জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের নেতৃবৃন্দ বলেছেন, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ এ দেশে বাম-রামের রাজত্ব প্রতিষ্ঠিত হতে দিবে না। জমিয়ত ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে ইসলাম প্রতিষ্ঠা ও মানুষের মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠার দল। নেতৃবৃন্দ বলেন, মসজিদের শহর ঢাকাকে কোন ভাবেই মুর্তির শহরে পরিণত হতে দেওয়া হবে না। এ দেশের পাঠ্যসূচী হবে মুসলমানিত্ব অক্ষুন্ন রেখে। নাস্তিক্যবাদ ও হিন্দুত্ববাদের পাঠ্যসূচী প্রণয়নে আর এক কদম অগ্রসর হলে ভাল হবে না। জমিয়ত উলামায়ে ইসলাম এসব চক্রান্ত কঠোরভাবে প্রতিহত করবে।

গতকাল দুপুরে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনিস্টিটিউট মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম ঢাকা মহানগরের সদস্য সম্মেলনে জমিয়ত কেন্দ্রীয় ও মহানগর নেতৃবৃন্দ এ সব কথা বলেন।

ঢাকা মহানগর জমিয়তের সভাপতি ও কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দীর সভাপতিত্বে এবং মহানগর জমিয়তের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা মতিউর রহমান গাজীপুরী ও মুফতী বশীরুল হাসান খাদিমানীর পরিচালনায় সম্মেলনে উদ্ভবনী বক্তব্যে জামিয়তের নির্বাহী সভাপতি মুফতী মুহাম্মাদ ওয়াক্কাস বলেছেন, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম ওলামায়ে কেরামের নেতৃত্বে সকল পর্যায়ের মুসলমানদের দল। বৃটিশের গোলামী থেকে পাক ভারত স্বাধীন করার ক্ষেত্রে রাজনীতির ময়দানে অগ্রনী ভূমিকা রেখেছে। বাংলাদেশের মুক্তিসংগ্রামে জমিয়তের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। নাস্তিক-মুরতাদরা ওলামায়ে কেরামকে ঢালাওভাবে স্বাধীনতাবিরোধী বলে ঘোলা পানিতে মাছ স্বীকার করতে চায়। কিন্তু জমিয়ত তা করতে দিবে না। জমিয়ত পরিচ্ছন্ন রাজনীতি করে।

প্রধান বক্তার বক্তব্যে দলের মহাসচিব আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমী বলেন, জমিয়ত স্বাধীনতা সংগ্রামের পক্ষের শক্তি। জমিয়ত দেশ-বিদেশে ইসলাম প্রতিষ্ঠার শক্তি। আহলে-সুন্নাত ওয়াল জামাতের উপর প্রতিষ্ঠিত থেকে জমিয়ত ধর্মনিরপেক্ষতার বিরুদ্ধে কঠোর ভূমিকা পালন করেছে এবং করবে । তিনি বলেন ঢাকা মহানর জমিয়ত শক্তিশালী হলে সারা দেশে জমিয়ত শক্তিশালী হবে। তিনি বলেন, ইসলামের বিরুদ্ধে যে কোন চক্রান্ত জমিয়ত শক্তভাবে প্রতিহত করবে।

মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী

মাওলানা জহিরুল হক ভুঁইয়া বলেন, জমিয়তে উলামায়ে ইসলামকে রাজনীতির ময়দানে শক্তিশালী হয়ে বাতিল প্রতিরোধে সাহসী ভূমিকা রাখতে হবে।

মাওলানা আব্দুর রব ইউসুফী বলেন, ইসলাম ও দেশের স্বার্থে জমিয়তকে সংগঠিত হয়ে রাজপথে নামতে হবে। তিনি বলেন, এ পর্যন্ত এ দেশে যত গুম, খুন ও অপহরণ হয়েছে তার সবগুলোর বিচার বিভাগীয় তদন্ত হওয়া উচিৎ।

মাওলানা ওবায়দুল্লাহ ফারুক বলেন, মুসলিম দেশ বাংলাদেশে নাস্তিক-মুরতাদ ও ইসলাম বিরোধী উগ্র হিন্দুরা সর্বচ্চো নিরাপত্তা পাচ্ছে। আর অনিরাপত্তাহীনতা অবস্থায় আছে ওলামায়ে কেরাম। এমতাবস্থায় হালুয়া-রুটি খাওয়ার আশায় ঘরে বসে থাকলে এদের প্রতিহত করা যাবে না। এসব ইসলাম বিরোধী শক্তি মোকাবেলায় ওলামায়ে কেরামকে রাজপথে নামতে হবে।

মাওলানা জুনায়েদ আল হাবীব বলেন, প্রশাসনে এমন কিছু কু-চক্রী বসে আছে, যারা প্রধানমন্ত্রী ও সরকারের সাথে ধর্মপ্রান মুসলমানদের দূরত্ব সৃষ্টির চক্রান্ত করে যাচ্ছে। ঢাকাকে মুর্তির নগরে পরিণত করতে তারাই চক্রান্ত করছে।

সভাপতির বক্তব্যে মহানগর সভাপতি মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী বলেন, ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে ইসলাম প্রতিষ্ঠার দল হলব জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম। জমিয়ত এদেশে রাম-বামের রাজত্ব প্রতিষ্ঠিত হতে দিবে না। তিনি পাঠ্যসূচী সংশোধনের জন্য সরকারকে ধন্যবাদ দিয়ে বলেন, সংশোধিত পাঠ্যসূচী নিয়ে আবারো চক্রান্ত হচ্ছে। রাম-বামদের নিয়ে নতুন কমিটি করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী কমিটিতে দু’জন আলেম প্রতিনিধি পর্যন্ত রাখা হয়নি।

তিনি বলেন, পাঠ্যসূচী নিয়ে চক্রান্ত সফল করতে আর এক কদম অগ্রসর হলে ফলাফল ভালো হবে না। এ দেশের পাঠ্যসূচী মুসলমানিত্ব অক্ষুন্ন রেখেই করতে হবে। পছন্দ না হলে সীমান্ত খোলা আছে, চাইলে চলে যেতে পারেন, আমরা স্ব-সম্মানে বিদায় দিবো।

অন্যান্যদের আরো বক্তব্য রাখেন- দলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব সাবেক এমপি এ্যাডভোকেট মাওলানা শাহীনুর পাশা চৌধুরী, মাওলানা তাফাজ্জল হক আজীজ, মাওলানা শেখ মুজীবুর রহমান, প্রচার সম্পাদক মাওলানা জয়নাল আবেদীন, শিল্প বিষয়ক সম্পাদক মোস্তফা মুঈনুদ্দীন খান, ছাত্র জমিয়ত বাংলাদেশের সভাপতি মুফতী নাসীর উদ্দীন খান, কেন্দ্রীয় সদস্য ও মহানগর সহ-সভাপতি মাওলানা আব্দুল কুদ্দুস, মাওলানা সানাউল্লাহ মাহমুদী, মাওলানা আফজাল হোসাইন, মহানগর নেতৃবৃন্দের মধ্যে বক্তব্য রাখেন মাওলানা মুজীবুর রহমান চাঁদপুরী, মাওলানা আব্দুস সালাম, মাওলানা হামেদ জহিরী, মাওলানা মাহবুবুল আলম, মাওলানা নূর মোহাম্মাদ, মাওলানা হেদায়েতুল ইসলাম, মাওলানা ইমরানুল বারী সিরাজী ও ছাত্র নেতা বুরহান উদ্দীনসহ প্রায় ৩০টি থানা শাখার সভাপতি ও সেক্রেটারীগণ।