বাইতুল মুকাদ্দাসে প্রথমবারের মতো রমজানে ইবাদত বন্ধ

ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম | নাহিয়ান হাসান


বৈশ্বিক মহামারী করোনা ভাইরাসকে কেন্দ্র করে আধুনিক বিশ্বের প্রযুক্তির চরম উৎকর্ষের এই যুগে ফিলিস্তিনের রাজধানী জেরুসালেমে অবস্থিত, মুসলমানদের তৃতীয় পবিত্রতম স্থান, প্রথম কিবলা ‘বাইতুল মুকাদ্দাসে’ প্রথমবারের মতো রমজান মাসে ইবাদত করতে পারছেন না ধর্মপ্রাণ মুসলমানগণ।

ধর্মপ্রাণ মুসলমানগণ পবিত্র মক্কা-মদিনার পর তৃতীয় এই পবিত্র স্থানটিতে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে ইবাদাত পালন করেন। সাপ্তাহিক জুমার নামাজ এবং ‘খতমে তারাবীহ’তে অংশগ্রহণের জন্য হাজার হাজার মুসলিম অন্যান্য ওয়াক্তিয়া নামাজের তুলনায় অত্যন্ত বেশি আগ্রহ বোধ করে থাকেন। ইতিহাসে প্রথমবারের মতো এই রমজানে তৃতীয় ঐতিহাসিক পবিত্রতম এই স্থানটিতে ধর্মপ্রাণ মুসুল্লি শূন্য অবস্থায় দেখা যায়। যা খুবই বেদনা বিধুরই বটে। করোনা ভাইরাসের বিধিনিষেধের কারণে কেবল ফেসমাস্ক পরিহিত মুষ্টিমেয় কয়েকজন মুসলিম আলেম সেখানে সাপ্তাহিক জুমার নামাজ পড়েছিলেন।

দুই সপ্তাহ আগে ‘জেরুজালেম ইসলামী ওয়াকফ কাউন্সিল’ সাময়িক সময়ের জন্য ‘আল-আকসা মসজিদে’ মুসলিমদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করে। যা ফিলিস্তিনের ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের জন্য অত্যন্ত বেদনাদায়ক।

কাউন্সিল বলেছে, “মুসলমানগণ নিজেদের রক্ষার তাগিদে রমজান মাসে নিজেদের ঘরে নামাজ পড়া উচিত”।

প্রসঙ্গত: এই পবিত্র মসজিদটি আল্লাহর নবী হযরত সুলাইমান আলাইহিসসালাম নির্মাণ করেন। তাই ইহুদিরা তাকে নিজেদের ইবাদাতগাহ হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ মনে করে। আল কুদসকে কেন্দ্র করে আল্লাহর নবী হযরত ঈসা আলাইহিসসালামের স্মৃতি রয়েছে। তাই খৃষ্টানদের জন্যও এই স্থানটির গুরুত্ব রয়েছে। শেষ নবী হযরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই মসজিদে সকল নবীদের ইমামতি করেন এবং সেখান থেকে আল্লাহর সাক্ষাৎ লাভে মিরাজে গমন করেন।

উল্লেখ্য, ইহুদীবাদী অবৈধ রাষ্ট্র ইসরাইল পূর্ব জেরুসালেম অবৈধ ভাবে দখল করে রেখেছে। যেখানে এই পবিত্র বাইতুল মুকাদ্দাস অবস্থিত। সেখানে করোনভাইরাসে প্রায় ১৫০০০জন ব্যক্তি করোনায় আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া গিয়েছে। এমনকি ১৯৩জন মারাও গেছে। যাদের বেশিরভাগই ইহুদি সম্প্রদায়ের।
ফিলিস্তিনি অঞ্চলগুলিতে প্রায় ৪৮০জন ব্যক্তি মহামারির রূপ ধারণ করা করোনা ভাইরাসে জর্জরিত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে। এমনকি এতে চারজনের মৃত্যুও হয়েছে।