‘বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ায় রেমিট্যান্স কমবে ২২ শতাংশ, সারা বিশ্বে ২০ শতাংশ’

করোনার কারণে বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে রেমিট্যান্স কমবে ২২ শতাংশ, আর সারা বিশ্বে কমবে ২০ শতাংশ।

বুধবার ওয়াশিংটন থেকে প্রকাশিত অভিবাসন ও উন্নয়ন নিয়ে বিশ্বব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদনে ‘কেভিড-১৯-এর আয়নায় অভিবাসন’ এ দেশ ও অঞ্চলভিত্তিক ২০২০ সালের রেমিট্যান্সের চিত্র নিয়ে পর্যালোচনা করা হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বিদেশ থেকে মধ্য ও নিম্ন আয়ের দেশগুলোতে শ্রমিকদের রেমিট্যান্স পাঠানোর পরিমাণ ২০১৯ সালে ৫৫৪ বিলিয়নের চেয়ে ২০ শতাংশ কমে ৪৪৫ বিলিয়নে এসে ঠেকবে। বিশ্বব্যাংক এই নিম্নমুখীতাকে ২০০৯ সালের অর্থনৈতিক সংকটের সময়কার ৫ শতাংশ রেমিট্যান্স প্রবাহ নিমজ্জনের সঙ্গে তুলনা করেন।

বিশ্ব ব্যাংকের প্রাক্কলন অনুযায়ী, বাংলাদেশে ২০২০ সালে রেমিট্যান্স আসতে পারে ১৪ বিলিয়ন ডলার, যা ২০১৯ সালে ছিল ১৮.৩ বিলিয়ন ডলার। ২০১৯ সালে দক্ষিণ এশিয়ায় ১৪০ বিলিয়ন ডলারের রেমিট্যান্স এসেছিল। এ বছর তা কমে ১০৯ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়াতে পারে।

মহামারী ও তেলের দামের দরপতনের কারনে ইউরোপ ও মধ্য এশিয়ায় রেমিট্যান্স ২৮ শতাংশ কমে যাবে। সাব সাহারা আফ্রিকায় ২৩ শতাংশ, মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকায় ১৯ শতাংশ, ল্যাটিন আমেরিকা ও ক্যারাবিয়ান অঞ্চলে ১৯ শতাংশ ও পূর্ব এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ১৩ শতাংশ কমবে। দক্ষিণ এশিয়ায় এই হার ২২ শতাংশ।

গত বছর দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর রেমিট্যান্স ছিলো ১২২.৪ বিলিয়ন ডলার। এ অঞ্চলে তিন শীর্ষ রেমিট্যান্স আহরনকারী দেশছিলো ভারত, পাকিস্তান ও বাংলাদেশ। ২০২০ সালে ভারত ও পাকিস্তানের রেমিট্যান্স প্রবাহ ২৩ শতাংশ কমবে।

বিশ্বব্যাংক জানায়, বাংলাদেশের মতো নিম্ন ও মধ্য আয়ের দেশগুলোতে রেমিট্যান্সই আয়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

করোনা ভাইরাসের অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের কারণে বিশ্বজুড়ে অভিবাসন ও কর্মসংস্থান কমে যাবে, শ্রমিকদের মজুরির ওপর প্রভাব পড়বে, অভিবাসীদের স্বাস্থ্যবীমা সংকুচিত হবে ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর দরিদ্র জনগোষ্ঠির দুর্ভোগ বাড়বে।

বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট ডেভিড ম্যালপাস বলেন, এ প্রেক্ষিতে বিশ্বব্যাংক রেমিট্যান্স পাঠানোর ব্যয় কমাতে উদ্যোগ গ্রহণ করবে। কোভিড-৯ মোকাবেলায় বিশ্বের সরকারগুলোকে অভিবাসীদের ও পদক্ষেপের আওতায় আনার সুপারিশ করা হবে।