বাদলের মৃত্যুতে শোকাহত আমি, অসাম্প্রদায়িক চেতনায় বিশ্বাসী ছিলেন সে : প্রধানমন্ত্রী

November 8, 2019 । নিজস্ব প্রতিনিধি



বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের কার্যকরী সভাপতি মঈন উদ্দীন খান বাদলের মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতীয় সংসদে আনা শোক প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে শোক প্রকাশ করেন। এসময় তিনি বাদলের জীবন নিয়ে অতীতের বিভিন্ন স্মৃতিচারণ করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাদল ছাত্র রাজনীতিতে সক্রিয় অংশগ্রহণ করে মহান মুক্তিযুদ্ধে বেশ অবদান রেখেছে। তিনি সবসময় অসাম্প্রদায়িক চেতনায় বিশ্বাসী ছিলেন, শান্তিতে বিশ্বাসী ছিলেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি বলেন, আমরা চলার পথে অনেক আপনজন হারিয়েছি। অবশ্য সবাইকে একদিন চলে যেতে হবে, আমাদের যেমন জন্ম তেমনি মৃত্যুর পথ বেছে নিতে হয়। এটাই সত্য কিন্তু এই সত্য মেনে নেয়া কঠিন, তবে আমাদের মানতেই হয়।

বৃহস্পতিবার (৭ নভেম্বর) জাতীয় সংসদে আনা শোক প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, মঈন উদ্দীন খান বাদল কথা বলতেন এলাকার উন্নয়নের জন্য। সব সময় তিনি সক্রিয় ছিলেন। তার মৃত্যুতে এলাকাবাসীর ক্ষতি হয়েছে। সাথে সাথে রাজনীতির অঙ্গনে আমরা যারা স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন করেছি, আমরা যারা গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করেছি, এমনকি সেই আইয়ুববিরোধী আন্দোলন নিয়ে ছয় দফা আন্দোলন, উত্তরা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহার আন্দোলন- প্রতিটি ক্ষেত্রেই তার সক্রিয় ভূমিকা ছিল।

তিনি বলেন, ছাত্রজীবন থেকেই তিনি ছাত্রলীগের একজন কর্মী ছিলেন। স্বাধীনতার পর তিনি জাসদে যোগ দেন। আমরা যখন জোট গঠন করি তখন আমাদের সঙ্গে তিনি সক্রিয় ছিলেন। আন্দোলন, সংগ্রামে, রাজপথে এবং এই সংসদে তার সঙ্গে একসাথে কাজ করার সুযোগ হয়েছে। রাজনৈতিক চিন্তা চেতনায় তিনি যথেষ্ট শক্তিশালী ভূমিকা রেখেছেন। তার মৃত্যু আজকে আমাদের রাজনৈতিক অঙ্গনে বিরাট শূন্যতার সৃষ্টি করেছে।

মঈন উদ্দীন খান বাদলের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে তিনি বলেন, তার লাশ নিয়ে আসার জন্য ইতোমধ্যে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। আমাদের হাইকমিশনার থেকে একজন কর্মকর্তা সেখানে পাঠিয়েছি।