বাংলাদেশ নিয়ে বিজেপির গোপন বৈঠক

মার্চ ৩, ২০১৬

bangla-indiaঢাকার কিছু নীতি-নির্ধারকদের সঙ্গে কলকাতায় একটি গোপন বৈঠক করেছেন ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপির যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক রাম লাল। বাংলাদেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর হামলার বিষয়ে বাস্তবতা জানতেই এ বৈঠক। তবে বৈঠকে অংশ নেয়া কেউই এ বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলেন নি। বুধবার কলকাতার প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম টেলিগ্রাফ এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দিল্লির একটি বিশেষ সূত্র জানিয়েছে, আরএসএস (রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংস্থা)-এর যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক দত্তাত্রেয় হোসাবাল ওই বৈঠকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। নেপাল, বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা, ভুটান ও মালদ্বীপে সংঘের যোগাযোগ স্থাপনের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ওই বৈঠকের আয়োজন করেন তিনি।

সংঘ সূত্র বলছে, হোসাবাল বিজেপির সাধারণ সম্পাদক রাম মাধবকে ওই বৈঠকে উপস্থিত থাকার অনুরোধ জানিয়েছিলেন। আসামে বিধানসভা নির্বাচনের দায়িত্বে থাকায় রাম মাধব বৈঠকে অংশ নিতে পারেননি।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন এমন একজন আওয়ামী লীগ নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘বৈঠকের আমরা বাংলাদেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অবস্থা বিস্তারিত জানিয়েছি। আর বিজেপি-আওয়ামী লীগ সম্পর্ক কীভাবে আরো উন্নত করা যায় সেটা নিয়েও সেখানে আলোচনা হয়েছে।’

এই নেতা আরো জানান, ‘দলের শীর্ষ নেতাদের প্রয়োজনীয় অনুমতি নিয়েই তিনি ভারতে এসেছেন।’ বলেন, বিজেপি বা আরএসএস-এর সঙ্গে বাংলাদেশের ক্ষমতাসীন দলের সম্পর্ক স্থাপনে কোন সমস্যা নেই। মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ বাংলাদেশে ২ কোটি হিন্দু বসবাস করে।

কাকতালীয়ভাবে,ভারতে বিজেপির উত্থান আর বাংলাদেশে বিএনপি-জামাতের শক্তি বৃদ্ধিকে এক করে দেখা হয়। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এ সমস্যাকে খাটো করে দেখা হয়েছে সাংগঠনিকভাবে বিএনপি দুর্বল হয়ে পড়ায়।

প্রতিবদেনে আরো বলা হয়, আগে কংগ্রেসের সঙ্গে কাজ করা শেখ হাসিনা নরেন্দ্র মোদির সরকারের বিষয়ে বেশি সতর্ক ছিলেন। কিন্তু এখন দুপক্ষের কূটনীতিকরাই মনে করেন, ‘দুই দেশের মধ্যকার সম্পর্ক আগের যে কোন সময়ের তুলনায় এখন অনেক ভালো’।

প্রতিবেশি দেশের ক্ষমতাসীন দলের সঙ্গে আরো বেশি সুসম্পর্ক গড়তে চায় ভারত সরকার। সেটা বোঝা গেল, যখন দিল্লি সফররত বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবু হাসান মাহমুদ আলীর সম্মানে বুধবার আরএসএস প্রচারক, বিজেপির সাধারণ সম্পাদক মধব এক ভোজসভার আয়োজন করেন।

দিল্লির সূত্র জানায়, ‘দিল্লি-ঢাকা সম্পর্কে অনেক কিছু ঘটছে বলে মনে হচ্ছে। কলকাতায় অনুষ্ঠিত বৈঠক একটি ভিন্ন বিষয়ের ওপর। কিন্তু এটা খুবই তাৎপর্যপূর্ণ।’
খবরে বলা হয়, রাজনীতিবিদ, সুশীল সমাজের সদস্য, সাংবাদিক ও বাংলাদেশের বিভিন্ন পেশার ১০ জনের মতো সদস্য ওই বৈঠকে যোগ দেন। পর পর দুইদিনের ওই বৈঠকের সভাপতিত্ব করেন রাম লাল।
টেলিগ্রাফ থেকে অনুবাদ করেছেন আমির পারভেস