করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে বাংলাদেশি-আমেরিকান পুলিশ কর্মকর্তার মৃত্যু

নিউইয়র্ক নগরীর ট্রাফিক বিভাগের তৃতীয় শীর্ষ পদবীর কর্মকর্তা বাংলাদেশি-আমেরিকান মোহাম্মদ চৌধুরী আর নেই (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

১৯ এপ্রিল নিউইয়র্কের কুইন্স জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।

গত তিন সপ্তাহ থেকে মোহাম্মদ চৌধুরী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৬২ বছর। তিনি স্ত্রী ও তিন কন্যা সন্তান রেখে গেছেন।

পারিবারিক বাড়ি কুমিল্লায় হলেও মোহাম্মদ চৌধুরীর জন্ম ঢাকায়। লেখাপড়া করেছেন মির্জাপুর ক্যাডেট কলেজ, ঢাকা কলেজ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে।

মোহাম্মদ চৌধুরী নিউইয়র্কের পুলিশ বিভাগের প্রথম দিকের বাংলাদেশি, যিনি দীর্ঘ ৩০ বছর সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করছিলেন। নিউইয়র্ক নগরীর ট্রাফিক বিভাগের বরো সেকশন কমান্ডারের দায়িত্বে ছিলেন তিনি।

১৯৯০ সালের ৩০ এপ্রিল মোহাম্মদ চৌধুরী কর্মক্ষেত্রে যোগদান করেন। ১৯৯৬ সালে ট্রাফিক সুপারভাইজার হিসেবে পদোন্নতি পান। ২০০৯ সালে ট্রাফিক ম্যানেজার হিসেবে পদোন্নতি পেয়ে নিজের দক্ষতায় এগিয়ে যান তিনি। ২০১৬ সালে দীর্ঘ ২০ বছর সঠিক উপস্থিতির জন্য পদক পান এ বাংলাদেশি।

মোহাম্মদ চৌধুরী বাংলাদেশি-আমেরিকান (এনওয়াইপিডি) ট্রাফিক বিভাগের এ যাবৎকালের সবোর্চ্চ র‍্যাঙ্কধারী অফিসার ছিলেন। ২০১৮ সালে তিনি সেকশন কমান্ডার হিসেবে পদোন্নতি লাভ করেন। নিউইয়র্ক পুলিশের ট্রাফিক বিভাগে কর্মরত বাংলাদেশিদের কাছে তিনি একজন আইকন ছিলেন।

নিউইয়র্কে বাংলাদেশ কমিউনিটিতে মোহাম্মদ চৌধুরীর নাম সম্মানের সঙ্গে উচ্চারিত হয়ে আসছে।

তাঁর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে নিউইয়র্কে বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

তাঁর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ-আমেরিকান পুলিশ অ্যাসোসিয়েশন (বাপা)।

Previous post সিলেটে পালিয়ে যাওয়া করোনাক্রান্ত যুবকের সন্ধান মিলেছে
Next post দেশে ২৪ ঘন্টায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন আরও ১০ জন