নাইন ইলেভেনের ১৮তম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে কাবুলে মার্কিন দূতাবাসে রকেট হামলা

সেপ্টেম্বর ১১, ২০১৯

ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম | আন্তর্জাতিক ডেস্ক


নাইন ইলেভেনের ১৮ তম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলের মার্কিন দূতাবাসের সামনে রকেট হামলা চালানো হয়েছে।

বুধবার ভোররাতে এ হামলা চালানো হয়।

যুক্তরাষ্ট্রে ৯/১১ হামলার সেই বার্ষিকীতেই মার্কিন দূতাবাসকে টার্গেট করা হয়েছে। এখনও পর্যন্ত বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি। প্রাণহানির খবরও মেলেনি।

জানা গেছে, বুধবার ভোররাতে কাবুলের মার্কিন দূতাবাসের সামনে জোরালো বিস্ফোরণে শব্দ শোনা যায়। দূতাবাস চত্বর ঢেকে যায় ধোঁয়ায়। মার্কিন দূতাবাসের এক কর্মী ফোনে বিস্ফোরণের খবর নিশ্চিত করেছেন।

তবে, তিনিও বিস্তারিত কিছু জানাতে পারেননি। সরকারিভাবেও এখনও পর্যন্ত ক্ষয়ক্ষতি বা প্রাণহানির খবর জানানো হয়নি।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তালেবানদের সঙ্গে শান্তি আলোচনা বন্ধ করে দেওয়ার পর, কাবুলে এটাই প্রথম বড় হামলা।

প্রসঙ্গত, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর ভয়াবহ হামলায় গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় টুইন টাওয়ার। সেই হামলায় ২,৯৯৭ জন নিহত হন। ৬ হাজারেরও বেশি মানুষ আহত হন।

বিশ্বের ইতিহাসে এইদিনটি বিশেষ ভাবে স্মরণীয়। এই হামলার পর এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়। বিশেষ করে এই ঘটনার পরেই সারা বিশ্বে ইসলামের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক আক্রমণ শুরু হয়। এই ঘটনাকে পুঁজি করে সাম্রাজ্যবাদী আমেরিকা হামলা চালায় আফগানিস্তানে।

দেখতে দেখতে ১৮ বছর পার হয়ে গেলো এই হামলার ঘটনার। কিন্তু এর রেশ এখনো কাটেনি। সারা বিশ্বের মুসলমানদের এখনো এই হামলাকে কেন্দ্র করে নানান ভাবে জুলুম-নির্যাতনের শিকার হতে হচ্ছে।

নয়-এগারোর ঘটনার পর যুক্তরাষ্ট্র এ ঘটনার জন্য আলকায়েদাকে দায়ী করে ঘটনার পরদিন থেকে ঘোষণা দিয়ে সন্ত্রাস দমনের নামে শুরু হয় তথাকথিত সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিটি মানুষের পাশাপাশি বিশ্বের অন্যান্য দেশের মানুষের কাছে এ কথা আজ স্পষ্ট, আলকায়েদার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ঘোষিত অভিযোগটির কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই। বরং ৯-১১ ছিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের একটি ইহুদিবাদী যৌথ দুষ্কর্ম, উদ্দেশ্যমূলক যৌথ সন্ত্রাসীকর্ম; আল কায়েদার ওপর মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে ইহুদিদের যোগসাজশে এটি ছিল যুক্তরাষ্ট্রের একটি ফলস-ফ্যাগ অপারেশন বা কভার্ট অপারেশন মাত্র।

৯-১১ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র অনেক মিথ্যাচার করেছে এবং সুষ্ঠু তদন্তকেও বাধাগ্রস্ত করেছে। এ ছাড়া ৯-১১-এর পর এক দশকে যুক্তরাষ্ট্র ও এর সহযোগী দেশগুলোর পরিচালিত তথাকথিত সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধে  হত্যা করা হয়েছে এক কোটি ১০ লাখ মুসলমানকে। এর মধ্যে ২০০৩ সালের পরবর্তী সময়ে ইরাকে পাঁচ লাখ, ২০০১ সালের পরবর্তী সময়ে আফগানিস্তানে পাঁচ লাখ, ২০১১-উত্তর সময়ে লিবিয়ায় দুই লাখ এবং ২০১১ সালের পর থেকে আজ পর্যন্ত সিরিয়ায় হত্যা করা হয়েছে ৫০ লাখ।

আর যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা ও অস্ট্রেলিয়া সমর্থিত বর্ণবাদী ইসরাইলের ইহুদিবাদী মার্কিন তৎপরতায় বিশ্বে শরণার্থী হয়েছে তিন কোটি মুসলমান। এদের মধ্যে রয়েছে এক কোটি ৩০ লাখ সিরীয়, ৭০ লাখ ফিলিস্তিনি, ৬০ লাখ ইরাকি, ২০ লাখ সোমালি, ২০ লাখ রোহিঙ্গা, ২০ লাখ পাকিস্তানি, ১০ লাখ লিবীয় ও পাঁচ লাখ মধ্য আফ্রিকান রিপাবলিকান শরণার্থী। এই যে গণহত্যা ও ব্যাপক শরণার্থী প্রজন্ম সৃষ্টি, তা জাতিসঙ্ঘ জেনোসাইড কনভেনশনের ২ নম্বর অনুচ্ছেদের সংজ্ঞা অনুযায়ী সুস্পষ্ট গণহত্যা।

এ সব যুদ্ধে খরচ হয়েছে সাত ট্রিলিয়ন ইউএস ডলার। নাইন-ইলেভেনোত্তর আফগানিস্তান ও ইরাকে নিহত হয়েছেন ছয় হাজার ৯০০ মার্কিন সামরিক ব্যক্তি। এই সময়ে এক লাখেরও বেশি মার্কিন সৈন্য আত্মহত্যা করেছে। প্রতিরোধযোগ্য রোগে এই সময়ে মারা গেছেন দুই কোটি আমেরিকান। এ সবই ঘটেছে টুইন টাওয়ারে সন্ত্রাসী হামলা চালিয়ে তিন হাজার লোকের মৃত্যুর ঘটনাকে অনুষঙ্গ করে।

সূত্র : আল জাজিরা