বাজেটে স্বাস্থ্যখাত নিয়ে জাতির সাথে মস্করা করা হয়েছে: অধ্যক্ষ ইউনুছ আহমাদ

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব অধ্যক্ষ মাওলানা ইউনুছ আহমাদ ২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেট প্রসঙ্গে বলেছেন, বাজেটে স্বাস্থ্যখাত নিয়ে জাতির সাথে মস্করা করা হয়েছে। করোনার এই কঠিন মুহুর্তে স্বাস্থ্যখাত নিয়ে এই নির্মম তামাশা জাতিকে হতভম্ব করেছে। গোটা বিশ্ব যেখানে করোনার ভয়াল থাবা থেকে বাঁচতে মরিয়া, সেখানে এই বাজেটে মাত্র ৫হাজার ৫৫৫ কোটি টাকা বাড়িয়ে মাত্র ২৯ হাজার ২৪৭ কোটি টাকা প্রস্তাব করা হয়েছে। এই সংখ্যা যে কত অন্তসার শূন্য তা বুঝতে আরো কিছু সংখ্যা দেখতে হবে।

মঙ্গলবার (১৬ জুন) সংবাদমাধ্যমে প্রেরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে তিনি এসব কথা বলেন।

অধ্যক্ষ ইউনুছ আহমাদ বলেন, ২৯ হাজার ২৪৭ কোটি টাকার অর্ধেকের বেশি অর্থাৎ ১৬ হাজার ৭৪৭ কোটি টাকা চলে যাবে কেবল বেতন-ভাতা ও পরিচালন ব্যয়ে। বাকি টাকার বড় একটি অংশ যাবে ভবন নির্মাণ ও অবকাঠামো খাতে। স্বাস্থ্য সেবার মৌলিক উন্নয়ন ও গবেষণায় তেমন কোন বরাদ্দ নেই। দেশে স্বাস্থ্য খাতকে কতটা অবহেলা করা হয় তা নিম্নের কিছু তথ্যে পরিস্কার।

তিনি বলেন, বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার গাইডলাইন অনুযায়ি বাজেটের ১৫% ও জিডিপির ৫% স্বাস্থ্য খাতে ব্যয় করার কথা। কিন্তু বাজেটের ৫% ও জিডিপির ১% এর কম স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ দেয়া হয়।করোনার এই ভয়ঙ্কর সময়েও বরাদ্দ দেয়া হয়েছে বাজেটের ৫.২%। বিশ্বে স্বাস্থ্য খাতে সবচেয়ে বেশি ব্যয় করা (১৬.৯%) যুক্তরাষ্ট্রেই যেখানে করোনায় ১ লক্ষাধিক মানুষ মারা গেছে সেখান স্বাস্থ্য খাতে বিশ্বে সর্বনিম্ন ব্যয় করা বাংলাদেশের কী পরিস্থিতি হবে তা কল্পনা করতেও শিউরে উঠে।

তিনি আরও বলেন, প্রসঙ্গত দক্ষিণ এশিয়াতেই স্বাস্থ্যখাতে মাথাপিছু মালদ্বীপ ব্যয় করে ২০০০ ডলার, শ্রীলংকার ৩৬৯, ভারত ২৬৭, পাকিস্তান ১২৯, আর বাংলাদেশ করে মাত্র ৮৮ডলার। জিডিপির তুলনায় স্বাস্থ্য খাতে সবচেয়ে কম ব্যয় করে যথাক্রমে মোনাকো, পাপুয়া নিউগিনি ও ব্রুনাই। বাংলাদেশ এই তিনটিরও পেছনে। মহাকাশ থেকে মহাসমুদ্র কত কিছু তারা জয় করেছে বলে বিলবোর্ডে দেখি। কিন্তু এই এক যুগেও তারা স্বাস্থ্য সেবার মতো মৌলিক খাতকে তারা সমৃদ্ধ করতে পারেনি এবং সেটা সংসদে প্রকাশ্য ঘোষণাও দেন। এর চেয়ে লজ্জার আর কিছু হতে পারে না। এই সাংবিধানিক মৌলিক অধিকার প্রদানে ব্যর্থতার দায়ে সরকারকে লজ্জিত হওয়া উচিৎ।

অধ্যক্ষ ইউনুস আহমাদ বলেন, বাজেটে অর্থমন্ত্রী ১০ হাজার কোটি টাকার থোক বরাদ্দ দিয়েছেন। বাংলাদেশের ইতিহাসে থোক বরাদ্দ দেওয়া আর দুর্নীতিবাজদের পকেটে টাকা তুলে দেওয়া সমান অর্থবোধক। স্বাস্থ্যমন্ত্রণালয় এই অকাজে আরো পারদর্শি। আমরা ভেবে পাচ্ছি না, এই থোক বরাদ্দ কি তিনি দুর্নীতিবাজদের উপহার হিসেবে দিলেন?

তিনি বলেন, এই ২৯হাজার ২৪৭ কোটি টাকার মধ্যে বিশ্বব্যাংক ও এডিবির দু‘টি প্রকল্পের ২হাজার ৪৯৩ কোটি টাকা রয়েছে। এগুলো বাদদিলে গত অর্থ বছরের তুলনায় এবার স্বাস্থ্য খাতে মাত্র ১ হাজার ২২ কোটি টাকা বেশি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

Previous post একতরফা সিদ্ধান্ত নিলে পরিণতি খারাপ হবে: ভারতকে কঠোর হুঁশিয়ারি চীনের
Next post তুরস্কে করোনায় আক্রান্ত দেড় লাখের বেশি রোগী সুস্থ