন্যায়ভাবে জেলে রাখা হয়েছে। সে যখন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের জিএস। তাকে আমিই ঢাকায় নিয়ে আসি। পরবর্তীতে মান্না আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হলেও মান্নার জীবন ও কমিটমেন্টের সাথে আওয়ামী লীগের মিল না থাকায় সে টিকতে পারেনি। এখন তার সাথে যা করা হচ্ছে তা অন্যায়। আ স ম আব্দুর রব বলেন, আমি মান্নার নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করছি।