বাংলাদেশে ঢুকে চীনা নাগরিকদের ১৪ দিন ‘গৃহবন্দি’ থাকতে হবে

ফেব্রুয়ারি ৩, ২০২০ । নিজস্ব প্রতিনিধি


বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্রাণঘাতী নভেল করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশে প্রবেশের পর চীনা নাগরিকদের বাধ্যতামূলকভাবে ১৪ দিন বাসায় অবস্থান করতে হবে। ইমিগ্রেশন পার হওয়ার আগেই তাদের কাছ থেকে নাম ও ঠিকানাসহ বিস্তারিত তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করা হবে এবং তিনি নিজে থেকেই দুই সপ্তাহ বাসা থেকে বের হবেন না এই মর্মে অঙ্গীকারপত্রে স্বাক্ষর করতে হবে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে তার গতিবিধি নজরদারি করা হবে। অঙ্গীকারনামা ভঙ্গ করলে ওই চীনা নাগরিকের বিরুদ্ধে সরকার আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে পারবে।

আজ সোমবার (৩ ফেব্রুয়ারি) বা আগামীকালের মধ্যে অঙ্গীকারনামা সংগ্রহের নতুন নিয়ম চালু হবে বলে স্বাস্থ্য অধিদফতরের একাধিক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা সূত্রে জানা যায়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত ২১ জানুয়ারি থেকে ২ ফেব্রুয়ারি রাত পর্যন্ত চীনা ও বাংলাদেশের সর্বমোট ৫ হাজার ৮৩৮ জন নাগরিক বাংলাদেশে ফিরে এসেছেন। আজ (সোমবার) সকালে চীন থেকে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছেন আরও ১১৪ জন।

শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে প্রতিদিন বিভিন্ন ফ্লাইটে ১২ থেকে ১৩ হাজার যাত্রী প্রবেশ করেন। বর্তমানে করোনাভাইরাস শুধু চীনেই সীমাবদ্ধ নেই, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এ ভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে। এ কারণে শুধু চীন থেকে আসা ৪টি ফ্লাইটই নয়, করোনাভাইরাস প্রতিরোধে সব ফ্লাইটের যাত্রীদের বিশেষ করে চীনা নাগরিকদের ওপর সতর্ক দৃষ্টি রাখার প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন রোগ তত্ত্ব ও স্বাস্থ্যবিশেষজ্ঞরা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্বাস্থ্য অধিদফতরের একজন শীর্ষ কর্মকর্তা জানান, চীনা নাগরিকদের দুই সপ্তাহ স্বেচ্ছায় বাসায় অবস্থানের মাধ্যমে করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি মুক্ত রাখার নতুন ধারণাটি চীন সরকারের মাধ্যমে জেনেছে বাংলাদেশ সরকার।

বাংলাদেশের চীন দূতাবাস সূত্রে জানতে পেরেছে, বর্তমানে চীনে তাদের নাগরিকদের কাছ থেকে দুই সপ্তাহ বাসায় অবস্থানের অঙ্গীকারনামা নেয়া হচ্ছে।